বাংলা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীদের ভূমিকা কী ছিল?

ঢাকা, বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৬ ১৪২৬,   ১৫ শা'বান ১৪৪১

Akash

বাংলা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীদের ভূমিকা কী ছিল?

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১০ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

খাজা নাজিমউদ্দিন (বামে), নূরুল আমীন (ডানে)

খাজা নাজিমউদ্দিন (বামে), নূরুল আমীন (ডানে)

লাহোর প্রস্তাব উপেক্ষা করে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভারতীয় উপমহাদেশ ভাগ হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি রাষ্ট্র। জাতির ভিত্তিতে পাকিস্তান ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয় ঐতিহাসিক পূর্ব বাংলাকে। যার নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান। কিন্তু শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন করে পরাধীনতার শিকলে রাখে পশ্চিম পাকিস্তান। এরপর সমগ্র পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার চক্রান্ত শুরু হয়। এতে যোগ দেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন (পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী) ও নূরুল আমীন। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষার স্বীকৃতির দাবির বিরোধিতা করে ইতিহাসের পাতায় ধিকৃত ব্যক্তি হিসেবে নাম লেখান তারা।

বাংলা ভাষার বিরোধীতাকারী প্রথম মূখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন

দেশ ভাগের পর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পুরো পাকিস্তানের গর্ভনর হন। তখন অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দিন। সেই সময় পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরা বাংলাকে এড়িয়ে শুধু উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পরিকল্পনা করেন। বিষয়টি ফাঁস হলে বাংলা ভাষাভাষীসহ ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভের দানা বাঁধতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তমদ্দুন মজলিস। ১৯৪৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জনসভাও হয়। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে উর্দু বা ইংরেজিতে বক্তব্য দেয়ার প্রস্তাব নাকচ করেন পূর্ব পাকিস্তানের কংগ্রেসের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি বাংলাকেও পরিষদের ভাষা করার দাবি তুলে ধরেন। ওই সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের সঙ্গে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন বাংলা ভাষার বিরোধিতা করেন। 

খাজা নাজিমউদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষাকে গণপরিষদের ভাষা থেকে বাদ দেয়া হয়। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মুদ্রা, ডাক টিকেট থেকে বাংলা বাদ দেয়া হয়। এছাড়া নৌবাহিনীর পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগানে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে গ্রেফতার হন শওকত আলী, কাজী গোলাম মাহবুব, শামসুল হক, অলি আহাদ, শেখ মুজিবুর রহমান, আবদুল ওয়াহেদ প্রমুখ। পরে আন্দোলন দমাতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চুক্তি করেন খাজা নাজিমউদ্দিন। তবে বাংলা ভাষাকে রাখার দাবি মানেননি তিনি। পরে খাজা নাজিমউদ্দিনের পৃষ্টপোষকতায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্তানে এসে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিয়ে যান।

বাংলা ভাষার বিরোধীতাকারী দ্বিতীয় মূখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও লিয়াকত আলী খানের মৃত্যুর পর পরিক্রমায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন খাজা নাজিমউদ্দিন। আর পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হন নাজিমউদ্দিনেরই অনুসারী নূরুল আমীন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীন করাচি থেকে ঢাকায় আসেন। পল্টন ময়দানে এক জনসভায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার ঘোষণা করেন তিনি। এরপর ২১ শে ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীনের নির্দেশে ছাত্রদের আন্দোলন বানচাল করতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সেদিন ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল করে ছাত্র-জনতা। মিছিলে পুলিশ গুলি করলে রফিক, বরকতসহ বেশ কয়েকজন শহিদ হন। ওই সময় গণপরিষদের অধিবেশন বসার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু পুলিশের গুলি ছোড়ার খবর পেয়ে গণপরিষদের সদস্য মওলানা তর্কবাগীশ ও বিরোধী দলের সদস্যরা সভাকক্ষ ত্যাগ করে রাজপথে নেমে পড়েন। তবুও অধিবেশনে বাংলা ভাষার দাবির বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীন।

সূত্র-ইন্টারনেট

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ