Alexa বান্দরবানের ‘দার্জিলিং’ ও সাঙ্গু নদীতে একদিন

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১১ ১৪২৬,   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

বান্দরবানের ‘দার্জিলিং’ ও সাঙ্গু নদীতে একদিন

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৫ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯  

দার্জিলিং পাড়া

দার্জিলিং পাড়া

বান্দরবান, স্রষ্টা এই জেলাতে উজাড় করে ঢেলেছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পাহাড়, নদী ও বন—কোনোটিরই অভাব নেই। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের বুকে জেগে আছে গাছ-গাছালি ও বিশাল এক প্রাণীজগৎ। এখানকার পথে-ঘাটে ছড়িয়ে আছে ভিন্ন ভিন্ন জীবনকথা। কয়েকদিন আগেই ঘুরে এলাম বান্দরবানের দার্জিলিং পাড়া থেকে। তবে গল্পের শুরুটা হয়েছিল একটা নদী নিয়ে।

বান্দরবান শহর থেকে কিছুটা ভেতরে যেতেই দেখা পেলাম সুন্দর একটি নদীর। পাহাড়, সবুজ আর বিশাল আকাশে ভেসে থাকা শুভ্র মেঘের সৌন্দর্যের ভিড়েও এই নদীটির রূপ উপেক্ষা করার কোনো উপায় ছিল না। সবুজ জল বুকে ধারণ করা নদীটির পাশ ঘেঁষা পাহাড় ও সবুজের চাদর সৌন্দর্য ঢাকেনি নদীটির, বরং আরো বাড়িয়েছে। পাহাড়ি পথে চলতে চলতে অদ্ভুত এক প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছিলাম সবুজ জলের এই নদীটির দেখা পেয়ে। অসাধারণ সৌন্দর্যের এই নদীর নাম সাঙ্গু।

নদীটির আরেক নাম ‘শঙ্খ’; এর অপার রূপ দেখে মুগ্ধ হবেন না এমন মানুষ পাওয়া ভার। অপূর্ব এই নদীর দুইদিকে পাহাড়ের সারি। বর্ষায় পাহাড় বেয়ে নামে ছোট-বড় অসংখ্য ছড়া। ছল ছল শব্দে ছড়ার চঞ্চল জল এসে মেশে নদীতে। পাহাড়ের ওপরে ভেসে বেড়ায় মেঘ। মনে হয়, ওই চূড়ায় উঠলেই বুঝি ছোঁয়া যাবে! বান্দরবানে গিয়ে এমনটা মনে হওয়াটা মোটে বেশি নয়। সাঙ্গুর তীরবর্তী পাহাড়ের চূড়ায় সত্যিই জমে থাকে মেঘ। গাছের ফাঁকে আটকে যায়। সেখানেই ঝরে যায় বৃষ্টি হয়ে।

সাঙ্গু নদী

পাহাড়ের কোল বেয়ে এঁকে-বেঁকে চলছে কোথাও উন্মত্ত আবার কোথাও বা শান্ত এই নদী। দুই তীরের পাহাড়, বন, নদী ও ঝরনার সৌন্দর্যে আপনি বিমোহিত হবেন। এক কথায় এই নদীটির সৌন্দর্যে আপনি শুধু অবাকই হবেন না বরং মুগ্ধতা আপনাকে গ্রাস করবে। এই সৌন্দর্য সত্যিই ভুবন ভোলানো। শীতকালে এই নদীটিতে তেমন স্রোত না থাকলেও বর্ষাকালে এখানে প্রবল স্রোত থাকে।

বান্দরবান থেকে কেওক্রাডংয় যাত্রায় আপনি চাইলে সাঙ্গু নদী, চিংড়ি ঝরনাসহ আরো কিছু প্রাকৃতিক মুগ্ধতার সঙ্গে যোগ করতে পারেন দারুণ একটি গ্রামের সৌন্দর্যও। নাম- দার্জিলিং পাড়া। এই গ্রামটি অনেকের কাছে বাংলাদেশের দার্জিলিং। অনেকেই শুনে থাকবেন এই গ্রামের নামটি, সঙ্গে এর মন ভোলানো সৌন্দর্যের কথাও। কেওক্রাডং পাহাড়ে যাওয়ার পথে রয়েছে এই গ্রামটি। পাহাড়ের চূড়ার অনেকটা কাছাকাছি পৌঁছালেই দেখা মিলবে ছোট্ট এই গ্রামের। পুরো পথের তুলনায় জায়গাটি ব্যতিক্রম। দূর থেকেই দৃষ্টি কাড়ে এখানকার রঙিন বাড়িগুলো। তাছাড়া এখানে দেখা পাবেন জানা, অজানা অনেক রঙিন ফুলের।

পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত ছোট্ট গ্রামটি যেন প্রাকতিক সৌন্দর্যে আঁধার। সবুজের সমারোহে সাজানো চারপাশ। কিছুটা দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন হাত বাড়ালেই মেঘ ছোঁয়া যাবে। তবে মেঘেরা এখানে বাড়িগুলোর চেয়েও অনেকটা নিচে থাকে। ভোরে পাহাড়ের মাঝখানে ঝুলে থাকা মেঘের দৃশ্য দেখতে বেশ লাগবে। এছাড়া দূর পাহাড়ের কোলঘেঁষে সূর্যটা যখন আলো ফেলে এই গ্রামে সেই দৃশ্যটিও আপনাকে মুগ্ধতায় ঘিরে ফেলবে। আমরা যখন পাহাড়ের বুকে বেশ পথ হেঁটে এই গ্রামে পৌঁছেছিলাম তখন দুপুর হয়ে গিয়েছিল। মাথার ওপর ঝলমলে রোদে এই গ্রামটি তখন শান্তির উৎস হয়ে উঠেছিল আমাদের কাছে।

মুগ্ধকর পাহাড়

সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়, এটি বেশ পরিচ্ছন্ন ও গোছানো একটি গ্রাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আরো বেশি মুগ্ধ হতে হয় এখানকার মানুষের ব্যবহার ও আচরণে। গ্রামটিতে বাস করা মানুষের সংখ্যা বেশ কম। ৩০টির মতো পরিবার বসবাস করে এখানে। এদের অধিকাংশই বম জাতি। আমাদের চেয়ে তাদের জীবনযাপন যেমন ভিন্ন, তেমনি ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য ভাষার বেলাতেও।

দার্জিলিং পাড়া থেকে ফেরার পথে আবারো চোখে পড়লো সাঙ্গু বা শঙ্খ নদী। অপরূপ এই নদীর জলে আপনি স্বল্প খরচে দারুণ নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। এই নদীর উদার সৌন্দর্য যেমন আপনাকে মুগ্ধ করবে তেমনি মনে এনে দেবে অনাবিল প্রশান্তি। অপূর্ব জলের বুকে ভেসে বেড়াতে বেড়াতে আপনি হারিয়ে যাবেন সৌন্দর্যের জগতে। নদীর দুপাশের পাহাড়ি সৌন্দর্য আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করবেই। সাঙ্গু নদীতে নৌকা ভ্রমণের পাশাপাশি নদীর আশেপাশে পিকনিকের সুব্যবস্থা আছে। তাই চাইলে সদলবলে পিকনিকের আনন্দেও মেতে উঠতে পারবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে