প্রাচীন বর্বর যুগের কাহিনী নয়। সোমবার সকালে এমনই এক দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে আছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলাবাসী। হত্যাকারীরা শিশুটির মরদেহ এভাবেই রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে বাড়ির সামনে।
এ ঘটনার পর থেকে এলাকার শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মা মনিরা বেগম, কৃষক বাবা আব্দুল বাছিরের আর্তনাদ আর আহাজারিতে যেন ভারি হয়ে গেছে দিরাইয়ের বাতাস। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
.png)
স্থানীয়রা জানায়, জমিজমা নিয়ে গ্রামের কিছু মানুষের সঙ্গে তুহিনের বাবার বিরোধ রয়েছে। এ কারণেই তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দাবি একটাই এমন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া হোক।
স্থানীয়রা আরো জানায়, নিহত তুহিনের বয়স পাঁচ বছর। তাকে এ বছরই স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। আব্দুল বাছিরের তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে তুহিন ছিল দ্বিতীয়। রোববার রাতে তারা খাওয়া-দাওয়া শেষে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
মধ্য রাতে ঘরের দরজা খোলা দেখে বাছিরকে ডেকে তুলেন তার এক ভাতিজি। জেগে উঠে দেখেন তুহিন পাশে নেই। এরপর সবাইকে ডাকাডাকি করে তুহিনকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের গিয়ে রক্ত দেখে সামনে এগিয়ে কদমগাছে তুহিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
দিরাই থানার ওসি কে এম নজরুল ইসলাম জানান, কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তিনি আরো জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।