বাকৃবিতে সাংবাদিক পেটাল ছাত্রলীগ

ঢাকা, সোমবার   ২০ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৬,   ১৪ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

বাকৃবিতে সাংবাদিক পেটাল ছাত্রলীগ

বাকৃবি প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৯:৪১ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:৪১ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের মারধরের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক সাংবাদিক।   

বুধবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলে ওই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত সাংবাদিকের কোনো খোঁজ-খবর নেয়া হয়নি।  

জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের গেস্টরুমে অভ্যন্তরীণ একটি বিষয় নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এক পর্যায়ে তাঁরা সেখানে হট্টগোল ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক আবুল বাশার উত্তেজনা দেখে গেস্টরুমের দিকে যান। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকের উপস্থিতি দেখে বাশারের ওপর চড়াও হন ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা। আনুমানিক ২০ জন কর্মী তাঁকে এলোপাথারি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।

পরে হল ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা বাশারকে উদ্ধার করে তাঁর কক্ষে পৌঁছে দেন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহরিয়ার মনির বাশারকে ডেকে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে হলের নেতাদের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।  তবে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়টি অস্বীকার করেন।

রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের অন্যান্য সাংবাদিকেরা বাশারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান।

রাতে প্রভোস্টকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। প্রভোস্ট ফোন না ধরায় ওই রাতেই প্রক্টরকে ঘটনাটি জানানো হয়। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরণের খোঁজ-খবর বা পদক্ষেপ নেয়নি। দায় এড়িয়ে প্রক্টর অধ্যাপক আতিকুর রহমান বলেন, এটা হলের বিষয়। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার শুধুই প্রভোস্টের। আমাকে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি বিষয়টি দেখতাম।

প্রভোস্ট অধ্যাপক সংকর কুমার দাস বলেন, অপরিচিত নম্বর হওয়ায় ফোন ধরিনি। ব্যস্ত থাকায় খোঁজ নিতে পারিনি। হল প্রশাসন ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার করবে বলে টিএসসিতে অবস্থিত সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এসে জানিয়ে যান।

বুধবার রাত ১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে বাশারকে দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল। তিনি বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা দু:খজনক। ছাত্রলীগ জড়িত থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবুল বাশার জানান, গেস্টরুমে থেকে বেড়িয়ে এসে ছাত্রলীগের কর্মীরা অতর্কিত আক্রমণ করে। তাই কাউকে সেভাবে চিনতে পারিনি। তবে ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা ছিল। ফুটেজ দেখে জড়িতদের সনাক্ত করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক জসিমউদ্দিন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে। আমি প্রভোস্টকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ

Best Electronics