বহির্জাগতিক আক্রমণ ।। স্টিফেন মিল হসার

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

বহির্জাগতিক আক্রমণ ।। স্টিফেন মিল হসার

অনু্বাদ: মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৭ ২২ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৫ ২২ মার্চ ২০২০

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

প্রথম থেকেই আমরা প্রস্তুত ছিলাম। আমরা জানতাম যে, আমাদের কি করতে হবে। কারণ ওটাকে আমরা প্রত্যেকেই অন্তত একশত বার করে দেখেছিলাম। শহরের মানুষেরা কাজে যাচ্ছিল। হঠাৎ টেলিভিশনের চলমান অনুষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেল। মানুষেরা ভিড় থেকে উপরের দিকে তাকাল। ছোট্ট একটি বালিকা আকাশের দিকে আঙুল তুলল। বিস্ময়ে সবার মুখ হা হয়ে গেল। কুকুরগুলো সমস্বরে চিৎকার করতে লাগল। পথচারীদের হাত থেকে বাজার করার থলেগুলো রাস্তার উপরে পড়ে গেল। এবং আকাশের ভেতরে দেখা গেল সেটা এগিয়ে আসছে।

... সুতরাং শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি ঘটল। কারণ, ঘটারই কথা ছিল। আমরা সবাই জানতাম যে, এই সংঘটন শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। ফলে আমরা ঔৎসুক্য ও আতঙ্কের মধ্যেও একটা নিশ্চিত শান্তভাব ও পারস্পারিক বোঝাপড়া অনুভব করলাম। আমরা এটাও জানতাম যে, এই ধরণের মুহূর্তে এটাই প্রয়োজন।

খবরটি বের হলো সকাল দশটার কিছু সময় পরে। টেলিভিশনের সংবাদ পাঠিকাদের দেখাচ্ছিল, ঠিক যেমন দেখাবে বলে আমরা জানতাম। তাদের সবার মুখে একটা জরুরি ভাব ছিল। তাদের মাথার চুলগুলো সুবিন্যস্ত ছিল। উত্তেজিত থাকার কারণে তাদের কাঁধগুলো মৃদু কাঁপছিল। তারা আমাদের ভয়ের কথা শুনাছিলেন। একইসঙ্গে আমাদের নিশ্চিত করছিলেন যে, সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে আছে। কারণ তারা নিজেরাও এই ঘটনার জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। বলতে গেলে বলা যায়, তারাও ঘটনাটি ঘটার অপেক্ষায় ছিলেন এবং এই মহার্ঘ মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন।

দেখার বিষয়টি ছিল একইসঙ্গে তর্কাতীত, কিন্তু মিমাংশাহীন। কিছু একটা দেখা গেছে, যেটা আমাদের আকাশমণ্ডলের দিকে বিশাল বেগে ছুটে আসছে। পেন্টাগণও ঘনিষ্ঠভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ জরছে। আমাদেরকে বলা হলো শান্ত থাকতে, ঘরের ভেতরে থাকতে, এবং আরো নির্দেশাবলীর জন্যে অপেক্ষা করতে। আমাদের কেউ কেউ তাৎক্ষণিকভাবে কাজ পরিত্যাগ করল এবং বাড়ির দিকে ছুটল। পরিবারের উদ্দেশ্যে। অন্যেরা টেলিভিশন, রেডিও, কম্পিউটারের পাশে নিবিড় হয়ে বসল। আমরা সবাই আমাদের মোবাইল ফোনে কথা বলছিলাম। আমাদের জানালা দিয়ে দেখতে পাচ্ছিলাম জানালার ভেতর দিকে সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। সারা সকাল ধরে আমরা খবরগুলো অনুসরণ করলাম। ভীষণ মনোযোগ সহকারে। ঠিক যেমনভাবে শিশুরা অন্ধকারে বিদ্যুৎ চমকানোর আওয়াজ শুনে থাকে।

জিনিসটা এখন পর্যন্ত অচেনা। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত ওটার প্রকৃতি নিরূপণ করতে সক্ষম হননি। সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে, তবে একইসঙ্গে বলা হচ্ছিল আতঙ্কিত না হতে বলা হয়েছে। আমাদের কাজ হল ঘটনার সঙ্গে থাকা, কোনভাবেই বিচলিত না হওয়া এবং ঘটনার ক্রমবিকাশ না উন্নয়নের জন্যে অপেক্ষা করা।

এবং যদিও আমরা সকলেই উদ্বিগ্ন ছিলাম, যদিও আমাদের শরীরের ভেতর দিয়ে সেই উদ্বিগ্নতা প্রবাহিত হচ্ছিল, ইঁদুরের মত, তথাপি আমরা সকলেই দেখতে চাচ্ছিলাম জিনিসটাকে। যাই হোক না কেন তা। কারণ, সেটা আসলে আমাদের দিকেই অগ্রসর হচ্ছিল। ঠিক যেন, আমাদেরকেই পছন্দ করেছে। আকাশের অন্যপিঠ হতে।

ইতিমধ্যেই বলা হচ্ছিল যে, আমাদের শহর হল সেটার সম্ভাব্য অবতরণস্থল। টেলিভিশন ক্রুরা দলে দলে আগমন করছিল। আমরা ভাবছিলাম কোথায় ওটা অবতরণ করতে পারে। রাজহাঁসের পুকুর ও পাবলিক পার্কের করাতকলের মধ্যবর্তী স্থানে? নাকি মলের পাশের সেই বিশাল মাঠটিতে, যেখানে নতুন করে খনন কাজ চলছে পুরাতন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের উপরে নতুন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর নির্মাণ করার জন্যে, মূল সড়কের উপরে? নাকি Mangione’s Pizza and Café উপরের দ্বিতীয় ফ্লোরের এপার্টমেন্টগুলোর উপরে এসে ভেঙ্গে পড়বে সেটা , ইট ও কাঁচগুলোকে বিচূর্ণ করে দিয়ে? অথবা এমনও হতে পারে যে, মহাসড়কের উপরে আছড়ে পড়তে পারে, যখন আমরা দেখতে পাব আঠার চাকার গাড়িগুলো উল্টে যাচ্ছে, বিশাল বিশাল ফুটপাথগুলো তীক্ষ্ণ কোণে উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে এবং গাড়ির পরে গাড়ি আচমকা দিক বদলে সিঁড়ির পাশের রেলিং টপকে বাঁধের উপরে আছড়ে পড়ছে।

দুপুর একটার কিছু পূর্বে কিছু একটা আকাশের ভেতরে দৃশ্যমান হলো। অনেকেই তখন লাঞ্চ করছিলাম। অন্যরা ইতিমধ্যেই বাইরে চলে গিয়ে রাস্তা ও ফুটপাতের উপরে দাঁড়িয়েছিল। নিশ্চলভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে। তাদের প্রবল চিৎকার চেঁচামেচি, আকাশের পানে উত্থিত হাত, ও অনিয়ন্ত্রিত অঙ্গভঙ্গি দেখা যাচ্ছিল।

এবং নিশ্চিভাবেই আকাশের ভেতরে কিছু একটা জ্বলছিল। গ্রীষ্মের নীল আকাশের ভেতরে। ধিকিধিকি করে। আমরা সবাই সেটাকে স্পষ্ট দেখতে পেলাম, তা সেটা যাই হোক না কেন। অফিসের সেক্রেটারিরা জানালার দিকে দৌড়ে গেল। দোকানদাররা তাদের ক্যাশ রেজিস্টার ফেলে দ্রুত বাইরে ছুটে গেল। কমলা রঙের হ্যাট পরা রাস্তার নির্মাণকর্মীরা পিচের উপর থেকে উপরের দিকে তাকাল। সেই দূরবর্তী আলোর আভাটি তিন হতে চার মিনিটকাল স্থায়ী হল। তারপর সেটা বড় হতে লাগল। যতক্ষণ পর্যন্ত না সেটা বাসস্থানের মত বৃহৎ ও স্থির হল। তারপর হঠাৎ করে পুরো আকাশ সোনালী বিন্দুতে ভরে গেল এবং সেটা আমাদের দিকে নেমে আসতে লাগল। মসৃণ পরাগ ও হলুদ ধূলি হিসেবে। আমাদের ছাঁদের ঢালুগুলোতে জমা হতে থাকল। আমাদের জামার হাতাগুলোকে এবং গাড়িগুলোর উপরিভাগকে আবৃত করে ফেলল। আমরা বুঝতেই পারলাম না এর অর্থ কী হতে পারে।

প্রায় তের মিনিট ধরে এই হলুদ ধূলিকণাগুলো বর্ষিত হল। এই সময়ে আমরা আকাশ দেখতে পাচ্ছিলাম না। অতঃপর সেটা শেষ হয়ে গেল। সূর্য দেখা দিল। আকাশ নীল বর্ণ ধারণ করল। এই পুরো বর্ষনের সময়ে আমাদেরকে বলা হয়েছিল ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে, সতর্ক থাকতে এবং পৃথিবীর বাইরে হতে আসা পদার্থগুলো স্পর্শ না করতে। কিন্তু সেটা এতই দ্রুত ঘটে গেল যে, আমাদের বেশিরভাগের জামা ও মাথার উপরে হলুদের আস্তরণ জমে গেল।

সতর্কতার পর আমরা আশ্বাসের বাণী শুনতে পেলাম। প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গেছে যে, কণাগুলো বিষাক্ত নয়। যদিও হলুদ ধুলোগুলোর প্রকৃতি এখনও অজ্ঞাতই রয়ে গেছে। পশুরা সেগুলো খেয়েছে, এবং তাদের ভেতরে কোনো বিশেষ উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়নি। আমাদেরকে বলা হল সেগুলো থেকে দূরে থাকতে এবং আরো নিরীক্ষার ফলাফলের জন্যে অপেক্ষা করতে। এই সময়ে সেগুলো আমাদের লন, ফুটপাত ও বাসস্থানের সামনে ছড়িয়ে যেতে লাগল। আমাদের ম্যাপল গাছ ও টেলিফোনের খুঁটিগুলোকে আবৃত করে ফেলল। আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিল প্রথম তুষারপাতের পর সকালের ভ্রমণের কথা।

ঝুল বারান্দা থেকে আমরা দেখলাম সুইপারগণ ধীরে ধীরে রাস্তার উপরে উঠে আসছে। বিশাল বিশাল কনটেইনারে করে সেগুলোকে নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরা জলসেচন পাইপ দিয়ে বাসস্থানের সামনের ঘাস, বারান্দার আসবাবপত্র এবং ফ্রন্ট ওয়াকগুলো পরিষ্কার করলাম। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলাম এবং আরো খবরের অপেক্ষা করতে থাকলাম। ইতিমধ্যেই আমরা বিভিন্ন খবরে শুনতে পাচ্ছিলাম যে, পদার্থগুলো এককোষী প্রাণী। এবং এটা জানার পর আমাদের হতাশা বাড়তে লাগল।

আমরা চেয়েছিলাম, আমরা চেয়েছিলাম– কে জানত যে আমরা কি অনুসন্ধান করছিলাম? আমরা চেয়েছিলাম রক্ত, চূর্ণ হয়ে যাওয়া হাড় এবং নিদারুণ যন্ত্রণা। আমরা চেয়েছিলাম ইমারতগুলো ধ্বসে পড়ুক সড়কের উপরে। গাড়িগুলো উজ্জ্বল শিখা হয়ে বিস্ফোরিত হোক। আমরা চেয়েছিলাম আমাদেরই দৈত্যাকার রূপ এবং খড়ের মত লম্বা গলার উপরে আমাদের মস্তক দেখতে। আমরা দেখতে চেয়েছিলাম মৃত্যুর পরোয়ানা হাতে নিষ্ঠুর দয়াহীন রোবট। আমরা চেয়েছিলাম জগতের সকল দয়ালু, কোমল দৃষ্টির ঈশ্বরদেরকে দেখতে, যারা পৃথিবীতে গৌরবোজ্জ্বল যুগের সূচনা করবেন। আমরা চেয়েছিলাম একইসঙ্গে আতঙ্ক ও পরমানন্দ। অথবা এরকমের কিছু। আমরা কখনই হলুদ ধূলিকণা চাইনি। এটা কি আসলেই কোনো আক্রমণ?

সেদিন বিকেলে আমরা জানতে পারলাম যে, বিজ্ঞানীরা সর্বসম্মতভাবে এটাকে জীবন্ত জীব হিসেবে মেনে নিয়েছেন। নমুনাগুলোকে উড়োজাহাজে করে বোস্টন, ওয়াশিংটন, ডিসি’তে প্রেরণ করা হল। এক-কোষী জীবগুলোর বিষয়ে বলা হল যে, এগুলো ক্ষতিকর নয়, যদিও আমাদেরকে সতর্ক করা হলো কোনকিছুকে স্পর্শ না করতে। জানালাগুলোকে বন্ধ রাখতে। এবং সবার হাত ধুতে। এদের কোষগুলো বাইনারি ফিশন পদ্ধতিতে বংশ বৃদ্ধি করে। শুধুমাত্র নিজেদের সংখ্যাবৃদ্ধি করা ছাড়া তারা কিছুই করে না।

সকালে আমরা হলুদ ধূলিতে আবৃত এক পৃথিবীতে জেগে উঠলাম। সেগুলো আমাদের কাঁটাতারের বেড়ার উপরে, টেলিফোন পোলের ক্রসবারের উপরে জমে ছিল। হলুদ রাস্তাগুলোর উপরে কাল টায়ারের ছাপ দেখা গেল। পাখিরা পাখা ঝেড়ে হলুদ গুড়াগুলোকে ছড়াচ্ছিল। আবার রাস্তার সুইপাররা আসল। তাদের হোসপাইপ থেকে লন এবং ড্রাইভওয়ের উপরে জলের ছিটা দিয়ে হলুদ কুয়াশা সৃষ্টি করল এবং সেগুলোর নিচ থেকে কাল ও সবুজ প্রকাশ করল। এক ঘন্টার মধ্যেই ড্রাইভওয়েগুলো এবং লনগুলো দেখতে হলুদ প্রান্তরের মত হল। হলুদের রেখা ক্যাবললাইন ও টেলিফোনের তার ধরে দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হল।

খবরে জানা গেল এই এককোষী জীবগুলো মাইক্রো-অরগানিজম। এগুলো দেখতে রড-আকৃতির এবং আলোক-সংশ্লেষণ (photosynthesis) পদ্ধতিতে তারা নিজেদের পুষ্টিসাধন করে থাকে। এই এককোষী জীবকে টেস্ট টিউবের ভেতরে স্থাপন করলে তারা উজ্জলভাবে জ্বলতে থাকে। নিজেদেরকে তারা এমনভাবে বিভক্ত করে যে, একটা টিউবকে তারা চল্লিশ মিনিটের ভেতরে ভরে ফেলে। এভাবে তারা ছয় ঘণ্টা সময়ের ভেতরে একটা পূর্ণ আলোতে উজ্জ্বল করে দেয়। এই জীবকে আমাদের পরিচিত ক্লাসিফিকেশন সিস্টেমে ফেলা যায় না। যদিও তাদেরকে কিছুটা নীল-সবুজ- শেওলার (blue-green algae) মত লাগে। কোনো প্রমাণই পাওয়া যায়নি যে, তারা মানুষ বা পশুদের কোনো ক্ষতি করতে সক্ষম।

আমাদেরকে যারা আক্রমণ করেছে তারা কিছুই নয়। শুধুমাত্র শূন্যতা ও জড় ধূলি ছাড়া। আক্রমণকারীর শুধুমাত্র দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারা ছাড়া আর কোনো বৈশিষ্টই নেই। তারা আমাদেরকে ঘৃণা করে না। তারা আমাদের হাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে চায় না। আমাদের পরাধীনতা ও অপমানও তারা চায় না। এমনকি তারা আমাদেরকে কোনো বিপদ থেকেও রক্ষা করতে বা আমাদেরকে অমর জীবনের গোপন কথা শিক্ষা দিতে চায় না। তারা চায় শুধুমাত্র সংখ্যায় বাড়তে। ভবিষ্যতে হয়ত আমরা এই প্রাচীন ধরণের শত্রুর বিস্তারকে রোধ করতে এবং এক সময়ে সম্পূর্ণরূপে তাদেরকে বিনাশ করতে সমর্থ হব। এটাও সম্ভব হতে পারে যে, এই কাজে আমরা ব্যর্থ হতে পারি। সেক্ষেত্রে আমাদের শহর এক সময়ে তাদের ক্রমবর্ধমান ভয়ঙ্কর সংখ্যার নিচে বিলীন হয়ে যাবে।

প্রতিদিনের রিপোর্ট অনুসরণ করে আমাদের ভেতরে একটা অনুভূতির জন্ম নেয়। সেটা হলো আমাদের কিছু একটা করা উচিত, যা আমাদের আরো মহীয়ান, রোমাঞ্চকর, সতেজ ও হিংস্র রূপ দেবে। যেটাকে উদঘাটন (revelation) বা নিয়তি বলেও অভিহিত করা যাবে। আমরা আমাদেরকে কল্পনা করি একটা কাঁত হয়ে যাওয়া স্পেসশীপের চারদিকে অপেক্ষমাণ হিসেবে, যারা সেটার দরজা খুলে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। আমরা আমাদেরকে কল্পনা করি যে, আমরা আমাদের সন্তানদের রক্ষা করছি কর্ষিকার (tentacles) আস্ফালন দিয়ে, যেগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত জানালার ভেতর দিয়ে নাচছে।

বাস্তবে আমরা আমাদের ফ্রন্টওয়াকগুলো ঝাড়ু দেই, আমাদের বারান্দাগুলো হোসপাইপের জল দিয়ে সিঞ্চন করি, আমাদের জুতো ও স্নিকারগুলোকে প্রদর্শন করি। আক্রমণকারীরা আমাদের গৃহের ভেতরে প্রবেশ করেছে। আমাদের টানা শেড ও বন্ধ পর্দা স্বত্বেও তারা আমাদের টেবিল ও উইন্ডোসিলের উপরে ঘন আবরণ সৃষ্টি করেছে। সেগুলো আমাদের ফ্ল্যাট-স্ক্রিন টেলিভিশন এবং তাকে রাখা ডিভিডির উপরে জমে আছে।

জানালার ভেতর দিয়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি হলুদ ধূলিতে সবকিছুই ঢেকে আছে। দেখতে মনে হচ্ছে ফসলের মাঠের উপরের দোলায়মান মৃদু ঢেউয়ের মত। আমরা বুঝতে পারি যে, সেগুলো ক্রমশ ফুলে উঠছে। ভেজা পাউরুটির মত। এখানে-সেখানে সূর্যের আলো পড়ে আছে। মুহূর্তের ভেতরে আমাদেরকে সেগুলো আমাদেরকে গমক্ষেতের কথা মনে করিয়ে দেয়।

বিষয়টা আসলেই প্রশান্তিকর।

ছবিঃ আন্তর্জাল

মূলঃ The Invasion from Outer Space

লেখকঃ স্টিফেন মিল হসার (Steven Millhauser)

অনুবাদঃ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ ( ছবিঘর আসাদ )

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর