বাকৃবিতে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন স্থগিত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৬ ১৪২৬,   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

বাকৃবিতে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন স্থগিত

বাকৃবি প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৮:০৬ ১১ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৮:০৬ ১১ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচন বিগত ১৪ বছর ধরে দুই প্যানেলে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম’ এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সোনালি দল’ প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিত। এক অভিযোগের ভিত্তিতে এ বছর সোনালি দল নির্বাচন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ২০০৪ সালের পর থেকে সুপ্ত থাকা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একটি পক্ষ ‘নীল দল’এর আবির্ভাব ঘটেছে। নীল দল প্যানেলে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে মনোনয়ন ফরম কেনেন তারা।

কিন্তু শিক্ষক ফোরামের অনুরোধে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার নির্বাচন স্থগিত করেছেন।

নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে লিখিত প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে নীল দল।

 ১৬ জানুয়ারি শিক্ষক সমিতির ২০১৯ সালের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। বৃহস্পতিবার মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে সোনালি দলের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ দিন পর আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ এভাবে প্রকাশ্যে এল। শিক্ষক ফোরাম ও নীল দল উভয়ই নিজেদের মূল আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক সংগঠন বলে দাবি করেছে।

বর্তমান শিক্ষক সমিতির ১১ সদস্যের প্রত্যেকেই শিক্ষক ফোরামের সদস্য।

সোনালি দলের অভিযোগ, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের বহিরাগত কিছু দুর্বৃত্ত খারাপ আচরণ ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কোনো ধরণের পদক্ষেপ নেয়নি। কোনো বিবৃতি, প্রতিবাদ কিংবা সহনুভূতি প্রদশর্নের প্রয়োজন বোধ করেনি। এ কারণে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো পরিস্থিতি নেই অভিযোগ করে সোনালি দল নির্বাচনে যাচ্ছে না।

সোনালি দলের অনুপস্থিতি ও আবারো আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসায় নীল দল আত্মপ্রকাশ করল। দলের সাথে যুক্ত সবাই আওয়ামীপন্থী শিক্ষক। দীর্ঘ দিন পর আত্মপ্রকাশের বিষয়ে নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিক্ষক ফোরাম আওয়ামীপন্থী হলেও

সেখানে জাসদ, বাসদ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি থেকে রূপ বদল করা শিক্ষকেরা রয়েছেন। বামদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে শিক্ষক ফোরাম। সত্যিকারের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরা নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষক ফোরামের সাথে কোনো ধরণের বিরোধ আছে কি না এমন প্রশ্নে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আদর্শিক কিছু পার্থক্য থাকলেও তাদের সাথে কোনো বিরোধীতা নেই। আমাদের সংগঠনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ছাড়া অন্য কেউ নেই।

শুক্রবার নির্বাচন স্থগিতের লিখিত প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে নীল দল। দলের সভাপতি এস এম রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণ দেখিয়ে হঠাৎ নির্বাচন স্থগিত করা অনভিপ্রেত ও বেআইনি। শিক্ষক সমিতির এ ধরণের সিদ্ধান্ত জামায়াত-বিএনপিকে পৃষ্ঠপোষকতার করার শামিল। কেউ চাইলে নির্বাচনে নাও আসতে পারেন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এ এস মাহফুজুল বারি বলেন, সোনালি দলের অংশগ্রহণ না থাকায় শিক্ষক ফোরামের লিখিত আবেদনে শিক্ষক সমিতি নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। কার্যনির্বাহী কমিটির সভা দিয়ে পরবর্তী নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে।

শিক্ষক ফোরামের সভাপতি কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক লুৎফুল হাসান বলেন, প্যানেল মনোনয়ন নয়, মূলত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতেই আমরা নির্বাচন পিছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে লুৎফুল হাসান বলেন, নীল দলের কেন আবির্ভাব ঘটল, তা বলতে পারব না। তবে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আওয়ামীপন্থী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সংগঠন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ