Alexa বাংলাওয়াশের গল্প 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ১ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

বাংলাওয়াশের গল্প 

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৩ ১০ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৮:১৪ ১০ অক্টোবর ২০১৯

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসর ৫০ ওভারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত এ আসরে সুযোগ পায় ক্রিকেট বিশ্বের সেরা দলগুলো। তবে বিশ্বকাপের সময় ছাড়া সারা বছর নিজেদের মাঝে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে থাকে বিভিন্ন দল। একেকটি ওয়ানডে সিরিজে ম্যাচ সংখ্যা হয় সাধারণত তিন থেকে পাঁচটি। ক্রিকেট খেলায় প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় পাওয়া কঠিন। সুতরাং একটি সিরিজের সব ম্যাচ জেতা নিঃসন্দেহে মর্যাদার। কোন দল এমন কিছু অর্জন করলে ক্রিকেটীয় পরিভাষায় ঘটনাটিকে বলা হয় হোয়াইটওয়াশ। বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীরা নিজ দেশের এমন অর্জনকে বাংলাওয়াশ হিসেবে অভিহিত করে থাকে। 

ক্রিকেটে এক সময় বাংলাদেশ ছিল বেশ ভঙ্গুর অবস্থানে। ম্যাচ খেলতে নামলে পরাজয় ছিল নিত্যসঙ্গী। পরাজয়ের ব্যবধান কম হলেই খুশি থাকতো ক্রিকেটভক্তরা। কোনো ম্যাচে দলের কেউ অর্ধশতক, শতক বা পাঁচ উইকেট পেলে সেটিই বড় অর্জন হিসেবে ধরে নিতো সবাই। সেসময় নিজেদের হোয়াইটওয়াশ হওয়া ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচ জিততে শুরু করে টাইগাররা। ম্যাচ জেতার অভ্যাস থেকে এক সময় প্রতিপক্ষকে সিরিজ হারাতে শুরু করে বাংলাদেশ। এগিয়ে যাওয়ার ধারায় প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জাও দেয় লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। 

ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য আজ থাকছে প্রতিপক্ষকে বাংলাওয়াশ করা সেই সিরিজগুলোর গল্প। 

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এখনো পর্যন্ত ২৭ বার প্রতিপক্ষের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে নিজেরা প্রতিপক্ষকে বাংলাওয়াশের লজ্জা দিয়েছে ১১ বার। 

প্রথমবারের মতো টাইগাররা হোয়াইটয়াশ করার স্বাদ পায় ২০০৬ সালে। ৪ ম্যাচের সিরিজের সবগুলোতেই প্রতিপক্ষ কেনিয়ার বিপক্ষে জয় পায় হাবিবুল বাশারের দল। বগুড়ায় সিরিজের প্রথম ম্যাচ ১৩১ রানের বড় ব্যবধানে জয়ের পর বাকি ম্যাচগুলো জিতে যায় যথাক্রমে ৯ উইকেট, ২০ রান ও ৭ উইকেটের ব্যবধানে।
 
একই দলের বিপক্ষে ফিরতি সফরে আবার হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। কেনিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ জয়লাভ করে যথাক্রমে ৬, ২ ও ৬ উইকেটের ব্যবধানে। 

টেস্ট খেলা দলগুলোর মাঝে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের হাতে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পায় জিম্বাবুয়ে। ২০০৬ সালে তৃতীয়বারের মতো এই অর্জন করে টাইগাররা, যা এক বছরে এখনো নিজেদের সর্বোচ্চ। ৯ উইকেটে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে জয়ের ব্যবধান ছিল যথাক্রমে ৬ উইকেট, ২৬ রান, ৮ উইকেট এবং ৩ উইকেট। 

চতুর্থবার বাংলাওয়াশের অভিজ্ঞতা পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় দুই বছর। আইরিশদের বিপক্ষে ২০০৮ সালের সিরিজে ৮ উইকেট, ৮৪ ও ৭৯ রানের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে মোহাম্মদ আশরাফুলের দল। পরের বছর উইন্ডিজ সফরে দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশের মাটিতে বাংলাওয়াশ করে সাকিব আল হাসানের দল। তবে টেস্ট খেলুড়ে দেশের মাটিতে এমন ফলাফল ছিল প্রথমবার। উইন্ডিজের দ্বিতীয় সারির দল হলেও সেসময়ের বিবেচনায় এটি ছিল দারুণ একটি অর্জন।

বাংলাওয়াশ কথাটির উৎপত্তি ঘটে ২০১০ সালের নিউজিল্যান্ড সিরিজে। সেবার শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে চার ম্যাচেই হারায় সাকিবের দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচ ৯ রানে জয়ের পর ৭ উইকেট এবং ৯ রানে পরের দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে মামুলি সংগ্রহ নিয়েও মিরপুরে রুবেল হোসেনের দারুণ বোলিংয়ে তিন রানে ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ। কাইল মিলসকে বোল্ড করে রুবেলের দৌড়ের সঙ্গে সঙ্গে ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান বাংলাওয়াশ শব্দটি উচ্চারণ করেন। মূলত এরপরই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হোয়াইটওয়াশের বদলে বাংলাওয়াশ শব্দের প্রচলন ঘটে।

তিন বছরের বিরতিতে পরবর্তী বাংলাওয়াশের শিকারও নিউজিল্যান্ড। তিন ম্যাচের সিরিজে ৪৩ ও ৪০ রানে প্রথম দুই ম্যাচ জয়ের পর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শেষ ম্যাচে চার বল থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ। 

২০১৪ সালটা বাংলাদেশের জন্য অপয়া বছর বললে ভুল হবে না। বছরের শুরু থেকে সবগুলো ম্যাচ হারতে থাকে টাইগাররা। হংকংয়ের মতো দলের কাছেও বিশ্বকাপে হারের মুখ দেখে মুশফিকের দল। বছরের শেষে অধিনায়কত্ব তুলে দেয়া হয় মাশরাফির হাতে। তার ছোঁয়াতেই বদলে যায় দল। অধিনায়কত্বের প্রথম সিরিজেই দলকে উপহার দেন বাংলাওয়াশ সহ সিরিজ জয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস পরবর্তীতে বিশ্বকাপেও দারুণভাবে কাজে লাগায় টাইগাররা। 

বিশ্বকাপের পরপরই বাংলাদেশ সফরে আসে পাকিস্তান। ১৬ বছরের জয়খরা ঘোচানোর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাওয়াশের লজ্জাও উপহার দেয় টাইগাররা। তিন ম্যাচের সিরিজে ৭৯ রান, ৭ উইকেট ও ৮ উইকেটের ব্যবধানই বুঝিয়ে দেয় কতটা দাপটের সঙ্গে খেলেছে বাংলাদেশ। 

একই বছরের শেষদিকে আরো একবার জিম্বাবুয়েকে বাংলাওয়াশ করে মাশরাফির দল। এ সিরিজেও দাপটের সঙ্গে সবগুলো ম্যাচে জেতে টাইগাররা। 

বাংলাওয়াশের সর্বশেষ শিকার দলটির নাম জিম্বাবুয়ে। ২০১৮ সালের সিরিজে ২৮ রান, ৭ উইকেট এবং ৭ উইকেটের ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা।

 

এগারোবার প্রতিপক্ষকে বাংলাওয়াশ করলেও সবচেয়ে বেশিবার এর শিকার হয়েছে জিম্বাবুয়ে। চারবার তাদেরকে এমন লজ্জা দিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া দুইবার করে টাইগারদের থাবায় কুপোকাত হয়েছে নিউজিল্যান্ড ও কেনিয়া। একবার করে হেরেছে পাকিস্তান, উইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড।

 

বিদেশের মাটিতে অবশ্য বাংলাদেশের পারফরমেন্স যথেষ্ট দুর্বল। এগারো বারের ভেতর মাত্র দুবার প্রতিপক্ষের মাঠে বাংলাওয়াশ করার অভিজ্ঞতা আছে টাইগারদের। সর্বশেষবার যা করেছিল দশ বছর আগে। নিজেদের প্রতিষ্ঠিত শক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে চাইলে প্রতিপক্ষের মাঠে এই খরা কাটানোর বিকল্প নেই লাল-সবুজদের সামনে।

একনজরে বাংলাওয়াশ সিরিজগুলো: 
 

প্রতিপক্ষ

স্বাগতিক দেশ

সিরিজের ফলাফল

সাল

কেনিয়া

বাংলাদেশ

৩-০

২০০৬

কেনিয়া

কেনিয়া

৩-০

২০০৬

জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশ

৫-০

২০০৬

আয়ারল্যান্ড

বাংলাদেশ

৩-০

২০০৮

উইন্ডিজ

উইন্ডিজ

৩-০

২০০৯

নিউজিল্যান্ড

বাংলাদেশ

৪-০

২০১০

নিউজিল্যান্ড

বাংলাদেশ

৩-০

২০১৩

জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশ

৫-০

২০১৪

পাকিস্তান

বাংলাদেশ

৩-০

২০১৫

জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশ

৩-০

২০১৫

জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশ

৩-০

২০১৮

একসময় নিয়মিত পরাজয়ের বদলে এখন সিরিজ জিততে শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রায়ই প্রতিপক্ষকে বাংলাওয়াশের শিকারও করছে। ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশি সমর্থকদের স্বপ্ন, একই ধারাবাহিকতায় একদিন টাইগাররা জিতবে বিশ্বকাপও! 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই