Alexa বরিশালে র‌্যাগিংয়ের নামে ছাত্র নির্যাতন, বহিষ্কার ৪

ঢাকা, বুধবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ৭ ১৪২৬,   ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

বরিশালে র‌্যাগিংয়ের নামে ছাত্র নির্যাতন, বহিষ্কার ৪

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪১ ২৯ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) চার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। র‌্যাগিংয়ের নামে এক ছাত্রকে নির্যাতন করার কারণে তাদের বহিষ্কার করা হয়। 

বুধবার দুপুরে বৈঠক শেষে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পাশাপাশি ওই চার শিক্ষার্থীকে হল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন, বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) রেডিওলোজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সাগর বিশ্বাস দেবজিৎ, একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সৈকত দাস, ডেন্টাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পিয়াস চন্দ্র কুরী ও একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মো. ইমন।

সাগর বিশ্বাস দেবজিৎ ও মো. ইমনকে এক বছর এবং পিয়াস চন্দ্র কুরী ও সৈকত দাসকে ছয় মাসের জন্য সব শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

র‌্যাগিংয়ের শিকার ছাত্রের নাম মো. সালাউদ্দিন। তার বাড়ি নোয়াখালীতে। আবাসিক হোস্টেলে থেকে ডেন্টাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ালেখা করছেন তিনি।

আবাসিক হোস্টেলের (বালক) ছাত্ররা জানান, সাগর বিশ্বাস দেবজিৎ, সৈকত দাস, পিয়াস চন্দ্র কুরী ও মো. ইমন এক সঙ্গে চলাফেরা করেন। তাদের একটি দল রয়েছে। তারা মাঝে মধ্যেই জুনিয়র ছাত্রদের র‌্যাগ দিতেন ও নির্যাতন চালাতেন। গত ২৬ জানুয়ারি রাতে সালাউদ্দিনের কক্ষে তারা প্রবেশ করেন। এরপর তারা সালাউদ্দিনের কাছে জানতে চান দেখা হলে তুই (সালাউদ্দিন) সালাম দিস না কেন? তুই সালাম না দিয়ে বেয়াদবি করেছিস। তুই এখনই হল ছেড়ে চলে যা। তারা সালাউদ্দিনকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। 
একপর্যায়ে এর প্রতিবাদ করেন সালাউদ্দিন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা সালাউদ্দিনকে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন। তাদের মারধরে সালাউদ্দিন জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর সালাউদ্দিনের কক্ষ থেকে তারা চলে যান। পরে সহপাঠীরা সালাউদ্দিনকে উদ্ধার করে রাতেই শের-ই- বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে সালাউদ্দিনের সহপাঠীরা জানান, মারধরের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দেবজিৎ, সৈকত দাস, পিয়াস ও মো. ইমন সকালে মেডিকেলে যান। এরপর তারা জোরপূর্বক চিকিৎসাধীন সালাউদ্দিনকে হলে নিয়ে আসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেন অধ্যক্ষ ডা. সাইফুল ইসলাম।

আইএইচটি অধ্যক্ষ ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কমিটি ওই চার ছাত্রকে দেষী সাব্যস্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। আগামীতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সাহস না পায় এজন্য একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা ওই চার শিক্ষার্থীকে হল থেকে আজীবন বহিষ্কার ও শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম