বশিরার বুকে হাসি

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১১ শাওয়াল ১৪৪০

বশিরার বুকে হাসি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ০২:২১ ৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ০২:২৩ ৯ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে পলি জমে দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকা বশিরা নদীতে খনন কাজ শুরু হয়েছে। দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ও আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের এমন পদক্ষেপে খুশি উপজেলার মানুষ।

বশিরা নদী খননে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। নদীর ১৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার খনন করা হবে। একইসঙ্গে ১৪ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ তৈরি করা হবে। থাকবে একটি রেগুলেটার এবং একটি কজ ওয়ে। কজ ওয়ের ফলে নৌকা চলাচলের জন্য কোন বাধ কাটতে হবে না। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগাম বন্যা থেকে রক্ষা পাবে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল। পাশাপাশি সেচের আওতায় আসবে ৭ হাজার হেক্টর জমি।

আজমিরীগঞ্জের আন্দপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আউয়াল বলেন, বশিরা নদী খনন হলে সহজেই জমিতে সেচ দিতে পারবো। ধান উৎপাদনে খরচ কমে যাবে। নদী, হাওরে মাছের উৎপাদন বাড়বে। বন্যায় ফসলি জমি রক্ষা পাবে।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুন নুর বলেন, বশিরা নদী খনন করায় অনেক পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরবে। নদী ভরাট হওয়ায় অনেকেই শহরে চলে গেছেন। এখন আর কেউ শহরে না গিয়ে এলাকায় থেকে কাজ করার চেষ্টা করবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আমরা আবার ফসল আবাদ করতে পারবো।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, বশিরা নদী ভরাটের কারণে আগাম বন্যায় হাওরের পাকা ফসল তলিয়ে গেছে। জমি সেচে ব্যয় কতো লাখ লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে একর প্রতি জমিতে সেচের খরচ হবে ৮০০-১০০০ টাকা। বাড়বে মাছের উৎপাদন। শুকনো মৌসুমে সেচের জন্য পানির অভাব হবে না। ধান উৎপাদনে খরচও কমবে। এ প্রকল্পে হবিগঞ্জের অন্তত ৫০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর