.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১২ শা'বান ১৪৪০

বাংলাদেশ আমার হৃদয়ে: শিল্পী সমিতিতে অঞ্জু

 প্রকাশিত: ২০:৩০ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:৪৪ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শিল্পী সমিতিতে অঞ্জু, ইলিয়াস কাঞ্চন, মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান

শিল্পী সমিতিতে অঞ্জু, ইলিয়াস কাঞ্চন, মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান

২২ বছর পর দেশে আসলেন, তাও বেড়াতে। পা দিলেন এক সময়ের কর্মস্থল, প্রিয় এফডিসিতে। মোটামুটি সবাই জানতেন আসছেন অঞ্জু ঘোষ, তাই শিল্পী সমিতির অফিসে আগেই পৌছে যান মিডিয়াকর্মীরা। আর ঘুরে ফিরে সবার মুখেই ছিল একটি কমন প্রশ্ন, দেশ ছেড়ে যাওয়ার আসল কারণ কী ছিল? 

অঞ্জু বেশ স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, দেশ ছাড়ার বিষয়ে তার কোনও অভিমান কিংবা ক্ষোভ নেই। তার ভাষায়, ‘কারো প্রতি কোনো দিন ক্ষোভ ছিলো না। ফলে বিশেষ কোনো কারণ কিংবা ব্যক্তির কারণে পালিয়ে যাইনি। কলকাতায় গিয়েছিলাম দুই দিনের জন্য, আর ফেরা হলো না। এর পেছনে অন্য কিছু নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটা আমার দেশ। এখানে নিঃশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছি। সেই নিঃশ্বাস নিয়েই বেঁচে এখনও আছি। যেখানেই থাকি বাংলাদেশ আমার হৃদয়ে আছে।’

নিজের তারকা জীবন প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারকা বলতে কিছু নেই। আমার কাছে মনে হয়, পৃথিবীতে যত রকমের শ্রমিক আছে সবচেয়ে বড় শ্রমিক আমরা, যারা শিল্পী। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। এটাও মনে রাখা দরকার, হাজার কোটি টাকা মানুষ আমাদের ওপর লগ্নি করে। প্রায় সাড়ে তিনশ ছবি করেছি। একবার ভাবুন, প্রযোজকরা আমার ওপর ভরসা করে কত বড় লগ্নি করেছেন? সেই ভরসার মূল্যটা তো ফেরত দিতে হবে। তাই নিজেকে তারকা ভাবিনি, শ্রমিক ভেবেছি সবসময়। আগেও শ্রমিক ছিলাম, এখনও আছি। এখনও পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’

দুই বাংলার সিনেমার চলমান বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন অঞ্জু। তিনি বলেন, মানুষ সিনেমা এখন আর দেখে না যা আমাদের সময়ে দেখতো। দুই বাংলাতেই সিনেমার অবস্থা খুব খারাপ। মানুষ এখন সিরিয়াল দেখে, সিনেমা না। এসব নিয়ে আমাদের ভাবা দরকার।’

অঞ্জু প্রায় এক ঘণ্টা ছিলেন শিল্পী সমিতিতে। জানালেন, এই সফরে তার মা'রও আসার কথা ছিল। ঢাকা সফর নিয়ে মা-মেরেয়র পরিকল্পনা ছিল বেশ। কিন্তু কদিন আগে মারা যান তিনি। অঞ্জু বললেন, ‘মায়ের কথা বেশি বললে কান্না আসবে। এই আনন্দদিনে কাঁদতে চাই না। ভালো লাগছে- মাতৃভূমিতে পা দিতে পেরেছি। এরচেয়ে বড় সুখ, বড় আনন্দ আর কিছুতে নেই। অনেক প্রবলেম হয়েছে আসতে। সব ভুলে গেছি। আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন।’

এর আগে আজ বেলা সাড়ে তিনটায় শিল্পী সমিতির অফিসে ফুলের মালা দিয়ে অঞ্জুকে বরণ করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর তার হাতে শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। এ সময় সঙ্গে ছিলেন সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। এই অনুষ্ঠানে সমিতির আজীবন সদস্য করে নেয়া হয় অঞ্জুকে। দুটি সিনেমার প্রস্তাবও পেয়েছেন, একটির নাম ‘জোসনা কেন বনবাসে’! আগামীকাল তিনি ফিরে যাবেন কলকাতায়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে অঞ্জু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভোলানাথ অপেরার হয়ে যাত্রায় নৃত্য পরিবেশন করতেন ও গান গাইতেন। তার আসল নাম অঞ্জলি ঘোষ। ১৯৮২ সালে এফ কবীর চৌধুরী পরিচালিত ‘সওদাগর’ সিনেমার মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে তুমুল সাফল্য পেলে রাতারাতি তারকা বনে যান তিনি। ১৯৮৭ সালে অঞ্জু সর্বাধিক ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেন যার অধিকাংশই ছিল ব্যবসাসফল। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমা হিসেবে বিবেচিত। ১৯৯১ সালে বাংলা চলচ্চিত্রে নব্বই দশকের শুরুর দিকে নতুনদের আগমন ঘটে চলচ্চিত্রে। প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে চেহারার আংশিক বদল ঘটানোর পর দর্শক, বিশেষ করে গ্রাম ও জেলা শহরগুলোর দর্শক তার ছবি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া শুরু করে। তখন কলকাতার সিনেমায় অনেকটাই নিয়মিত তিনি। কয়েক বছরের মাথায় পাকাপাকি ভাবেই চলে যান কলকাতায়। বর্তমানে তিনি কলকাতার বিশ্বভারতী অপেরার যাত্রাপালায় নিয়মিত অভিনয় করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসজেড