বরফ গলে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ, বাংলাদেশও বন্যার ঝুঁকিতে!

ঢাকা, সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৬ ১৪২৬,   ০৫ শা'বান ১৪৪১

Akash

গবেষণার তথ্য

বরফ গলে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ, বাংলাদেশও বন্যার ঝুঁকিতে!

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫১ ১৪ মার্চ ২০২০  

ছবি: বরফ গলছে

ছবি: বরফ গলছে

বিগত বছরগুলোর তুলনায় ছয়গুণ দ্রুত গতিতে গলে যাচ্ছে বরফ। সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলার পরিমাণ বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। যা ১৯৯০ এর দশকের তুলনায় ছয়গুণ দ্রুত গতিতে। 

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠ প্রায় ছয় দশমিক ছয় ইঞ্চি বা ১৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যাবে। এই হারে বরফ গলতে থাকলে তা পৃথিবীর জন্য অনেক বড় বন্যার হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।     
  
নেচার জার্নালে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকায় ১৯৯২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ছয় দশমিক চার ট্রিলিয়ন টন বরফ হারিয়েছে। যা সমুদ্রপৃষ্ঠের স্তর শূন্য দশমিক সাত ইঞ্চি বা সতের দশমিক আট মিলিমিটার বাড়িয়ে দিয়েছে। যার এক দশমিক শূন্য ছয় সেন্টিমিটার ছিল গ্রিনল্যান্ডের বরফ ক্ষতির কারণে এবং শূন্য দশমিক সাত দুই সেন্টিমিটার এন্টার্কটিকার কারণে। অর্থাৎ মেরু অঞ্চলের বরফ সমুদ্রপৃষ্ঠের সমস্ত বৃদ্ধির এক তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী।

লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু শেফার্ড বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রতিটি সেন্টিমিটার বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় বন্যা এবং ক্ষয়ের আশঙ্কা বাড়ছে। যা উপকূলের চারপাশের মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বিশ্বব্যাপী এই উষ্ণায়ন যদি অব্যাহত থাকে তবে উপকূলীয় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মানুষ ২১০০ সাল নাগাদ বন্যার সম্মুখীণ হবে। ৫০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার ৮৯ জন বরফ বিজ্ঞানীর একটি দল বন্যার ক্ষয়ক্ষতি জরিপের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। 

বরফ গলে যাচ্ছেতারা বলছেন, পৃথিবীর নিকটতম উপগ্রহগুলো এতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। বিজ্ঞানীরা বরফের ভর, আয়তন, প্রবাহ এবং মধ্যাকর্ষণ পরিমাপ করতে ১১ টি বিভিন্ন উপগ্রহ মিশনের ডাটা এবং ২৬ টি পৃথক সমীক্ষা ব্যবহার করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে বরফ গলনের সম্মিলিত হার প্রতিবছর ৮১ বিলিয়ন টন থেকে ২০১০ এর দশকে ৪৭৫ বিলিয়ন টন বেড়েছে। 

অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ড থেকে গলে যাওয়া অর্ধেক বরফ সমুদ্রের প্রবাহকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের বরফের বাকি অংশ বায়ু তাপমাত্রার ক্রমবর্ধমান পরিবর্তনের কারণে গলে যাচ্ছে। এ থেকে সৃষ্ট বন্যা উপকূলীয় সম্প্রদায়ের জন্য ধ্বংসাত্মক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।  

ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির কাগজ লেখক এরিক আইভিনস বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই নিদর্শন তুলে ধরতে মেরু বরফের স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ প্রয়োজনীয়। এতে করে কীভাবে বরফ ক্ষয় হচ্ছে ও সমুদ্রপৃষ্ঠ বেড়ে যাচ্ছে তা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করা যাবে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ বাড়ছে ক্রমশযদিও কম্পিউটার সিমুলেশন তাদের জলবায়ু পরিবর্তনের পরিস্থিতি থেকে অনুমান করতে সাহায্য করে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আমাদের প্রকল্পটি একটি দুর্দান্ত উদাহরণ। 
 
জার্মানির নেতৃত্বাধীন গবেষকদের করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের এই বন্যা বিভিন্ন স্থানে হানা দেবে। সাংহাই থেকে লন্ডন, ফ্লোরিডা, বাংলাদেশের নিম্ন স্বল্প অঞ্চল এবং মালদ্বীপের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, ২০১৫ সালে করা প্যারিসের জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেই বন্যার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তাহলে ২২০০ সালে গিয়েও সমুদ্রপৃষ্ঠ চার ফুটের বেশি আর বাড়তে পারবে না।

বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, মহাসাগরের স্তর অবিচ্ছিন্নভাবে বৃদ্ধি পাবে কারণ এরইমধ্যে নির্গত তাপ, গ্যাস বায়ুমণ্ডলে দীর্ঘদিন স্থায়ী হবে। এতে আরো বরফ গলে যাবে। এছাড়া চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩৯ দশমিক দুই ডিগ্রি ফারেনহাইট এর উপরে উষ্ণতা পানি স্বাভাবিকভাবে প্রসারিত হতে পারে। 

জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের মূল লেখক ডা. ম্যাথিয়াস মেনগেল বলেন, ২০২০ সালের পর প্রতি পাঁচ বছরে বৈশ্বিক নির্গমনে সমুদ্রপৃষ্ঠে অতিরিক্ত ২০ সেন্টিমিটার বা আট ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পাবে। প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরে অন্তর্ভুক্ত প্রায় ২০০ টিরও বেশি দেশের সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে নেই। মূলত এ কারণেই পৃথিবীর ভবিষ্যত আরো হুমকির মধ্যে রয়েছে। এজন্য বৈশ্বিক উন্নয়নে পরিবেশ ঠিক রাখতে কাজ করতে হবে সবাইকে। 

সূত্র: ডেইলিমেইলঅনলাইন

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস