Alexa বাবার জায়গা নেই ছেলের পাকা ঘরে

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

বাবার জায়গা নেই ছেলের পাকা ঘরে

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৩৪ ২৩ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৭:৫২ ২৩ আগস্ট ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাবা-ছেলের সম্পর্ক বড়ই মধুর। সন্তানদের সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গা বাবাই। বাবা হলেন সংসার জগতের একমাত্র অধিনায়ক। তিনিই জীবনের সব বাধা অতিক্রম করে সন্তানদের বড় করে তুলেন। আর সেই বাবাকে যদি সন্তান আস্তাকুড়ে ফেলে রাখে, এর চেয়ে বড় নির্মমতা আর কি হতে পারে।

এমন নির্মমতার ঘটনা ঘটেছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার মধ্যপুর গ্রামে। বৃদ্ধ বাবা নারায়ণ ভদ্র (৬৫) ছেলের ঘরে জায়গা না পেয়ে শরীরে ছেঁড়া কাপড় জড়িয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন।

ছেলে শংকর ভদ্র একজন কাঠ ব্যবসায়ী। স্ত্রী মিতা ভদ্রকে নিয়ে থাকেন পাকা ঘরে। অথচ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ বাবাকে ফেলে রেখেছেন বাইরের একটি মাচার ওপর। এমনই এক মানবেতর জীবন নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি।

সরেজমিনে মিস্ত্রি পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধ নারায়ণ ভদ্র ভাঙা একটি খাটের ওপর প্রায় বস্ত্রহীন অবস্থায় পড়ে আছেন। বিছানার আশপাশ দুর্গন্ধ ও কাদামাটিযুক্ত। বিছানায় নেই কোনো চাদর, ভাঙা কাঠের খাটে শুয়ে আছেন। উপরে একটি মাত্র টিনের চাল। তিন পাশ খোলা।

বৃদ্ধের ছেলেন বৌ মিতা ভদ্র বলেন, শ্বশুর দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ। শ্বশুরের মস্তিস্কে সমস্যা দেখা দেয়ার পর থেকে সার্বক্ষণিক ওষুধ ও দেখভাল করেন তিনি। কত দিন ধরে ঘরের বাইরে রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ২০ দিন হয় বাবাকে ঘরের বাইরে রাখা হয়েছে। এর আগে বাড়ির মধ্যেই থাকতেন তিনি। খাট ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বাইরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। তাছাড়া ওনাকে ঘরের মধ্যে রাখা যায় না, মাথায় সমস্যার কারণে সবকিছু ওলট-পালট করেন।

চিকিৎসার বিষয় জানতে চাইলে বলেন, স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসককে দেখানো হয়। সরকারি হাসপাতালে এমবিবিএস ডাক্তার থাকতে পল্লী চিকিৎসক দেখানোর বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, মাথায় সমস্যা ঠিকমত কাপড় পরেন না। কোন ভাবেই ডাক্তারের কাছে নেওয়া যায় না।

মুঠোফোনে কথা হয় বৃদ্ধ নারায়ণ ভদ্রের ছেলে শংকর ভদ্রের সঙ্গে, তিনি আশ্বাস দেন এখন থেকে বাবার প্রতি যত্নবান হবেন ।

প্রতিবেশীরা জানায়, প্রায় ১ মাস হয় এভাবে ঘরের বাইরে ফেলে রাখা হয়েছে বৃদ্ধ মানুষটিকে। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে একটি মাত্র টিনের নিচে পড়ে থাকেন তিনি। বর্তমানে কাউকে মনে রাখতে পারেন না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ