Alexa বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসলেন ছেলে

ঢাকা, বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৮ ১৪২৬,   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসলেন ছেলে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৭ ৪ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:৪৮ ৪ নভেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

জেএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের জন্য কলম কিনতে গিয়েছিলেন বাবা। কলম কিনে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল চাপায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সেই বাবা। বাড়ি ফিরেছেন বাবা ঠিকই কিন্তু লাশ হয়ে।

বাবার মৃত্যুর সংবাদে ছেলে গুরুতর অসুস্থ পড়লে পরীক্ষা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাড়িতে বাবার লাশ রেখে কিছুতে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে চাইছিলেন না ছেলে।

এমন সংবাদে বাবার শোকে কাতর সেই ছেলের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাকে সারিয়ে তোলেন। পরে মেডিকেলের কেবিনেই তার পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

সোমবার সকালে মর্মস্পর্শী এই ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ফতেহপুর ইউপির দক্ষিণ পাড়া এলাকায়।

মোটরসাইকেল চাপায় নিহত সেই বাবার নাম মো. ইসলাম মিয়া। তিনি ওই এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে।

হতভাগ্য জেএসসি পরীক্ষার্থীর নাম নাফিজ। সে আড়াইহাজার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সোমবার তার পরীক্ষার দেয়ার ব্যবস্থা করেন আড়াইহাজারের ইউএনও সোহাগ হোসেন। এদিন তার ইংরেজি পরীক্ষা ছিল।

সোমবার সকাল ৮টার দিকে নাফিজ তার বাবা ইসলাম মিয়াকে বলে দোকান থেকে কলম কিনে আনার জন্য। ছেলের জন্য বাবা কলম কিনে বাসায় ফেরার পথে বাড়ির সামনের রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই বাবা মারা যান।

বাবার মৃত্যুর সংবাদে নাফিজ কান্নাকাটি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। খবর পেয়ে নাফিজদের বাসায় ছুটে যান আড়াহাইহাজারের ইউএনও সোহাগ হোসেন। তখন তিনি নাফিজকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং হাসপাতালের কেবিনে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। পরে তিনি নাফিজকে হাসপাতালে ভর্তি করে এক ঘণ্টা চিকিৎসা করিয়ে একটু সুস্থ করে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। আর হাসপাতালের কেবিনের ভাড়া ফ্রি করার ব্যবস্থা করেন স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিব ইসমাইল ভূইয়া।

ইউএনও সোহাগ হোসেন বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত জেএসসি পরীক্ষার্থী নাফিজের বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে অসুস্থ নাফিজকে হাসপাতালে ভর্তি করে সেখানে তাকে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে একজন শিক্ষক ও পুলিশ গার্ড দিয়েছে তাকে।

তিনি আরো বলেন, নাফিজ তার বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়ে গেছে। তার লেখাপড়ার সব কিছু ফ্রি করে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে। নাফিজের বাবাকে যে মোটরসাইকেল চাপা দিয়েছে সেই মোটরসাইকেল চালক রাসেলকে আটক করা হয়েছে।

ইউএনও সোহাগ হোসেন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাইল ভুইয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ