‘বাঁশ’ দিয়ে তৈরি সুস্বাদু তিন পদ

ঢাকা, বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১২ ১৪২৭,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

‘বাঁশ’ দিয়ে তৈরি সুস্বাদু তিন পদ

আঁখি আক্তার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৫ ২৬ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কি শিরোনাম দেখেই হাস্যকর লাগছে? বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, বিশ্বে প্রতিবছর বাঁশখাদক লোকদের কাছে বাঁশের কোঁড়লের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৫০ হাজার টন।

বাঁশের কোঁড়ল শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামেই নয়, সিলেটেও সমান জনপ্রিয়। তবে বিশ্বে বাঁশের কোঁড়ল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় জাপানে। বিশ্ব বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ বাঁশের কোঁড়লের ক্রেতা জাপান। আর সবচেয়ে বেশি বাঁশের কোঁড়ল উৎপন্ন হয় চীনে। চীন প্রতিবছর বিশ্বের ৩৭টি দেশে গড়ে ১৩৭ হাজার টন টিনজাত বা প্যাকেটজাত বাঁশের কোঁড়ল রপ্তানি করে থাকে। কোরিয়া,  জাপান, হংকং, সিঙ্গাপুর, জার্মানী, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন প্রভৃতি দেশে বাঁশের কোঁড়লের প্রচুর চাহিদা ও বাজার রয়েছে। এসব দেশ ছাড়া ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশেও বাঁশের কোঁড়ল জনপ্রিয় খাদ্য।

চীনারা বাঁশের কোড়লকে বলেন ‘স্বাস্থ্যকর খাবারের রাজা।’ তাজা বাঁশের কোঁড়লে ৮৮-৯৩% পানি, ১.৫-৪% প্রোটিন, ০.২৫-০.৯৫% চর্বি, ০.৭৮-৫.৮৬% চিনি, ০.৬০-১.৩৪% সেলুলোজ এবং ১.১% খনিজ পদার্থ আছে। ভিটামিনও আছে।

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে যে বাঁশের কোঁড়ল দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমায় ও ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, হাঁপানী, ডায়াবেটিস, তীব্র জ্বর, মৃগি রোগে মূর্ছা যাওয়া ইত্যাদি নিরাময়েও যথেষ্ট অবদান রাখে। তাই যেকোনো সবজির সঙ্গে তুলনা করলে বাঁশের কোঁড়ল কোনোভাবেই হেলাফেলার নয়।

তবে একে অপরকে ক্ষতি করার ক্ষেত্রেই অথবা উপহাস করে হলেও প্রচলিত জনপ্রিয় ধারার শব্দ বাঁশ। অথচ আমাদের দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে বাঁশ খুবই সুস্বাদু একটি খাবার। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক বাঁশের তৈরি তিনটি মজাদার রেসিপি-

বাঁশ ভাজি
পাহাড়ি এলাকায় বাঁশ তাদের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। বাঁশের কোঁড়ল হিসেবে পরিচিত এই কচি বাঁশ গুলো। সাধারণ ভাজির মতো করেই রান্না করা হয় এই বাঁশের কোঁড়ল।

বাঁশ এর তৈরি ডাল
ডাল তো সবাই ই খাই। তবে পাহাড়ি এলাকায় ডাল গুলো বাঁশ দিয়ে রান্না করা হয়। বাশেঁর নরম কোড়ল ছোট ছোট করে কেটে ডালের সঙ্গে রান্না করা হয়। এতে ডালের স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা আসে।

বাঁশ মুরগির তরকারি
পাহাড়িদের অন্যতম বিশেষ খাবার হচ্ছে ব্যাম্বু চিকেন অথবা বাঁশ মুরগি। রান্নার প্রক্রিয়া ও স্বাদের ভিন্নতার কারণে এই খাবারটি বেশ জনপ্রিয়। পাহাড়ি বা দেশি মুরগির সঙ্গে আদা বাটা, রসুন, ধনিয়া পাতা আর পাহাড়ের এক ধরণের বিশেষ পাতার সংমিশ্রণে রান্না করা হয় এই বাঁশ মুরগি। লম্বা বাঁশের মধ্যে মুরগির মিশ্রণ ভিতরে ঢুকিয়ে তা কয়লার মধ্যে রান্না করা হয়। এরপর গরম গরম পরিবেশন করা হয় এই মজাদার খাবারটি। পরিবেশনও করা হয় চিকন বাঁশের মধ্যে।

বাঁশ কেউ খেতে চায় না, কিন্তু পাহাড়ি অঞ্চলের এমন বাঁশ খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ