Exim Bank Ltd.
ঢাকা, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

বাঙালি মুসলিম প্রকাশনার গৌরব অস্তগামী, দায় কার?

অমিত গোস্বামী
কবি হিসেবেই পরিচিতি অমিত গোস্বামীর। তবে উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখায়ও বেশ সুনাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এই লেখকের। পেশায় সাংবাদিক। জন্ম, বাস, বেড়ে ওঠা সবই ভারতে। তবে বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে বিশেষ টান। বাংলাদেশের শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে উপন্যাস লিখে এরইমধ্যে সাড়া ফেলেছেন।

১৭৫৭ সালে নবাবী শাসনের পতনের সঙ্গে সঙ্গে আহত আবেগে ব্রিটিশ শাসকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় বাঙালি মুসলমানেরা। সেই সুযোগে হিন্দু বাঙালিরা রাজশক্তির কাছাকাছি বিচরণ করে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যায়।

১৮৫৭’র সিপাহি বিদ্রোহের আগ পর্যন্ত একশ বছরে ক্রমেই বাঙালি মুসলমানরা পিছিয়ে পড়ে। এরইমধ্যে বাংলা ভাষা দ্রুত তার ডানা বিস্তার করে বাংলা প্রদেশে ইংরেজির সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করে। আবির্ভাব ঘটে বিভিন্ন সাময়িক পত্রপত্রিকার। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে গদ্য চর্চার পর সাময়িক পত্র-পত্রিকার পৃষ্ঠায় বিতর্কমূলক নিবন্ধাদি প্রকাশের মাধ্যমেই রাজা রামমোহন রায়, অক্ষয় কুমার দত্ত, প্যারীচাঁদ মিত্র, কালীপ্রসন্ন সিংহ, ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্ত, বঙ্কিম চন্দ্র , প্রমথ চৌধুরী প্রমুখ খ্যাতনামা কবি-সাহিত্যিকদের আবির্ভাব ঘটে। ধর্মীয় ও সামাজিক সমস্যা ও বিতর্ক তৎকালীন সকল পত্র-পত্রিকার উপজীব্য ছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলা সাময়িক পত্র ছিল সংবাদাশ্রিত। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমান লেখক বা পত্রিকার উপস্থিতি নগন্য ছিল বা ছিলই না।

মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সাময়িকপত্র হিসাবে ১৮৩১ খৃস্টাব্দে কলিকাতা থেকে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক সমাচার সভা রাজেন্দ্র। এর সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ। পত্রিকাটি ছিল বাংলা ফারসি দ্বিভাষিক পত্র। মুসলিম বাংলার দ্বিতীয় সাময়িকপত্রের নাম ‘জগদুদ্দীপক ভাস্কর' ১৮৪৬ সালে মৌলভী রজব আলীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় ইংরেজি, বাংলা উর্দু, ফারসী ও হিন্দি- এই পাঁচ ভাষায় প্রকাশিত হত। ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয় উর্দু-বাংলা দ্বি-ভাষিক সাময়িকপত্র ‘মোহাম্মদী আখবার’। ১৮৭৪ সালে বাংলা সাময়িকপত্র ‘আজিজন নেহার’, ১৮৮১ সালে ‘নব সুধাকর’, ১৮৮৪ সালে ‘মুসলমান’, ১৮৮৫ সালে ‘মুসলমান বন্ধু’ ও ‘ইসলাম’, ১৮৮৬ সালে ‘আহমদী’, প্রকাশিত হয়। এসবই ছিল অত্যন্ত স্বল্পায়ু পত্রিকা।

১৮৭৪ সালে প্রকাশিত ‘আজিজন নেহার’এর সম্পাদক মীর মোশাররফ হেসেন ১৮৯০ সালে প্রকাশ করেন পাক্ষিক পত্রিকা ‘হিতকরী'। এ পত্রিকা প্রসঙ্গে আবুল কালাম শামসুদ্দীন লিখেছেন, ‘মীর মোশাররফ হোসেন এ যুগে মুসলিম বাংলার শুধু আদি সাহিত্যিকই নন, তিনি আমাদের আদি সাংবাদিকও। ১৮৯‌১ সালে প্রকাশিত হয় ‘ইসলাম প্রচারক’, ১৮৯২ সালে ‘মিহির’ ও ‘হাফেজ’। ১৮৯৪ সালে শেখ আবদুর রহীমের ‘মিহির’ এবং শেখ মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দীন আহমদ-এর ‘সুধাকর’ যুক্ত হয়ে যৌথ সম্পাদনায় ‘মিহির’ ও সুধাকর’ নামে ১৯১০ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। ১৮৯৮ সালে ‘কোহিনূর’, ১৮৯৯ সালে ‘ইসলাম’, ১৯০০ সালে ‘নূর অল ইমান’, ১৯০১ সালে ‘মুসলমান’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এভাবে বাংলা চৌদ্দ শতকের একেবারে সূচনালগ্ন থেকেই বলা চলে বাংলার মুসলমান পরিচালিত ও সম্পাদিত সাময়িকপত্র ও সংবাদপত্র প্রকাশের সূচনা হয়। এরপর বহু সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক পত্র-পত্রিকার জন্ম হয়।

সাধারণভাবে মুসলমানদের মাঝে ইতিহাস-ঐতিহ্যের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি, মুসলিম স্বাতন্ত্র্য ও শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা প্রচার,ইসলামী আন্তর্জাতিকতা বা উম্মাহ-ধারণার প্রচার, তুর্কী খিলাফতের প্রতি আনুগত্য, ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মুসলিম অবদানের মহিমা প্রচার, ইংরেজ ও বর্ণ-হিন্দুদের প্রচার মাধ্যমে সমাজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তার প্রতিকারের উপায় অনুসন্ধান, শিরক-বিদআত-কুসংস্কার দূর করে শরীআতের অনুশাসনের ভিত্তিতে সকল প্রকার আলস্য ও জড়তা কাটিয়ে নতুন হিম্মতে জেগে ওঠার আহবান প্রচার প্রভৃতি বিষয় ছিল এ সকল পত্র-পত্রিকার প্রধান উপজীব্য। তৎকালীন মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র সম্পর্কে ডক্টর আনিসুজ্জামান লিখেছেনঃ ‘যে চেতনা ইতিহাস চর্চার মূলে ক্রিয়াশীল ছিল, সমাজ সংস্কার চেষ্টার মূলে প্রেরণাস্বরূপ ছিল, তুরস্কের প্রতি অসামান্য প্রীতির উদ্বোধন করেছিল, সে চেতনা স্বাভাবতই এক ধরনের স্বাতন্ত্র্যবোধের সৃষ্টি করেছিল’। (মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র, পৃষ্ঠা ৪০)

ইতিহাসের দিকে যদি দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখব যে এই সময়ে মুসলমানদের দ্বারা পরিচালিত ও লিখিত পত্রিকাগুলি বাংলা পত্রিকার জগতে প্রতিযোগিতার সামনে পড়ে ছিটকে গেছে। কোহিনূর প্রকাশিত হয় ১৮৯৮ সালে। সম্পাদক ছিলেন এসকেএম মহম্মদ রওশন আলী। কুষ্টিয়া থেকে এ মাসিকটি প্রকাশিত হত। প্রচারক মাসিক পত্রিকাটি ১৮৯৯ সালে কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। মুন্সী ময়েজউদ্দীন আহমদ ছিলেন-এর সম্পাদক। ‘লহরী' পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব ছিলেন মোজাম্মেল হক। ১৯০০ সালে এ পত্রিকাটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। ‘নবনূর' ছিল তৎকালীন মুসলিম সমাজের সবচেয়ে উন্নত মাসিক পত্রিকা। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ এমদাদ আলী। পত্রিকাটি ১৯০৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। ‘নবনূর' পত্রিকাটি মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে। পত্রিকাটিতে বলা হয়, ‘বঙ্গ ভাষা ব্যতিত বঙ্গীয় মুসলমানদের মাতৃভাষা আর কি হইতে পারে? যাহারা জোর করিয়া উর্দুকে বঙ্গীয় মুসলমানের মাতৃভাষার আসন প্রদান করিয়া সমগ্র ভারতে মুসলমানদের এই মাতৃভাষা করিতে চান, তাহারা কেবল অসাধ্য সাধনের জন্য প্রয়াস করেন মাত্র। পৌনে চার বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। ‘আল-এসলাম' ছিল আঞ্জুমানে ওলামায়ে বাঙ্গালার মাসিক মুখপাত্র। মওলানা মেহাম্মদ আকরাম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৯১৫ খৃস্টাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯১১ সালে কলকাতায় স্থাপিত হয় ‘বঙ্গীয়-মুসলমান-সাহিত্য- সমিতি'। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রাণপুরুষ। ১৯১৮ সালে এ সমিতির মুখপত্র ‘বঙ্গীয়- মুসলমান-সাহিত্য-পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় প্রথম থেকেই মাতৃভাষার প্রতি নজর পড়েছে। পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যায় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ লিখেছেন: ‘মাতৃভাষা ব্যতিত আর কোন ভাষা কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া পরান আকুল করে? ১৯২০ সালে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ও মোহম্মদ আফজালউল হকের প্রকাশনায় ‘মোসলেম ভারত' কলকাতা থেকে মাসিক সাহিত্যপত্র হিসাবে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন নজরুল ইসলাম। -‘ধুমকেতু' পত্রিকা অর্ধ সাপ্তাহিক হিসাবে ১৯২২ খৃস্টাব্দে কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯২৬ সালে ঢাকায় গঠিত হয় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ'। ঢাকার ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজের' মুখপত্র হিসাবে ১৯২৭ খৃস্টাব্দে ‘শিখা' প্রকাশিত হয়। প্রথম সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন।

১৯১৮-র শীতে ভেজা ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশিত হয় ‘সওগাত’ পত্রিকা, সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। ‘সওগাত’ যতটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল, অন্যগুলি ঠিক ততখানি অর্জন করতে পারেনি। করাচির উনপঞ্চাশ নম্বর সেনা ছাউনি থেকে পাঠানো ‘বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনি’ প্রথম বর্ষ সপ্তম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়, যা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম মুদ্রিত রচনা। পরে নজরুলের মোট আশিটি রচনা ‘সওগাত’-এ প্রকাশিত হয়। করাচি থেকে কলকাতায় এসে ‘সওগাত’-এর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করেন নজরুল। নজরুল যেমন ‘সওগাত’-এর মুখ্য লেখক হয়ে ওঠেন, তেমনি কবির জীবন ও লেখনী সম্পর্কে ‘সওগাত’-এ নানা সংখ্যায় আলোচনা প্রকাশিত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নজরুলের ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে ১৩৩৪-১৩৩৬ বঙ্গাব্দে এখানেই প্রকাশিত হয়েছিল।

১৯১৮ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত দীর্ঘ তিন দশকে ‘সওগাত’-এ প্রায় সকল উল্লেখযোগ্য লেখকের রচনা প্রকাশিত হয়েছে। ‘সওগাত’ সম্পাদকের আহ্বান ফেরাননি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিভিন্ন সংখ্যায় লিখেছেন প্রমথ চৌধুরী, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ক্ষিতিমোহন সেন, কুমুদরঞ্জন মল্লিক, সরলাবালা সরকার, নন্দলাল বসু, এস ওয়াজেদ আলি, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, দীনেশচন্দ্র সেন, জলধর সেন, দিলীপকুমার রায়, জীবনানন্দ দাশ, সুকুমার সেন, জসীমউদ্দিন, অন্নদাশঙ্কর রায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী আব্দুল ওদুদ, সুফিয়া কামাল, ইসমাইল হোসেন সিরাজি, আবদুল কাদির-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সওগাত পত্রিকা তিন দশকব্যাপী সময়ে বাংলার সাহিত্যজগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছিল। এই পত্রিকা শুধু সাহিত্য-রচনা প্রকাশ করেই তার কর্তব্য শেষ করেনি, বরং বিভিন্ন সংখ্যায় দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন বিষয়ে বলিষ্ঠ অবস্থানও নিয়েছে। ‘সওগাত’ যে লক্ষ্যে প্রথম থেকে শেষ অবধি অবিচল ছিল, তা হল স্ত্রীশিক্ষা ও নারী-স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন। সচিত্র মাসিকপত্রটির প্রথম সংখ্যায় ইতিহাসখ্যাত মহিলাদের ছবি মুদ্রিত হয়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কবিতা প্রথম পাতায় ছাপা হয়। এ রকম লেখকসূচির থেকে দু’রকম ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে সমালোচকদের ধারণা। প্রথমত নারীর স্বাধীন ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি, দ্বিতীয়ত হিন্দু-মুসলমানের মিলন কামনা। ‘সওগাত’-এ মেয়েদের জন্য পৃথক বিভাগ: জেনানা মহফিল, মহিলা সংখ্যা, মহিলা সওগাত প্রকাশ করতে থাকেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। ১৯২৯ থেকে ১৯৪৫, ষোলো বছরে ছ’টি মহিলা সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। ১৯৪৭-এ ‘সওগাত’-এর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত মেয়েদের নিজস্ব পত্রিকা ‘বেগম’। সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল। দ্বাদশ সংখ্যা থেকে সম্পাদক হন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিনের মেয়ে নূরজাহান বেগম। সহ-সম্পাদক লায়লা সামাদ। ১৯৫০-এ ‘বেগম’ স্থানান্তরিত হয় ঢাকায়। তিন বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘বেগম’-এর ছত্রিশটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। তৈরি হয় ‘বেগম ক্লাব’, যার সভাপতি শামসুন্নাহার মাহমুদ। প্রবীণ লেখিকা, সমাজসেবী ও নবীন লেখিকারা বিভিন্ন অধিবেশনে মিলিত হতেন। ‘বেগম’ পত্রিকার কলকাতা বিদায়ের ক্ষণটিকে স্মরণীয় করতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, সেখানে গান গেয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও তালাত মামুদ।

ভারত বিভাগের পর পূর্ববাংলায় প্রথম যে দৈনিকের আবির্ভাব ঘটে তার নাম ছিল পয়গাম (সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ চৌধুরী)। এটি ১৯৪৭ সালের ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত হয়। একই সময়ে ঢাকা থেকে প্রকাশনা শুরু করে জিন্দেগী নামক অর্ধ-সাপ্তাহিক। মওলানা আকরম খাঁর কলকাতা-ভিত্তিক দৈনিক আজাদ-ও ঢাকাতে স্থানান্তরিত হয় এবং ১৯৪৮ সাল থেকে প্রকাশনা শুরু করে। ১৯৪৯ সালে ঢাকায় প্রকাশিত হয় দ্য পাকিস্তান অবজারভার। আরও দুটি সংবাদপত্র দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক সংবাদ যথাক্রমে ১৯৪৯ ও ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয়। এগুলি এখনও বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে শীর্ষস্থানে আছে। পরবর্তী প্রকাশনাগুলির মধ্যে ছিল দৈনিক পাকিস্তান (পরে দৈনিক বাংলা), পূর্বদেশ এবং দ্য মর্নিং নিউজ। ভারত বিভাগের পরপর যে অশান্ত-অনিশ্চিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তাতে সংবাদপত্র শিল্প যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংবাদপত্রগুলি ছিল দ্বিধা ও শঙ্কাগ্রস্ত। পুরানোগুলি একের পর এক বন্ধ হওয়া শুরু করে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত আট বছরে সংবাদপত্র ও সাময়িকীর সংখ্যা ২৫৯ থেকে ১৬০-এ হ্রাস পায়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংবাদপত্র শিল্প ব্যাপক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। বেশকিছু সংবাদপত্র এ সময় হারিয়ে যায়, অনেকগুলি ছিল দখলদার বাহিনীর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের অধীনে। তবে বেশ কয়েকটি পত্রিকা তখন মুক্ত এলাকা এবং ভারত থেকে প্রকাশিত হয়। এগুলির অধিকাংশ আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই প্রকাশিত হতো। প্রায় সবগুলি ছিল সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা মাসিক। কয়েকটি একবার বা দুবার মাত্র প্রকাশিত হয়েছে। অধিকাংশেরই, এমনকি নিজস্ব ভবন পর্যন্ত ছিল না। প্রকাশিত পত্রিকাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শাশ্বত বাংলা, স্বাধীন বাংলা, জয় বাংলা, সোনার বাংলা, বাংলার বাণী, বিপ্লবী বাংলা, দ্য নেশন, মুক্ত বাংলা, দ্য পিপল, দুর্জয় বাংলা, মুক্তি, একতা ইত্যাদি। স্বাধীনতা অর্জনে জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়াতে এগুলি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বস্তুত এগুলি ছিল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার এক নতুন ধারার প্রর্বতক। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ২৫ মার্চের অপারেশনে পাকিস্তান বাহিনীর মর্টারের গোলায় তিনটি দৈনিক পত্রিকার প্রেস ও অফিস ধ্বংস হয়ে যায়। এগুলি হলো দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ ও দ্য পিপল। স্বাধীনতার পর এগুলির প্রকাশনা শুরু হতে কিছুটা সময় লাগে। দেশে পুনর্বাসন ও পুননির্মাণের সময়কালে সংবাদপত্রসমূহ নতুনভাবে সংগঠিত হতে শুরু করে। দেশের সংবিধানেও এ সময়ে সংবাদ মাধ্যম সম্পর্কিত বিধানাবলি সংযোজিত হয়। সংবাদপত্র শিল্পের বিকাশে এ সময়ের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল সংখ্যা ও গুণগত মান উভয়েরই উন্নয়ন। মফস্বলকেন্দ্রিক সাংবাদিকতাও এ সময় শক্তিশালী হয়।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের মুহূর্তে বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল ১০। স্বাধীনতার পরপর কয়েকটি পত্রিকার পরিচালনার ভার সরকারকে বহন করতে হয়েছিল। পাকিস্তান প্রেস ট্রাস্টের পত্রিকা দৈনিক পাকিস্তান (দৈনিক বাংলা) ও দ্য মর্নিং নিউজ এবং মালিকের অনুপস্থিতিতে দ্য পাকিস্তান অবজারভার (দ্য বাংলাদেশ অবজারভার), পূর্বদেশ এবং চিত্রালী সংবাদপত্র ব্যবস্থাপনা বোর্ডের মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হতো। ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইন জারির মাধ্যমে সংবাদপত্রের নিয়ন্ত্রণে সরকারকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়। ১৯৭২ সালে সংবাদনির্ভর সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন বিচিত্রা-র প্রকাশনা শুরু হয় দৈনিক বাংলা প্রকাশনী থেকে। ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সংবাদপত্রে নিয়োজিত কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য আইন প্রণীত হয়। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন সরকারিভাবে প্রকাশিত চারটি পত্রিকা ছাড়া সরকার অন্যসব পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ ঘোষণা করে। পত্রিকা চারটি ছিল দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, দ্য বাংলাদেশ অবজারভার ও দ্য বাংলাদেশ টাইমস।

১৯৭৫ সালের পর থেকে পুরানো পত্রিকাগুলি একে একে আবার প্রকাশিত হতে থাকে। প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত সংবাদপত্র ছিল নিয়ন্ত্রিত। সরকারের সমালোচনামূলক খবর ছাপানোর অভিযোগে এ সময় প্রায় ৫০টি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৮৪ সালে যায়যায়দিন নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। পাঠক জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকে এ পত্রিকাটি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশনাকে মেকআপ ও পরিবেশনার ভঙ্গিসহ বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রভাবিত করেছে। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিশেষ ক্ষমতা আইন-এর ১৬, ১৭, এবং ১৮নং ধারা অবলুপ্ত করে সেন্সরশিপ ও প্রকাশনা নিষিদ্ধ সংক্রান্ত কালো আইনের বিলুপ্তি ঘটায়। এছাড়া এ সময় প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন অ্যাক্ট-এরও সংশোধনী আনা হয়। বিশ শতকের নববইয়ের দশকে বিভিন্ন মতের রেকর্ড সংখ্যক পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ সময়ের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল ১৯৯৭ সালে সরকারি মালিকানাধীন দৈনিক বাংলা, দ্য বাংলাদেশ টাইমস এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রা-র প্রকাশনা বন্ধ করে দিয়ে টাইমস-বাংলা ট্রাস্টকে অবলুপ্ত ঘোষণা করা।

বাংলাদেশে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকাগুলির মধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রধান সকল পত্রিকা নিয়মিত সাইজের, আর দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে প্রকাশিত অধিকাংশ পত্রিকাই ট্যাবলয়েড আকারের। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকেই ডেস্কটপ পাবলিকেশন প্রযুক্তি বিকশিত হতে থাকে। দৈনিক পত্রিকাগুলি সাধারণত ছাপা হয় অফসেট মেশিনে। ১৯৯৫ সাল থেকে সংবাদপত্রে রঙিন ছবি মুদ্রণও চালু হয়েছে। নববইয়ের দশকের বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য দৈনিক পত্রিকার মধ্যে ছিল ইত্তেফাক, জনকণ্ঠ, ইনকিলাব, আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ, বাংলাবাজার পত্রিকা, মুক্তকণ্ঠ, প্রথম আলো, সংবাদ, মানবজমিন, সংগ্রাম, দ্য বাংলাদেশ অবজার্ভার, দ্য ডেইলি স্টার, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং নিউ নেশন। ২০০০-এর দশকে সংবাদপত্র জগতে উল্লেখযোগ্য নতুন সংযোজন ছিল: যুগান্তর, সমকাল, যায়যায়দিন, আমারদেশ, নয়াদিগন্ত, কালেরকণ্ঠ, দি নিউজ টুডে, নিউ এজ এবং আমাদের সময়। বিভিন্ন জেলা শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিকসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত আজাদী ও পূর্বকোণ, বগুড়া থেকে করতোয়া, খুলনা থেকে পূর্বাঞ্চল এবং সিলেট থেকে যুগভেরী। স্বাধীনতার পর যে সকল সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়েছে তাদের মধ্যে বিচিত্রা ও যায়যায়দিন ছাড়া উল্লেখযোগ্য হলো হলিডে, রোববার, সচিত্র সন্ধানী, পূর্ণিমা, ঢাকা কুরিয়ার, খবরের কাগজ, আগামী, সাপ্তাহিক ২০০০, সাপ্তাহিক এখন, সাপ্তাহিক প্রতিচিত্র, শীর্ষকাগজ ও শৈলী। মহিলা পাঠকের পত্রিকা সাপ্তাহিক বেগম পাকিস্তান আমল থেকেই প্রকাশিত হচ্ছে। বেগম-এর অনুপ্রেরণায় ১৯৮৭ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে পাক্ষিক অনন্যা। সাংবাদিকতার প্রধান স্রোতের বাইরে বিশেষ বিষয়ের পত্রিকা প্রকাশের ধারা স্বাধীনতার পর থেকে গড়ে উঠেছে। এ ধারার উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহ হলো চলচ্চিত্র, বিনোদন, ক্রীড়া, সাহিত্য, ব্যবসাবাণিজ্য, প্রযুক্তি, উন্নয়ন, সমাজ, অর্থনীতি, গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, অপরাধ ও কার্টুন।

বার্তা সংস্থার মাধ্যমেও এদেশে সাংবাদিকতা বিকশিত হয়েছে। পাকিস্তান আমলের সরকারি বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি) স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) নামে পরিচালিত হয়ে আসছে। পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে বেসরকারি খাতে ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (ইএনএ) নামে একটি বার্তা সংস্থা কাজ শুরু করে। আর্থিক সমস্যার কারণে আশির দশকে এটা বন্ধ হয়ে যায়। আশির দশকেই আরেকটি বেসরকারি বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) ১৯৮৮ সালে আবির্ভূত হয়ে সংবাদ মাধ্যমের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। নববইয়ের দশকে চালু হওয়া বার্তা সংস্থার মধ্যে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ), ঢাকাকেন্দ্রিক প্রোব বার্তা সংস্থা, নিউজ মিডিয়া এবং আবাস উল্লেখযোগ্য। সংবাদ মাধ্যমের সাথে যে সকল সরকারি সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা আছে সেগুলি হলো বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, তথ্য অধিদপ্তর এবং বহিঃপ্রচার অনুবিভাগ। এর মধ্যে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর সরকারি প্রকাশনা, পত্র-পত্রিকা নিবন্ধন, সরকারি বিজ্ঞাপন বিলিবণ্টন এবং পত্রিকার সার্কুলেশন নিরূপণ ও নিউজপ্রিন্ট বরাদ্দের সাথে জড়িত। অন্যদিকে তথ্য অধিদপ্তর সরকারি কর্মকান্ডের প্রেস কভারেজের দায়িত্বে নিয়োজিত।

১৯৯০-এর দশকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ইন্টারনেট অনলাইনে সংবাদপত্র ও সাময়িকীর প্রকাশ বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যমের সাথে সম্পর্কিত আইন ও বিধিসমূহের মধ্যে আছে: সংবিধানের ৩৯, ৪৩, এবং ১০৮ নং ধারা; দণ্ডবিধির ১২৪ (ক), ১৫৩ (ক), ১৫৩ (খ), ২৯২, ২৯৩, ২৯৫ (ক) এবং ৪৯৯ নং ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ (ক) ধারা; অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-এর ৩ নং ধারা; বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২ নং ধারা; প্রিন্টিং প্রেস ও পাবলিকেশন (ঘোষণা ও নিবন্ধন) অ্যাক্ট; দ্য টেলিগ্রাফ অ্যাক্ট; দ্য পোস্ট অফিস অ্যাক্ট-এর ২৭(খ) নং ধারা; দ্য ইনডিসেন্ট অ্যাডভার্টাইজমেন্ট অ্যাক্ট-এর ৩ নং ধারা; ফরেন রিলেশান অ্যাক্ট-এর ২ নং ধারা; এবং কপিরাইট অ্যাক্ট।

সংবাদপত্র ও সাময়িকীর দেশব্যাপী সার্কুলেশন সংক্রান্ত কোন নির্ভরযোগ্য হিসাব না থাকলেও, দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইয়ার বুক ১৯৯৮-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী ১৯৯৭ সালে সারাদেশে দৈনিক সংবাদপত্রের সার্কুলেশন ছিল ২২,৩৭,৯৬০ এবং সাময়িকীর সার্কুলেশন ছিল ৯,৮৭,৮১০। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮ সালে সারাদেশে ৪১২টি দৈনিকসহ মোট ৭১২টি সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছে। পত্র-পত্রিকার ৯০ শতাংশেরও অধিক বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হয়। বর্তমানে বেশিরভাগ দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার অনলাইন প্রকাশনা রয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি অনেক পাঠক এসব সংবাপত্র এবং সাময়িকী পড়তে পারে।

বাংলাদেশে প্রায় ১,০০০ দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকী প্রকাশিত হলেও ২০০৮ সালে পরিচালিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী গোটা দেশের মাত্র ২৫.০ শতাংশ লোক সপ্তাহে একবার পত্রিকা পাঠ করে থাকে। শহরাঞ্চলে পাঠক সংখ্যার হার তুলনামূলকভাবে বেশি (৪৩ শতাংশ) এবং পল্লী অঞ্চলে এই হার শতকরা মাত্র ১৬.০ ভাগ। সাপ্তাহিক পত্রিকার ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৩ শতাংশ। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের একটি সমীক্ষায় দেখা যায় যে, মাত্র ১২ শতাংশ পাঠক পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন এবং মাত্র ৫৫ শতাংশ পাঠক মনে করেন যে দেশের পত্রিকাগুলির মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। এই আস্থাহীনতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সরকারি হস্তক্ষেপ, প্রি-সেন্সরশিপ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন মহলের বাধা, মালিকের খেয়াল-খুশি, নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অভাব ও সরকারি বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীলতা।

বাঙালি মুসলমানদের দ্বারা প্রকাশিত ও পরিচালিত সংবাদপত্র ও সাহিত্য পত্রিকারা ধীরে ধীরে আবার অস্তগামী। এক সময় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন যে বাংলা সাহিত্যের রাজধানী ক্রমে কলকাতা থেকে সরে যাবে ঢাকায়। কিন্তু সেটা হয় নি। সেটা না হওয়ার মূল কারন বাংলাদেশের সংবাদ ও সাহিত্য ব্যবসায়ীদের অপেশাদারি ও ঠকিয়ে নেব মানসিকতা। লিখিয়ে নেব অথচ লেখককে পয়সা দেব না, মুল লেখকের অনুমতি না নিয়ে অনুদিত গল্প বা উপন্যাস ছাপাব, পয়সা নিয়ে নিম্নমানের বই ছাপাব, পত্রিকার ক্ষেত্রে মুখে বলব যত সংখ্যা ছাপাচ্ছি তার চার ভাগের এক ভাগও ছাপাব না, দিনের পর দিন সাংবাদিকদের মাইনে দেব না– এই তো এখনকার চালচিত্র। ফলে প্রকাশনা এই মুহূর্তে আর শিল্প নেই, অবিশ্বাস ও চৌর্যবৃত্তির সেরা সম্ভার হয়ে উঠেছে। তাই প্রথম সারির সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান, প্রকাশনা সংস্থা, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও সরাসরি সরকারি সংস্থা বাদে বাকিদের বিশ্বাসযোগ্যতা শুন্যে নেমে এসেছে। তার মূল কারন প্রকাশনা বিষয়ে দুর্বল নীতিমালা ও তার প্রয়োগে তীব্র অনীহা। এভাবে চললে বাংলাদেশের অক্ষরশিল্পে অনতিবিলম্বে নেমে আসবে তীব্র অন্ধকার যার ফলে পরবর্তী প্রজন্ম পাঠের অভাবে পরিনত হবে শুন্য কলসে। তার দায় বর্তমান প্রজন্ম নিতে প্রস্তুত তো?

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
শিস দিয়েই দুই বাংলার তারকা জামালপুরের অবন্তী
শিস দিয়েই দুই বাংলার তারকা জামালপুরের অবন্তী
আশুরার রোজা: নিয়ম ও ফজিলত
আশুরার রোজা: নিয়ম ও ফজিলত
তরুণীদের বেডরুমে নেয়ার পর হত্যা করাই কাজ
তরুণীদের বেডরুমে নেয়ার পর হত্যা করাই কাজ
রাতে ফেসবুক বন্ধ চান রওশন
রাতে ফেসবুক বন্ধ চান রওশন
সূরা আল নাস এর গুরুত্ব ও ফজিলত
সূরা আল নাস এর গুরুত্ব ও ফজিলত
অবন্তী সিঁথির জয়জয়কার
অবন্তী সিঁথির জয়জয়কার
যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবেই তুমি বাংলাদেশ!
যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবেই তুমি বাংলাদেশ!
যৌনতায় ঠাসা ৫টি সিনেমা
যৌনতায় ঠাসা ৫টি সিনেমা
উচ্চতা বাড়ায় যেসব খাবার
উচ্চতা বাড়ায় যেসব খাবার
মিলনে ‘অপটু’ ট্রাম্প, বোমা ফাটালেন এই পর্নো তারকা!
মিলনে ‘অপটু’ ট্রাম্প, বোমা ফাটালেন এই পর্নো তারকা!
‘শাহরুখ’ আর রেডি গোয়িং টু জাহান্নাম!
‘শাহরুখ’ আর রেডি গোয়িং টু জাহান্নাম!
‘তারেকের তিন গাড়ি, আমার বোন চলে বাসে’
‘তারেকের তিন গাড়ি, আমার বোন চলে বাসে’
নিককে প্রকাশ্যে চুমু খেলেন প্রিয়াঙ্কা
নিককে প্রকাশ্যে চুমু খেলেন প্রিয়াঙ্কা
বিয়ে ছাড়াই মা হলেন জিৎ-এর প্রেমিকা!
বিয়ে ছাড়াই মা হলেন জিৎ-এর প্রেমিকা!
স্টিফেন হকিংয়ের পাঁচ ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী
স্টিফেন হকিংয়ের পাঁচ ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী
‘পবিত্র আশুরা’
‘পবিত্র আশুরা’
সূরা বাকারার শেষ অংশের ফজিলত
সূরা বাকারার শেষ অংশের ফজিলত
চাকরি না পাওয়ায় সুইসাইড নোট লিখে যুবকের আত্মহত্যা
চাকরি না পাওয়ায় সুইসাইড নোট লিখে যুবকের আত্মহত্যা
স্টিফেন হকিংয়ের জীবন বদলানো ১০ উক্তি
স্টিফেন হকিংয়ের জীবন বদলানো ১০ উক্তি
বিবাহিতা বা সন্তানের মা হলে ১০ লাখ জরিমানা!
বিবাহিতা বা সন্তানের মা হলে ১০ লাখ জরিমানা!
সর্বশেষ:
ইরানের আহবাজ শহরে সেনা প্যারেডে বন্দুকধারীর হামলা, আহত ২০ ইরানের আহবাজ শহরে সেনা প্যারেডে বন্দুকধারীর হামলা, আহত ২০ সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীদের অধিকার সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে: যাত্রীকল্যাণ সমিতি সড়ক পরিবহন আইনে যাত্রীদের অধিকার সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে: যাত্রীকল্যাণ সমিতি ২০১৮ শেষ অথবা ২০১৯’র শুরুতে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি ২০১৮ শেষ অথবা ২০১৯’র শুরুতে জাতীয় নির্বাচন: সিইসি যশোরে ও বান্দরবানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ যশোরে ও বান্দরবানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গণি মারা গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গণি মারা গেছেন তানজানিয়ায় ফেরি ডুবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৬ তানজানিয়ায় ফেরি ডুবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৬