Alexa বাতিল হচ্ছে আসামের নাগরিকপঞ্জি

ঢাকা, বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৬ ১৪২৬,   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

বাতিল হচ্ছে আসামের নাগরিকপঞ্জি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৭ ২২ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত নাগরিক পঞ্জিকা (এনআরসি) বাতিল হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এটি বাতিল করে আসাম সহ পুরো ভারত জুড়ে এই জাতীয় নাগরিক তালিকা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

বুধবার দেশটির রাজ্যসভায় তিনি বলেন, সমগ্র দেশের সঙ্গে আসামেও নতুন করে এনআরসি হবে।

অমিত শাহ’র এ বক্তব্যে গত ছয় বছরের পরিশ্রম ও ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি ব্যায়ে তৈরি করা রাজ্যটির জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) বাতিল হতে বসেছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

এদিকে অমিত শাহ’র সূত্র ধরে আসামের অথর্মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মাও বলেছেন, রাজ্যে হওয়া এনআরসি পুরোপুরি বাতিল করে সারা দেশের সঙ্গে আসামেও নতুন করে এনআরসি হোক।

চলতি বছর দেশটির সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত আসামের চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জিতে দেশটির ১৯ লাখ বাসিন্দা বাদ পড়েছিলেন। তবে মূলত অনুপ্রবেশ করা মুসলিম বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করতে তৈরি করা এই নাগরিক পঞ্জিতে বাদ পড়াদের অন্তত ১৩-১৪ লাখই হিন্দু হওয়ায় এনিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের শুরু হয়। ওই এনআরসি সঠিক নয় বলেও দাবি ওঠে।

বুধবার রাজ্যসভায় দেয়া বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, ‘আসামে যা হয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হয়েছিল। নাগরিকপঞ্জি সারা দেশে হবে, সেসময় আসামেও হবে। কোনো ধর্মের কারোরই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, আসামে ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অব সিটিজেনস (এনআরসি) বা নাগরিকপঞ্জি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। আসাম চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চকে নাগরিকপঞ্জি তৈরির ভিত্তিবর্ষ ধরা হয়েছিল। ভবিষ্যতে দেশের সব রাজ্যে যখন এনআরসি'র কাজ শুরু হবে তখন অতীতের একটি নির্দিষ্ট দিনকে ধরে তার ভিত্তিতে তালিকা হবে। কোন বছরের কোন তারিখের ভিত্তিতে ওই কাজ শুরু হবে তা এখনও নির্ধারন করা হয়নি।

একাধিক ভিত্তিবর্ষ ধরে নাগরিকপঞ্জি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই জানিয়ে আসামের এখনকার নাগরিকপঞ্জি বাতিলেই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান, জানিয়েছে আনন্দবাজার।

বিরোধিরা বলছে, বাদ পড়াদের তালিকায় ১৩ থেকে ১৪ লাখ হিন্দু থাকায়, ভোট ব্যাংকে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় বিজেপি এখন তালিকা বাতিলের পক্ষে হাঁটতে চাচ্ছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে নাগরিকপঞ্জি নিয়ে মামলার বাদি আসাম পাবলিক ওয়ার্কস। নাগরিকপঞ্জির সব তথ্য ফের যাচাইয়ের দাবি ছিল তাদের। এ মামলার পরের শুনানি ২৬ নভেম্বর।

সংগঠনটির সভাপতি অভিজিৎ শর্মার দাবি, এখন ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি খরচের সম্পূর্ণ অডিটও হোক।

এদিকে কংগ্রেস মুখপাত্র অভিজিৎ মজুমদারের মতে, নোট বাতিল, জিএসটির পরে এনআরসি বাতিল বিজেপির জন্য বড় ব্যর্থতা। ১৬শ কোটি টাকা খরচ হল, কোটি কোটি মানুষকে হয়রানি করা হলো, কতো মানুষ আত্মঘাতী হলেন এই ক্ষতিপূরণ কে দেবে? এনআরসি বাতিল অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা। 

বহ্মপুত্র উপত্যকা নাগরিক সমাজের উপদেষ্টা হাফিজ রশিদ চৌধুরীর মতে, রাজনৈতিক দলের একাংশ চেয়েছিল বেশি করে মুসলিমের নাম বাদ পড়ুক। উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়াতেই হয়তো এনআরসি বাতিল করার কথা বলা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী