ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

বাঁহাতি হওয়ার বিশেষ যত সুবিধা

খাদিজা তুল কুবরা ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ১৮:৩৩ ১১ জুলাই ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পৃথিবীতে মাত্র শতকরা ১০ ভাগ মানুষ বাম হাতে লিখতে অভ্যস্ত। যারা বাঁ হাতে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে। কিন্তু এই মানুষগুলো নিয়ে মজার ব্যাপার হলো এদের এমন কিছু অদ্ভুত গুণ থাকে যেগুলো সাধারণ ১০ জনকে লক্ষ্য করলে পাওয়া মুশকিল।

বাঁহাতিরা নেতৃত্বের ভূমিকায় সফল হয় সবচেয়ে বেশি:
এস.রবার্ট হারবাস্ট কলম্বিয়ার বাঁহাতি আইনজীবি, মোটিভেশনাল স্পিকার বলেন, "আমি যখন কলম্বিয়ার সবচেয়ে ভালো আইন কলেজে ভর্তি হলাম, আমি লক্ষ্য করলাম ওখানকার বেশ বড় অংশের শিক্ষার্থীই বাঁ হাতে লিখে।

আমার মনে হলো সম্ভবত বাঁহাতিদের ব্রেইনের ডান অংশটা বেশ ক্লিয়ার অথবা ক্রিয়েটিভ থাকে। তাদের ল্যাংগুয়েজ স্কিল বাকি সবার চেয়ে আলাদা থাকে। বিশ্লেষণ ক্ষমতা প্রখর থাকে। যেগুলো মূলত একজন আইনজীবীকে তার কাজে অনেকটুকু এগিয়ে দিবে।

রবার্ট বেশ কিছুদিন ঈগল স্কাউটে ছিলেন। "সেখানেও কিছু বাঁহাতি মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিলো। এবং বলাই বাহুল্য তাদের ক্রিয়েটিভিটি বাকি সবার থেকে ছিলো আলাদা। সম্ভবত বাঁহাতিরা লিডারশীপে সবচেয়ে ভালো করে। গবেষণায় দেখা গেছে তাদের লক্ষ্যে তারা পৌঁছায় সবচেয়ে কম বয়সে।

বাঁহাতিরা উপার্জন করে বেশি:
অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রুব্যাক এক গবেষণায় বলেন যে, বাঁহাতিরা সামান্য মাত্রায় ডানহাতিদের তুলনায় বেশি টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হয়। যদিও দুজন একই অফিসে একই জব করে। গবেষণার ফলাফলে খুব স্পষ্ট ভাবে দেখা গিয়েছে একজন শিক্ষিত বাঁহাতি প্রায় ১৫% বেশি আয় করে ডানহাতি কারোর তুলনায়।

বাঁহাতিরা বেশিরভাগ সব্যসাচী অর্থাৎ দুই হাত সমান ভাবে চালাতে সক্ষম:
লস এঞ্জেলের পাবলিক রিলেশন্স স্পেশালিষ্ট আর্নেস্টাইন স্কালাফানি বলেন, " বেশ ক`বছর ধরে আমি লক্ষ্য করেছি আমাকে আসলে সব কাজে অপূর্ব কুশলী হতে হচ্ছে। কারণ না হয়ে উপায় নেই। আমার কাজের গতি আমাকে দুই হাতে কাজ সামলাতে বাধ্য করে। আমি লক্ষ্য করে দেখেছি দুই হাত সমান ভাবে চালালে আমাদের অনেক কাজ সহজ আর দ্রুততর হয়ে উঠে।" প্রত্যেক মুহূর্তে চলমান এই পৃথিবীতে আসলে থেমে থাকার উপায় নেই।

গবেষণায় দেখা যায় যে, গলফ খেলায় ডানহাতিদের তুলনায় বাঁহাতিরা সবচেয়ে দ্রুত এই খেলায় পারদর্শিতা অর্জন করে। বর্তমানে বাঁহাতিদের নিয়ে অনেক পরিকল্পনা, সচেতনতা এবং বিভিন্ন ধরণের কাজকর্ম বৃদ্ধি পাচ্ছে যা তাদের মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। কিন্তু সব্যসাচী হওয়া বিনা বাক্যে একটি অসাধারণ গুণ। যেটি যেকোনো কাজ সহজে করে ফেলতে সহায়তা করে।

মিশিগানের কালোমোজ শহরের রিয়ামেস ফিনানশিয়ালের কর্তৃপক্ষ ফিল রিয়ামেস বলেন, "বাঁহাতি হওয়ার সবচেয়ে বড় উপকারটি হলো ডানহাতিদের তুলনায় আমি আমার কাজে বেশি কৌশলী। আমি অনেক কাজ একই সাথে করতে পারি যেটি একজন ডানহাতি করতে পারেনা। আমি যখন বেসবল খেলি, সেটি আমি হাত পরিবর্তন করে খেলতে পারি। ডান হাতে আমি একটা কাজ পারি না শুধু। আমার লিখতে হয় শুধু বাম হাত দিয়ে।"

বাঁহাতিরা চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে:
একজন বাঁহাতি কর্তৃপক্ষ কিম মারফি বলেন, আমি নিজেকে যখন স্নেহ করি আমার ক্রিয়েটিভিটির জন্য, আমি খেয়াল করলে বুঝতে পারি যে, পৃথিবীর সব সুযোগ সুবিধাগুলো আসলে ডানহাতিদের জন্য করা হয়েছে। আমি যখন গবেষণার কাজে লাইব্রেরিতে যেতাম দেখতাম যে কম্পিউটারগুলো সব ডানহাতিদের জন্য তৈরি করা। খুব কম পরিমাণ কম্পিউটার বাঁহাতিদের জন্য ছিলো।

অনেক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও আমার নিজের ভিন্নতাকে আমি সবসময় রেসপেক্ট করি। সবার চাইতে আলাদা থাকতে আমার বরং ভালোই লাগতো। বাঁহাতিদের সবচেয়ে বড় গুণ বলা যেতে পারে এটাকে। বাঁহাতিরা সবসময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। তাদের জটিল কাজগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই কাজ করতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে