.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৭ ১৪২৫,   ১৪ রজব ১৪৪০

বাংলা থেকে বলিউডে যেসব ছবি

সৈয়েদা সাদিয়া

 প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৬:৪৩ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

সিনেমায় কপি পেস্ট (অন্যের অনুকরণ) খুব কমন একটি ব্যাপার। ইংরেজি থেকে নকল করে বহু বলিউড ছবি নির্মিত হয়েছে আর সেখান থেকে নকল করে কলকাতা অনেক ছবি বানিয়েছে আর তাদের কাছ থেকে নকল করে ঢালিউড ছবি নির্মাণ করেছে। তবে মাঝে মাঝে ভিন্ন কাজও হয়। অর্থাৎ বাঙালিদের থেকে নকল করে হিন্দিরাও। 

আজ ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জানাবো এমন কিছু বাংলা ছবির আলোচনা, যেগুলো থেকে বানানো হয়েছে হিন্দি ছবি। চলুন দেখা যাক এই তালিকায় যে ছবিগুলো রয়েছে।

মজার ব্যাপার হলো, বাংলা ছবিগুলো এতটাই জনপ্রিয়তা ছিল যে, যা দেখে বলিউডের বড়বড় পরিচালক ও প্রযোজকরা ছবিগুলো হিন্দিতে নির্মাণের পরিকল্পনা করেন এবং চড়ামূল্যে এর স্বত্ত্বও কিনে নেন। সবচেয়ে বড় কথা এর কিছু কিছু ছবি বাংলায় যেমন ব্যবসা করেছে, তেমন ব্যবসা করতে পারিনি বলিউডে। তারপরেও বলিউড পরিচালকরা ছবিগুলো অনেক প্রশংসা করেছিলেন।

চলুন দেখে নেয়া যাক কারা কিনেছিলেন ছবিগুলো আর পরিবর্তিতে কী নামে বানিয়েছিলেন তারা।

দ্বীপ জেলে যাই

কলকাতার ছবি দ্বীপ জেলে যাই। অসিত সেনের পরিচালনায় ‘দ্বীপ জেলে যাই’ মুক্তি পায় ১৯৫৯ সালে। সে সময় ছবিটি বিশ্বের অনেক চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়। 

এর গল্পে দেখা যায়, হাসপাতালে একজন নার্স ও রোগীর সম্পর্ক নিয়ে নানান কাহিনী। ‘দ্বীপ জেলে যাই’ ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন ও অনিল চ্যাটার্জি। পরবর্তীতে একই পরিচালক ১৯৭০ সালে ‘খামোশি’ শিরোনামে ছবিটি হিন্দি ভাষায় নির্মাণ করেন। দারুণ প্রশংসিত এই ছবিতে অভিনয় করেন রাজেশ খান্না ও ওয়াহিদা রহমান।

কাবুলিওয়ালা

বাংলা ছবি ‘কাবুলিওয়ালা’। বলিউডে প্রথম রিমেক হওয়া ছবি এটি। এর মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ছবি বিশ্বাস। তপন সিংয়ের পরিচালনায় ১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কাবুলিওয়ালার স্বত্ব নাকি সে সময় রেকর্ড দামে কিনে নেয় বলিউড। ১৯৬১ সালে একই নামে বলিউডে মুক্তি পায় ছবিটি। তখনকার সময়ে এটি প্রায় ৮০ লক্ষ রুপি ব্যবসা করে তাক লাগিয়ে দেয়।

প্রাক্তন

বাংলা ছবি ‘প্রাক্তন’। এই ছবিতে দীর্ঘ ১৪ বছর পর জুটি গড়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্রোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ছবিটি দেখে ভীষণ মুগ্ধ হন প্রযোজক ও পরিচালক মহেশ ভাট। টুইটারে ছবির প্রশংসা করে তিনি লিখেছিলেন, অসাধারণ ভালোবাসার ছবি ‘প্রাক্তন’। যেখানে নারী ও পুরুষের সম্পর্কের আসল সত্যিটা লুকিয়ে আছে। সেই সঙ্গে বলিউডে ছবিটি নির্মাণের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। 

১৮ কোটি রুপিতে নাকি ছবিটির স্বত্ব কিনে নিয়েছেন মহেশ ভাট। ‘জালেবি’ শিরোনামে ছবির নির্মাণ কাজও চলছে। কিছুদিন আগে প্রকাশিত ছবির একটি পোস্টার নিয়ে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়।

ভূতের ভবিষ্যৎ

কলকাতার অত্যন্ত জনপ্রিয় ছবির একটি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’। এই ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেন পরমব্রত চট্রোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখার্জী ও সব্যসাচী চক্রবর্তীর মতো তারকারা। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবির ঈর্ষনীয় সাফল্য দেখে ছবিটি নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেন বলিউডের প্রযোজক রতন জৈন। 
রীতিমত সাত কোটি রুপিতে এই ছবির স্বত্ব কিনে নেন প্রযোজক রতন। এরপর ২০০৪ সালে বলিউডে ‘গ্যাং অব গোস্ট’ শিরোনামে ছবিটি নির্মাণ করেন পরিচালক সতীশ কৌশিক। জ্যাকি শ্রফ, মাহি গিল ও শারমান জোশির মতো অভিনেতারা থাকা সত্ত্বেও ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।

রাজকাহিনী

বাংলা ছবি ‘রাজকাহিনী’। ২০১৫ সালে পরিচালক সৃজিত মুখার্জী নির্মাণ করেন এই ছবিটি। জয়া আহসান, যিশু, আবীর ও ঋতুপর্ণা অভিনীত এই ছবিটি বলিউড পরিচালক মহেশ ভাটকে এতটাই মুগ্ধ করে যে, তিনি ১০ কোটি রুপিতে ছবির স্বত্ব কিনে নেন। 

বাংলা ভাষার ‘রাজকাহিনী’ হিন্দিতে তৈরি হয় ‘বেগম জান’ নামে। ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন বিদ্যা বালান। তবে ছবিটি প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। মুখ থুবড়ে পড়ে বক্স অফিসে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই