বসলো ২৯তম স্প্যান, দৃশ্যমান পদ্মাসেতুর সাড়ে চার কিলোমিটার

ঢাকা, রোববার   ৩১ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭,   ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

বসলো ২৯তম স্প্যান, দৃশ্যমান পদ্মাসেতুর সাড়ে চার কিলোমিটার

নাদিম হোসাইন, মুন্সিগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৫৮ ৪ মে ২০২০   আপডেট: ১৩:২৭ ৪ মে ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সোমবার পদ্মাসেতুর ২৯তম স্প্যান বসেছে। সেতুর ১৯ ও ২০ নম্বর পিলারের উপর ‘ফোর-এ’ নামে এ স্প্যানটি বসানোয় দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতুর ৪ হাজার ৩৫০ মিটার অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল সেতুর ২৮তম স্প্যান বসানো হয়।

রোববার সকাল ৮টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কন্সট্রাক্টশন ইয়ার্ড থেকে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি নিয়ে সেতুর নির্ধারিত পিলারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই। পরে ঘণ্টা খানেকের মধ্যে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের পিলারের কাছে নিয়ে স্প্যানটি রাখা হয়।

পদ্মাসেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এ খবর নিশ্চিত করে জানান, স্প্যান বহনকারী ক্রেনটি ১৯ ও ২০ নম্বর পিলারের কাছে নোঙর করে রাখা হয়েছিল। সোমবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে স্প্যানটি বসানো হয়।

মার্চ মাস থেকে বিকেলের দিকে নদীর আবহাওয়া খারাপ থাকে। তাই স্প্যান বসানোর জন্য দুইদিন করে সময় ধরা হয়েছে। এই স্প্যানটি বসানোর ফলে সেতুর ৪ হাজার ৩৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো।

প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, এরমধ্যে সেতুর ২৯৪টি পাইল ও ৪২টি পিলারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে মাওয়া প্রান্তে স্থাপন করা হয়েছে ১০টি, নদীর মাঝে স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে ১টি, জাজিরা প্রান্তে স্থাপন করা হয়েছে ১৮টি, অর্থাৎ মোট ২৯টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। আর বাকি থাকলো ১২টি স্প্যান। সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে মাওয়া এসেছে ৩৯টি। যার মধ্যে ২৯টি স্থাপন করা হয়েছে এবং ১০টি মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ওয়েল্ডিং, অ্যাসেম্বলি ও পেইন্টিং এর কাজ চলছে। বাকি ২টি স্প্যান যা মিলে ২৩০টি নোড/কর্ড অংশ, এরমধ্যে ১৯৩ চীন হতে মংলা বন্দরে পৌঁছেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাওয়া পৌঁছে যাবে আশা করা যায়। অবশিষ্ট সর্বশেষ ৩৭টি নোড/কর্ড অংশ চীনে তৈরি শেষে শিনহোয়াংডাও বন্দরে লোডিং হচ্ছে এবং তা ৫ মে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে এবং জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে মাওয়া পৌঁছাবে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশসাধারণত পদ্মায় প্রতি বছর বর্ষাকালে উজান থেকে প্রচুর পলি (প্রায় ২ বিলিয়ন টন পলি/সেডিমেন্ট) এসে মূল সেতুর পিলার ১৭-৩৮ পর্যন্ত খননকৃত চ্যানেল বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী শুষ্ক মৌসুমে সেতুর জাজিরা প্রান্তে ড্রেজিং জটিলতা এড়ানোর জন্য পরবর্তী স্প্যান দুটি যত দ্রুত সম্ভব (৩০ জুনের আগেই) এ মৌসুমেই পিলার ২৬-২৭-২৮ এর ওপর স্থাপন করা হবে। এ সিডিউল মেনে স্প্যান বসাতে পারলে আগামী বছরের জুলাই নাগাদ ৪১টি স্প্যান বসানো শেষ হবে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আগামী বছরই খুলে দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম