Alexa বাজেটে বরাবরই সাংস্কৃতিক মাধ্যম অবহেলিত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৬ ১৪২৬,   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

বাজেটে বরাবরই সাংস্কৃতিক মাধ্যম অবহেলিত

 প্রকাশিত: ১৩:১১ ২ জুন ২০১৭  

সংস্কৃতি একটি দেশের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি চর্চায় সরকার কতটা সহায়ক? যদিও বর্তমান মহাজোট সরকার অন্যান্য সরকারের তুলনায় যথেষ্ট উন্নতি করেছে। বাজেটও ক্রমশও বাড়াচ্ছে। তবুও সে বাজেট সংস্কৃতিতে কতটা পৃষ্টপোষকতা করতে পেরেছে অন্যান্য খাতের তুলনায়? অথচ বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে বরাবরই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে এ দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন। সেই ১৯৫২ থেকে স্বাধীনতা অর্জনসহ তৎপরবর্তী আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে সাংস্কৃতিক আন্দোলন। এতটা জোরালো ভূমিকা রাখলেও সংস্কৃতি খাতে বরাবরই যা বাজেট দেওয়া হয়েছে তা এই খাতটির তুলনায় অপ্রতুল। এবারও হলো না তার ব্যতিক্রম। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এতে তিনি সংস্কৃতি খাতে বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করেন মূল বাজেটের ০.৯ শতাংশ। বরাদ্দের পরিমাণ যা হিসেব করলেও দাঁড়ায় ৪১৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রস্তাব ছিল ৪২১ কোটি টাকার। তবে পাশকৃত বাজেটে তা ছিল ৩৬৬ কোটি টাকা৷ সে হিসেবে প্রস্তাবিত বাজেটে আগেরবারের চেয়ে এবার ৫১ কোটি টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। তবে পাশকৃত বাজেটে এই টাকার পরিমাণও কমবে বলেই ধারনা করা হচ্ছে! অথচ প্রস্তাবিত বাজেটেই নাখোশ শিল্প সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষ। তারা বলছেন, দেশে যে আজ ভয়াবহ জঙ্গির উত্থান সেটা থেকে কেবল মুক্তি সম্ভব উন্নত সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই। অথচ এই খাতটি সব সময়ই থেকেছে উপেক্ষিত। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। যার মাত্র ০.৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিনোদন, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় খাতে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘দেশজ সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিকাশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সমকালীন শিল্প-সাহিত্যের গবেষণা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করছে। সংস্কৃতি ও শিল্প চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাসহ সকল বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এ ধারা আমরা আগামীতেও অব্যাহত রাখব।’ কিন্তু অর্থমন্ত্রীর কথা কতটা বাস্তবিক? সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এই বাজেট কি যথেষ্ট? সংস্কৃতি মাধ্যমের বিশিষ্টজনরা এই বাজেটে যথেষ্ট খুশি হতে পারেননি। তারা মনে করেন সরকারের এ মাধ্যমে আরো নজর দেয়া উচিত। অভিনেতা নির্দেশক গাজী রাকায়েত মনে করেন, “এই যে জঙ্গিবাদের উথান। এর অন্যতম প্রধান কারন আমরা সংস্কৃতিতে এখনও অনেক পিছিয়ে আছি। সরকার জঙ্গিবাদ নির্মূলের জন্য যে হারে ব্যবস্থা করে তার থেকে যদি সংস্কৃতিতে কিছুটা ব্যায় করতো তাহলে বাংলাদেশকে আজ এই অস্থিরতার মধ্যে পরতে হত না। আমাদের নাটক সিনেমায় উন্নতি হচ্ছে না। বাজেটের অভাবে ভালো সিনেমা হচ্ছে না। সিনেমা অডিটোরিয়াম হচ্ছে না। প্রতি বছর সিনেমার জন্য যে বাজেট দেয় তা  প্রয়োজনের চেয়ে যথেষ্ট কম। মঞ্চ নাটক পৃষ্টপোষকতার অভাবে ধ্বংসের পথে। ভালো অভিনয় শিল্পী পাচ্ছি না আমরা। সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী হচ্ছে না যুব সমাজ। এসবের মূল কারন সংস্কৃতিতে পিছিয়ে পড়া। তার জন্য চাই সঠিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন। শুধু বাজেট দিলেও তো হবে না। এর যথার্থ ব্যাবহারেরও একটা বিষয় আছে।” বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন কুমার ঘোষ বলেন, “বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সবসময় সংস্কৃতির দিকে সুনজর রয়েছে। বরাবরই তা আমরা দেখে আসছি। এবার বাজেটের আকার বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রত্যাশা ছিল সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বাড়বে। কেন বরাদ্দ বাড়েনি সেটা আমার জানা নেই। সংস্কৃতি খাতে আমরা আরও বরাদ্দ চাই।” এফডিসির শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বাজেট নিয়ে বলেন ,“প্রস্তাবিত বাজেটে সংস্কৃতি খাতে কম বরাদ্দ অপ্রত্যাশিত। সরকার যেখানে সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে জঙ্গিবাদ ও উগ্রতা থেকে মুক্ত করার কথা বলে, সেখানে সংস্কৃতি খাতের এই বরাদ্দ আমাদের খুব হতাশ করেছে। এটি সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বেমানান বাজেট। সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অবকাঠামো নির্মাণে বাজেটে বরাদ্দ নেই। সংস্কৃতি খাতের বরাদ্দ কমানো সংস্কৃতি কর্মীদের ওপর অবিচার।” ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আবুল হায়াত। তিনি বলেন, “এ বাজেট দেয়ার দরকার কী? সরকার ভাবছে আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে উঠে গেছে, তাই হয়তো এ খাতে বাজেটের এ করুন দশা! এর চেয়ে এ খাতটাকে একেবারে উপেক্ষা করে গেলে আরও কম কষ্ট হতো।” সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তার অত্যন্ত প্রিয়ভাজন উল্লেখ করে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে নূরকে অনুরোধ করবো বিষয়টি ভেবে দেখার। কারণ শিক্ষা ও সংস্কৃতি একটা জাতির মেরুদণ্ড। এ মেরুদণ্ড সমুন্নত রাখার জন্য সরকার সচেষ্ট না হলে দেশ একটা সময় উঠে দাঁড়াতে পারবে না।” আরো কজন সংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বদের সাথে কথা বলে তাদের কন্ঠে প্রায় একই সুর পাওয়া গেল, “পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে সবচেয়ে বেশি বাজেট দেওয়া হয়। আমাদের দেশে হয় তার উল্টোটা। আমরা যদি সংস্কৃতিকে ঠিকভাবে লালন করতে চাই, তাহলে সংস্কৃতি খাতে বাজেট আরো বাড়ানো উচিত। আর প্রতি বছর সংস্কৃতি খাতে যা পাশ হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।” ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই