বর্ষাকালে ফ্যাশনেবল জুতোর সমাহার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১১ ১৪২৬,   ২০ শাওয়াল ১৪৪০

বর্ষাকালে ফ্যাশনেবল জুতোর সমাহার

 প্রকাশিত: ০২:২৬ ১৯ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ০২:৩৪ ১৯ জুলাই ২০১৮

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস কেনাকাটার মধ্যে জুতো হলো অন্যতম। আজকাল ফ্যাশনেবলল বিভিন্ন ড্রেসের সাথে চাই ফ্রাশনেবল জুতো। কিন্তু ঋতু বৈচিত্র্যের কারণে জুতোর ডিজাইনও পরিবর্তিত হয়ে থাকে।
 
অনেকেই বর্ষাকাল খুব পছন্দ করেন। এ সময় চারদিকে জল থাকে আর থাকে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ। আবার অনেকেই বর্ষার কথা শুনলে মুখ ভার করে থাকেন। কারণ এ সময় খুব বেশি সৌখিন সাজগোজ করা যায় না। বেশিই চিন্তা থাকে পায়ের জুতা নষ্ট হওয়া নিয়ে। এই চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে বর্ষাকালেও আসছে বিভিন্ন কালারের ফ্যাশনেবল জুতো। 

জেলি সু:

বর্ষার হাত থেকে রক্ষা পেতে জেলি সু পড়তে পারেন। এ জুতা নষ্ট হওয়ার কোনো ভয় নেই। এ ছাড়াও বর্ষার জন্য বিভিন্ন কালারের ফ্লোরাল স্লিপারও বাজারে পাওয়া যায়। গাড়ো কালারের জুতো এ সময়ের জন্য ভালো। কারণ হালকা কালারের জুতোয় কাঁদার ছিটা লাগলে দেখতে খারাপ লাগবে।
 
প্লাস্টিকের সু:

বর্ষাকালে ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন কালারের প্লাস্টিকের সু পড়তে পারেন। বাজারে এখন সল্প মূল্যে বিভিন্ন ডিজাইনের ‘প্লাস্টিকের সু’ পাওয়া যায়। শর্ট ড্রেসের সঙ্গে এ ধরনের ‘সু’ খুব ভালো মানায়। এটি দেখতে যেমন সিম্পেল তেমনি ফাঙ্কি । ‘প্লাস্টিকের জেলি সু’ গুলো স্লিপার ও নন স্লিপার দুই ডিজাইনের হয়ে থাকে। এর যেকোনো একটি আপনি ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে পারবেন।
 
ফ্লাট পাম্প ও চপ্পল:

মেয়েরা ফরমাল জায়গায় চপ্পল বা ফ্লাট পাম্প জুতো পড়তে পারেন। এ জুতোগুলো যেকোনো ড্রেসের সঙ্গে মানিয়ে যাবে। বাজারে এখন বিভিন্ন ডিজাইনের চপ্পল জুতো পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে রয়েছে চপ্পল রবার ও প্লাস্টিকের চপ্পল। এসব চপ্পলের ওপর রয়েছে নানা রকম ফুলের ডিজাইন করা, আর রয়েছে বিভিন্ন চুমকির কাজ। এ জুতার সোল চিকন বা মোটা সেড দুই ধরনের হয়ে থাকে। আরো আছে দুই ফিতার চপ্পল। এর মধ্যে পাটি বেণি ও নাগিন বেণি উল্লেখযোগ্য।

বর্ষাকালে ছেলেদের জন্য রয়েছে রাবার, স্পঞ্জ, রেক্সিন ও সিনথেটিকের চপ্পল। তারা হালকা ও চিকন ফিতার চপ্পল বেশি পড়ে থাকে। তবে বর্ষার জন্য ছেলেদের দুই ফিতার চপ্পল পড়তে দেখা যায়। এ চপ্পলগুলো পানিতে ভিজলে নষ্ট হয় না। 

গাম বুটস:

বর্ষাকালে বিভিন্ন প্রিন্টের গাম বুটস আপনাকে এক অসাধারণ লুক এনে দিতে পারে। বিভিন্ন ক্যাজুয়াল ড্রেসের সঙ্গে অনায়েসে এই গাম বুটস পড়তে পারেন। বর্ষার জন্য ওয়াটার প্রুফ গাম বুটস পাওয়া যায়। বিভিন্ন কালারের (যেমনঃ লাল, হলুদ, সবুজ, নীল, গোলাপী) ক্রক্স রেইন বুটস পাওয়া যায়, যা বর্ষাকালের পারফেক্ট জুতো। মেয়েদের জন্যও এখন বিভিন্ন রঙের ডিজাইন করা গাম বুটস পাওয়া যায়। বাচ্চারাও বর্ষাকালে গাম বুটস পড়তে পারে। এতে বাচ্চাদের বর্ষায় স্লিপ কাটার সম্ভাবনাও অনেক কমে যাবে।

বৃষ্টি হোক আর যাই হোক না কেন অফিস বন্ধ দেওয়া যায় না। আবার বৃষ্টির জন্য স্মার্টনেস ও কমিয়ে ফেলা যাবে না। স্মার্ট লুক ধরে রাখার জন্য বৃষ্টিতেও পড়বেন বিভিন্ন  ফ্যাশনেবল জুতো। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শো রুম গুলোতে রয়েছে বর্ষা উপযোগী বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের জুতা। এ সব শো-রুমগুলোর মধ্যে (বাটা, এপেক্স, জেনিস, বে ইত্যাদি) অন্যতম। বাচ্চাদের জন্যও এসব শো রুমে বর্ষা উপযোগী বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা পাওয়া যায়।

জুতোই মানুষের আসল ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই অফিসের জন্য প্রয়োজন ফরমাল জুতো। দেখা যায়, আপনি অফিসে সব সময় কনভার্স জুতো বা কাপড়ের জুতা পড়ে থাকেন। আবার হয়ত কখনো ম্যাচিং করে চামড়ার জুতাও পড়েন। এসব জুতো পড়তে খুবই আরামদায়ক আর ফ্যাশনেবল ডিজাইনের হয়ে থাকে। তবে বর্ষাকালে আপনাকে শখ বাদ দিয়ে পরিস্থিতিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
 
আবার হয়ত আপনি গাড়িতে চলাফেরা করেন। কিন্তু বৃষ্টির সময় একটু কাদাময় রাস্তাই আপনার জুতো নষ্ট করে দিতে যথেষ্ট। আবার জুতো বারবার পানিতে ভিজলে ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই বর্ষাকালে রেক্সিন, গাম বুট বা প্লাস্টিকের জুতা পড়াই সব থেকে ভালো। এসব জুতা পানিতে নষ্ট হবে না আর আপনার পা থাকবে কাঁদা পানি থেকে মুক্ত। রিক্সা বা মোটর সাইকেলে অফিসে গেলে রাস্তায় প্লাস্টিকের জুতো পড়বেন আর অফিসে এক জোড়া ফরমাল জুতো রেখে দিতে পারেন। তবে বৃষ্টিতে আর কোনো সমস্যাই থাকবে না।
 
মেয়েরাও অফিসের জন্য কাপড় বা ফরমাল জুতা বাদ দিয়ে প্লাস্টিকের জুতা পড়তে পারেন। ট্রান্সপারেন্ট কালারের বিভিন্ন ডিজাইনের রেক্সিন বা প্লাস্টিকের জুতা পাওয়া যায়। এসব জুতো বর্ষাকালে মেয়েদের জন্য যেমন টেকসই তেমনি ফ্যাশনেবল। এ ছাড়াও রাস্তায় চলাচলের জন্য আরামদায়ক প্লাস্টিকের হাই হিলও পড়তে পারেন। যা বৃষ্টির জন্য মানানসই। 

টিপস:

বর্ষাকালে পায়ের জন্য আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল জুতা বেছে নিতে হবে।   

এ সময় উঁচু চপ্পল পড়া যাবে না, তবে স্লিপ কাটার সম্ভবনা থাকবে।  

খেয়াল রাখবেন, চপ্পলে যেন প্লাস্টিক ও রেক্সিন ছাড়া চামড়ার কোনো ডিজাইন না থাকে। 

চপ্পল সব সময় পায়ের মাপে কিনতে হবে। নইলে হাটার সময় কাঁদা পানি ছিড়তে পারে। 

চপ্পলের ফিতা ছিঁড়ে গেলে সেলাই করেও পড়তে পারবেন। 

বাসায় এসে চপ্পল ও পা ধুয়ে নিতে হবে। 

চপ্পল কেনার সময় একটু ঢিলা দেখে কিনতে হবে। না হলে পায়ে ফোঁসকা পড়তে পারে। 

জুতা ধোয়ার সময় ওপরের অংশ আগে ধুয়ে নিবেন। এরপর বাকিটা মুছে শুকিয়ে নিতে হবে। 

‘পাম্প সু’ কিনলে পায়ের সঠিক মাপে কিনতে হবে। নইলে হাটার সময় খুলে যেতে পারে। 

জুতার নিচের অংশ খসে গেলে স্লিপ করার সম্ভাবনা থাকে। তাই কিছু দিন পর পর জুতা পরিবর্তন করা ভালো। 

বর্ষাকালে যদি চামড়ার জুতো পড়তেই হয় তবে আপনি ওয়াটার প্রুফ চামড়ার জুতো কিনে নিতে পারেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে