Alexa বলিউডের সারপ্রাইজ হিট সিনেমাগুলো

ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১১ ১৪২৬,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

বলিউডের সারপ্রাইজ হিট সিনেমাগুলো

 প্রকাশিত: ১৪:০৩ ২০ ডিসেম্বর ২০১৭  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বলিউড এ বছর বার বার সারপ্রাইজ হয়েছে। বড় স্টারদের প্রতিক্ষিত সিনেমাগুলো যেখানে ব্যর্থ, সেখানে কম বাজেটের সিনেমা সারা বছরই ছিল আলোচনায়। যেমন ছিল ব্যাবসায়িকভাবে সফল, তেমনি ছিল প্রশংসিত। তেমনই কয়েকটি সিনেমা নিয়ে আজকের প্রতিবেদন:

হিন্দি মিডিয়াম
২৩ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি আয় করেছে ১০২. ৭৭ কোটি। ইরফান খানের ক্যারিয়ারের একক সিনেমা হিসেবে সবচেয়ে ব্যাবসাসফল সিনেমা এটি। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সাবা কামার।

সিনেমাটির গল্প গড়ে উঠেছে কীভাবে এখনকার সমাজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের রূপ নিচ্ছে। মাত্র ১১২৬ টি হলে মুক্তি পেলেও এই গল্প যে স্বল্প আয়ের মানুষদের মন কেড়েছে, তারই প্রমাণ সিনেমাটির হিট হওয়া।

মুক্তির আগে ‘হিন্দি মিডিয়াম’ এর নির্মাতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল পশ্চিমবঙ্গের ছবি ‘রামধনু’র নকলের। যদিও শুরু থেকেই ‘হিন্দি মিডিয়াম’ এর নির্মাতা সাকেত চৌধুরী বিষয়টিকে অস্বীকার করে আসছে। পরবর্তীতে সে অভিযোগ মিথ্যে প্রমানিত হয়েছে। যা হয়েছে, বছরের সবচেয়ে সারপ্রাইজ ছিল সিনেমাটির একশো কোটির উপর আয়।

লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা
৬ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি আয় করেছে ২৬.৮৮ কোটি। ছবিটি মুক্তির আগেই বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে এবং কয়েকটি পুরষ্কারও পেয়েছে। কিন্তু ভারতে কোনমতেই মুক্তি দেয়া হচ্ছিলো না।

শেষমেষ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড নয়, ছবিটির ছাড়পত্র দিয়েছে ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল (এফসিএটি)। তবে ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বোরকা’র ছাড়পত্রের সঙ্গে ‘বড়দের ছবি’র তকমা যোগ করে দিয়েছে।

ভারতের ছোট শহরের অলিগলিতে বাস করা চারজন নারীর গল্প এটি। তাদের গোপন করে রাখা ইচ্ছেগুলোর কাহিনী। এরা সকলেই নিজেদের জীবনে বাঁধা পড়ে গেছেন, কিন্তু মনের ইচ্ছেগুলো মরেনি। ছোট ছোট ঘটনা আর কাজের মধ্যে দিয়ে এই চার নারী বেশ সাহসী হয়ে উঠে। বিদ্রোহ করে।

ছবিটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন কঙ্কণা সেন শর্মা, রত্না পাঠক শাহ প্রমুখ। পরিচালক অলংকৃতা শ্রীবাস্তব।

বরেলী কি বরফি
২০ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটির আয় ৫৮.৭ কোটি। উত্তর প্রদেশের ছোট শহর বরেলির গল্প। বিট্টি নামের মেয়ে আধুনিক, খোলামেলা স্বভাবের। তার বিয়ের পাত্র খুঁজতে হয়রান বাবা-মা। তা নিয়ে বিট্টিও হতাশ হয়ে পড়ে। হাতে আসে ‘বরেলি কি বরফি’ নামে একটি বই। সেখান থেকে নানা হাস্যরসাত্নক দিয়ে ভরপুর সিনেমাটিকে ব্যবসাসফল বলা যায়।

ছবিটির মূল তিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আয়ুস্মান খুরানা, রাজকুমার রাও ও কৃতি স্যানন। ছবিতে তাদের নাম চিরাগ, প্রীতম ও বিট্টি।

বরেলি কি বরফি-র চিত্রনাট্য লিখেছেন নীতীশ তিওয়ারি ও শ্রেয়াস জৈন। পরিচালনা করেছেন অশ্বিনী আইয়ার তিওয়ারি।

শুভ মঙ্গল সাবধান
২৫ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি আয় করেছে ৬৪.৫৪ কোটি রুপি। আয়ূশমান খুরানা ও ভূমি পেডনেকার জুটিকে এর আগে ‘দাম লাগাকে হাইসা’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল। প্রথম সিনেমায় ভূমি- আয়ূশমান ছিলেন স্বামী-স্ত্রী’র ভূমিকায়।

আগের সিনেমার নির্মাতা শরৎ কাটারিয়াই এবারের সিনেমারও পরিচালক। তামিল সিনেমা ‘কল্যাণ সামায়াল সাধম’ এর হিন্দি রিমেইক এ সিনেমাটি। যদিও নির্মাতার ভাষায় হুবহু নকল না এই সিনেমা।

পুরুষের যৌন সমস্যার মতো স্পর্শকাতর একটি ইস্যু নিয়ে সিনেমা, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে তো বটেই। এ ধরনের একটি ট্যাবুকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং বিষয়। সেজন্য পরিচালককে বাহবা দিতে হয়।

নিউটন
৯০তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস-এ সেরা বিদেশী ভাষার সিনেমার প্রতিযোগিতার দৌঁড়ে ভারতের পক্ষ থেকে নাম লিখিয়েছিল রাজকুমার রাও অভিনীত ‘নিউটন’ সিনেমাটি। কিন্তু ভোটিং-এ শেষ পর্যন্ত অস্কার দৌঁড় থেকে কিছুদিন আগে ছিটকে গেল নিউটন। সিনেমাটি মুক্তির প্রথমদিনই ঘোষনা হয় ভারত থেকে অস্কার দৌড়ে লড়ার জন্য।

সিনেমাটি দর্শকদের এক রূঢ় বাস্তবতার সামনে দাড় করিয়ে দিবে। পরিচালকও সেই বাস্তব রুপ পর্দায় বেশ ভাল ভাবেই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। দেশের সব মানুষের নিজের মতো করে গনতান্ত্রিক হওয়ার অধিকার রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিউটন কুমার একজন সরকারী ক্লার্ক, তাকে পাঠানো হয় নাক্সাল নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকা ছাত্তিসঘরে ভোট গ্রহণ করার জন্য। কমিউনিস্ট বিদ্রোহের কারণে এই এলাকায় যে কোন সময় গেরিলা হামলা হতে পারে। এজন্য কখনো কেউ সাহস করেনি ঠিকঠাক ভোট কেন্দ্র বসিয়ে দুস্থ অসহায় অশিক্ষিত মানুষদের ভোট নিতে। গল্প এভাবে সামনে এগোতে থাকে আর ঘটতে থাকে নানারকমের ঘটনা। রাজকুমার রাওর অভিনয় যথেষ্ঠ প্রশংসিত হয়েছে। মাত্র নয়কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি আয় করেছে ৩১ কোটি রুপির উপরে।

এছাড়া বেশ কিছু সিনেমা প্রত্যাশার চেয়ে বহুগুন ভালো করেছে। তার মধ্যে ‘তুমহারি সুলু’,‘ফুকরে রিটার্নস’, ‘ইত্তেফাক’, ‘সাদি মে জরুর আনা’, ‘ট্রাপড’, ‘পূর্ণা’কে উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায়।

ডেইলি বাংলাদেম/টিএএস

Best Electronics
Best Electronics