বাবার অনুপ্রেরণায় ‘সর্বোচ্চ সিজিপিএ’, পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=159215 LIMIT 1

ঢাকা, রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৫ ১৪২৭,   ০১ সফর ১৪৪২

Beximco LPG Gas

বাবার অনুপ্রেরণায় ‘সর্বোচ্চ সিজিপিএ’, পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক

খোরশেদ আলম, কুবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৫ ২৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১২:৫৬ ২৬ জানুয়ারি ২০২০

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ধীমান বসু ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম হয়েছেন। কিন্তু এসএসিতে প্রত্যাশিত ফল হয়নি। জিপিএ ৪.১৯ পেয়েছিলেন। তবে হাল ছাড়েননি। কঠোর পরিশ্রমে এইচএসসিতে জিপিএ ৫.০০ পেয়েছেন। 

ঝিনাইদহের ছেলে ধীমান বসু। সদর উপজেলার দক্ষিণ শিকারপুর গ্রামে তার বাড়ি। মা শিখা রাণী বসু, বাবা অসীম বসু। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট।

ধীমানের শৈশবে বেড়ে ওঠা নিজ জেলায়। মায়ের চাকরির জন্য থাকা হয় সাতপোতা গ্রামে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ালেখা এখানেই। সাতপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে ভর্তি হন মুনুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করেন মাহাতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে।

২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে শুরু হয় সবুজে-ঘেরা লাল পাহাড়ের ক্যাম্পাস যাত্রা। ভর্তি হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। শিক্ষক, বড় ভাই-বোনদের অনুপ্রেরণায় প্রথম থেকেই মেধার স্বাক্ষর রাখেন বসু। চলতে থাকে লক্ষ্য অর্জনে আপ্রাণ চেষ্টা।

পড়ালেখা করতে পরিবারের সদস্যরা বেশ সহযোগিতা করেছেন। শুনি ধীমানের মুখেই, পরিবারের সবাই আমার পড়ালেখায় সহযোগিতা করেছেন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বাবা-মা পড়ালেখার খরচ দিয়েছেন। চাকরি পাওয়ার পর বড়ভাই খরচ দিয়েছেন। 

কথাগুলো বলতে-বলতে থেমে যায় ধীমান। ধরা কণ্ঠে তিনি বলেন, বাবা বেঁচে নেই। স্নাতক ৭ম সেমিস্টারে পড়া অবস্থায় বাবা মারা যান। তখন পড়াশোনায় তেমন মনোযোগ দিতে পারিনি। এর প্রভাবে আমার ফলাফলও অনেকটা কমে আসে।

পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, লেখাপড়া করতে গিয়ে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হইনি। বাবার মৃত্যুতে হোঁচট খেয়েছিলাম। পরিবারের সবাই আমার সব প্রয়োজন মিটিয়েছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

বাবা বেঁচে না থাকলেও ধীমানের অনুপ্রেরণার কৃতিত্ব বাবারই। তিনি বলেন, জীবনে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে বাবা। আর স্বর্ণপদক পেতে বিভাগের স্বর্ণপদক পাওয়া বড় ভাই-বোনদের অনুপ্রেরণা অসাধারণ ছিল। স্বর্ণপদক পাওয়া সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণাই ছিল না। বড় ভাইয়া-আপুরদের দেখেই এক্ষেত্রে বেশি আগ্রহ জন্মায়।

স্বর্ণপদক অর্জনের অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আমার শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এটা আমার কাছে যেমন আনন্দের, তেমনই গৌরবের।

জীবনে কী পেশায় কর্মজীবন শুরু করতে চান, এমন প্রশ্নে ধীমান জানান, একজন শিক্ষক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাই। আমার অর্জিত জ্ঞান দেশের কাজে লাগুক চাই, এটাই লক্ষ্য।

অনুজদের উপদেশ দিতে ভুলেননি ধীমান। তিনি বলেন, প্রথমত লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। যে বিষয় নিয়ে পড়ালেখার ইচ্ছা, সেটা পড়ার প্রতি নিজের আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। অধিকাংশ বিষয় মুখস্থ না করে সময় নিয়ে বুঝে পড়তে হবে। নিয়মিত ক্লাসে মনোযোগ দিতে হবে। কঠিন বিষয়গুলো নোট করে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিনই সম্পূর্ণ করে ফেলা।

দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধীমান বলেন, সরকার একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিবছর অনেক টাকা ব্যয় করে। এগুলো দেশের সাধারণ মানুষের টাকা। আমার পেছনেও সরকার অনেক টাকা ব্যয় করেছে। তাই সব শিক্ষার্থী দেশের কল্যাণে নিযুক্ত হবে। আমি নিজেও আমার প্রাপ্ত জ্ঞান দিয়ে যেন দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম