ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৮ ১৪২৫,   ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০

বাবার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলেকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৭:০৩ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৫৯ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নিহত সিয়ামের বাবা মোফাজ্জল হোসেন ইটের ট্রলির মালিক ও মিঠু শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মালিকের বাসাতেই থাকতেন তিনি। কাজে যোগ দেয়ার কয়েকদিন পর মিঠুর সঙ্গে হৃদয় নামে অপর এক শ্রমিকের ঝগড়া হয়। মালিক হিসেবে মোফাজ্জল হোসেন মিঠুকে চর-থাপ্পর ও গালমন্দ করে ঘটনার মিমাংসা করে দেন।

কিন্তু এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মিঠু। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জমে থাকা ক্ষোভে মালিকের চর-থাপ্পরের প্রতিশোধ নিতে তার শিশু সন্তান সিয়ামকে (৬) নদীতে ফেলে হত্যা করেন মিঠু। ৬ ডিসেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গন্ধবপুর থেকে মিঠুকে আটক করে র‌্যাব-১। সিয়াম বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।  

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর ক্রাইম প্রিভেশন কোম্পানী-৩ এর কমান্ডার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন। 

তিনি বলেন, ৪ মাস আগে আটক মিঠু সিয়ামের বাবার ইটের ট্রলির শ্রমিক হিসেবে কাজ নেন। তিনি সিয়ামদের বাসায়ই থাকতেন। কাজে যোগ দেয়ার ১৫ থেকে ১৬ দিন পরে অপর এক শ্রমিক হৃদয়ের সঙ্গে মিঠুর ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় মোফাজল হোসেন মিঠকে চর-থাপ্পর ও গালমন্দ করে মিমাংসা করে দেন। 

কিন্তু মিঠু এ বিচার মেনে নিতে পারেননি। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মালিকের ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিয়ামকে নিয়ে মিঠু রূপগঞ্জের কাঞ্চনব্রিজে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার সময় কথা বলার ফাকে ব্রিজের রেলিংয়ে বসা সিয়ামকে ধাক্কা দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেন মিঠু। এ ঘটনার পর মিঠু পালিয়ে গন্ধবপুরে নিজ বাড়িতে চলে যান।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, সিয়াম নিখোঁজের ঘটনা জানাজানি হলে মিঠু ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে মিঠু স্বীকার করেছে, মোফাজ্জল হোসেনের উপর সেদিনের চর-থাপ্পরের প্রতিশোধ নিতেই শিশু সিয়ামকে তিনি নদীতে ফেলে হত্যা করেছেন। তবে সিয়ামের মৃতদেহ আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত সিয়ামের মা ফারজানা হোসেন বলেন, মিঠু আমার সন্তানকে নিয়ে বের হওয়ার পর সন্ধ্যা হয়ে গেলেও তারা ফেরেনি। রাত অনেক হয় কিন্তু সিয়াম আর আসে না। একসময় আমি ও সিয়ামের বাবা তাকে খুঁজতে বের হই। অনেক খোঁজাখুজি করেও সিয়ামকে কোথাও পাইনি। এর কয়েকদিন পর মিঠু ফোন করে বলে, তোর ছেলেকে নদীতে ফেলে দিয়েছি।’ পরে ১৭ সেপ্টেম্বর আমরা থানায় গিয়ে অপহরণের অভিযোগ করি। 

ভুক্তভোগী মা আক্ষেপ করে বলেন, যাকে খায়েছি, থাকতে দিয়েছি, সেই আমার নিষ্পাপ আদরের শিশু সন্তানকে এভাবে হত্যা করলো! আমি এর বিচার চাই। 

প্রসঙ্গত, গত ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বিরাব খালপাড়ের মো. মোফাজ্জল হোসেনের ৬ বছরের শিশু সন্তান সিয়াম নিখোঁজ হয়। এদিকে সিয়ামের বাবা মোফাজ্জলের শ্রমিক মিঠু ওইদিন পালিয়ে যায়। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর সিয়ামের মা ফারজানা বাদী হয়ে পলাতক শ্রমিক মিঠু ও তার বাবা আনোয়ারসহ অজ্ঞাত ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপহরণের মামলা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/এমআরকে