Alexa বরুড়ায় ব্যস্ত বোরো চাষিরা

ঢাকা, সোমবার   ১৪ অক্টোবর ২০১৯,   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬,   ১৪ সফর ১৪৪১

Akash

বরুড়ায় ব্যস্ত বোরো চাষিরা

 প্রকাশিত: ১৮:১২ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লার বরুড়ায় বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। শীত উপেক্ষা করে ধানের মাঠে পরিশ্রম করছেন তারা। কাকভোর থেকে সূর্যাস্ত পযর্ন্ত মাঠে দেখা যাচ্ছে কৃষকদের।

চলতি বছর শীতের শুরুতে বিরূপ প্রকৃতির প্রভাবে টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে ব্যাহত হয় রবিশস্য আবাদ। এছাড়া আউশ-আমন মৌসুমেও প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হয়নি। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই এখন তাদের যত কর্মযজ্ঞ।

উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১২৮৬৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাত রয়েছে ১১৩৩২ হেক্টর জমিতে। আর হাইব্রিড জাত রয়েছে ১৫৩৬ হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে ৭০০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ও ১৪০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো চারা রোপন করেছেন চাষিরা।

কৃষি অধিদফতর মূল্যায়নে বলা হচ্ছে এ বছর বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলার লক্ষীপুর, পয়ালগাছা, আড্ডা, ঝলম, গালিমপুর, ভাউকসার, শাকপুর, খোশবাস (উ.), খোশবাস(দ.), ভবানীপুর, শিলমুড়ী (উ.), শিলমুড়ী (দ.) ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা বীজতলার চারা রোপন করছেন। আবার কেউ কেউ জমি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত। অনেকে আবার ব্যস্ত বোরো জমি পরিচর্যায়।

এগার গ্রামের কৃষক আবুল বাশার, দিঘল গাঁওয়ের আব্দুর রহমান, বরইয়ার হরে কৃষ্ণ বৈষ্ণব, মহেশপুরের মোহর আলী, চৌওড়ীর ফয়েজ উল্লাহ, ধনীশ্বরের মো. খোরশেদ আলম ও শুশুন্ডার তোফায়েল আহাম্মেদসহ অনেকে জানান, গত বছর আউশ-আমন মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আবাদ করা ধান ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এ বছর রবি মৌসুমের শুরুতেও একইভাবে আলু, সরিষাসহ, বিভিন্ন জাতের শস্য ও সবজি আবাদ করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা এবার বোরো আবাদে পুরো মনোনিবেশ করেছেন। একই অভিমত প্রকাশ করেন আরো অনেকে।

বোরো আবাদ সময়কালে সার, কীটনাশকের ন্যায্যমূল্য এবং সেচে বিদ্যুতের ভর্তুকি নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ে বাজার মনিটরিং জোরদারের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে এবার বোরো চাষে লক্ষ্যমাত্রই শুধু অর্জিত হবে না বরং ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি আরো জানান, কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করতে পারেন সে লক্ষ্যে বাজার মনিটরিংয়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে