Alexa বর্ণিল সাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৬ ১৪২৬,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

বর্ণিল সাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ওয়ায়েছ আরিফ, ঢাবি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৪ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

শীতের শেষ বিকেলের মিষ্টি রোদ। ব্যানার, ফেস্টুন আর নানা রঙের বেলুনে রঙিন কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, কার্জন হল, টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, কলাভবন, বটতলা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ চত্বর, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, সিনেট ভবন সেজেছে রঙিন সাজে। 

এভাবে সাজার একটাই কারণ দিন শেষে রাত পেরুলেই শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণের সমাবর্তন। এই সমাবর্তন ঘিরে তাই বর্ণিল সাজে সেজেছে ক্যাম্পাস।

কালো গাউন পরা তারুণ্যের উচ্ছলতা, ক্যাপ উঁচিয়ে ফটোসেশন, রিহার্সেল আর হৈ-হুল্লোড়, সর্বত্র যেন উৎসবের আমেজ। 

শিক্ষা জীবনের সমাপ্তির বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে অংশ নিতে উন্মুখ প্রায় ২০ হাজারের অধিক স্নাতক সম্পন্নকারী শিক্ষার্থী। 

তাদের একজন একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের মাসুক চৌধুরী অনুভূতি জানিয়ে বলেন, চার বছরের পড়ালেখা। পরিশ্রম, হাসি-আনন্দের বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। তারপর গাউন পরার এই বিরল সুযোগ; সত্যিই গর্বিত মনে হচ্ছে নিজেকে।

সমাবর্তন ঘিরে সকাল থেকে রাত অবধি গ্র্যাজুয়েটদের পদচারণায় মুখর ছিল ক্যাম্পাস। কার্জন হল, টিএসসি বা কলা ভবনে উল্লাস করে বন্ধুদের নিয়ে ছবি তুলেছেন তারা। প্রিয় ক্যাম্পাসের আঙিনায় ফ্রেমে বন্দী করেছেন নিজেদের।

ম্যানেজমেন্ট বিভাগের খায়ের চৌধুরী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল স্বপ্নের ক্যাম্পাস। এখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কতশত স্মৃতি। পড়াশোনা শেষ করে এখন স্বীকৃতির পালা। এ এক পরম পাওয়া। এ অর্জনে আমার সঙ্গে উচ্ছ্বসিত পরিবারের সদস্যরাও।
 
সমাবর্তনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন হয়েছে। এবার মূল আনুষ্ঠানিকতার পালা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমাবর্তনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। 

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ কথা জানান। 
 
এসময় মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ২০২০ সালের সমাবর্তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি (মরণোত্তর) প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার অনুষ্ঠেয় সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। 

সমাবর্তন বক্তা হিসেবে থাকবেন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. তাকাকি কাজিতা। এতে তাঁকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৫২তম সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য ২০ হাজার ৭৯৬জন গ্র্যাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন করেছেন। অনুষ্ঠানে ৭৯জন কৃতী শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীকে ৯৮টি স্বর্ণপদক, ৫৭জনকে পিএইচডি, ৬জনকে ডিবিএ এবং ১৪জনকে এম ফিল ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

অধিভুক্ত সাত কলেজের রেজিস্ট্রেশনকৃত গ্র্যাজুয়েটগণ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ ভেন্যু থেকে সরাসরি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নিবেন।

উপাচার্য আখতারুজ্জামান জানান, সমাবর্তন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। 

সমাবর্তনের দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গ্র্যাজুয়েটদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় গ্র্যাজুয়েট এবং অতিথিদের চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটবে উল্লেখ করে তিনি দু:খ প্রকাশ করেন। 

বঙ্গবন্ধুকে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে বলা না হলেও বঙ্গবন্ধুকে এ ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মুজিব বর্ষে অর্থাৎ ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুকে এ ডিগ্রি প্রদান করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিবেন। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যেহেতু ল’র (আইন বিভাগ) শিক্ষার্থী ছিলেন, তাই তাকে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

আনুষ্ঠানিক আয়োজন: সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। এতে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এবারের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে থাকবেন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. তাকাকি কাজিতা। 

বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে কার্জন হল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হবে সমাবর্তন শোভাযাত্রা। এরপর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমাবর্তনের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। সমাবর্তন বক্তা তাকাকি কাজিতাকে প্রদান করা হবে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি ।

নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, সমাবর্তন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম