Alexa বন্যার পানিতে সাঁতার কাটছে আউশ-আমন

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

বন্যার পানিতে সাঁতার কাটছে আউশ-আমন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪১ ২০ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৮:০১ ২০ জুলাই ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে সাম্প্রতিক বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয়রা জানান, নতুন করে জমিতে ধান রোপণের জন্য বীজের তীব্র সংকট ধারণ করেছে। বীজ যা পাওয়া যাচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল এবং দাম স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি। আমনের বীজতলা তৈরির সময় চলে গেলেও বীজের জন্য কৃষকদের মাঝে এক ধরণের হাহাকার বিরাজ করছে।  

ধলাই উপজেলার কৃষকরা জানান, মৌলভীবাজারের মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভাঙার ফলে জেলার সদর, কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার ২০টি ইউপি ও একটি পৌরসভা বন্যা কবলিত হয়েছে। ওই সময় রোপা আউশের মৌসুম ও আমনের বীজতলা তৈরির উপযুক্ত ছিল। পানিতে নিমজ্জিত হয়ে জেলার ১৩১ হেক্টর রোপা আউশ ধান ও ৬৫ হেক্টর আমন ধানের চারা পঁচে কালো হয়ে গেছে। বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকরা আউশ ও আমন এই দুইটি ফসলের উপরই বেশি নির্ভরশীল ছিল। এই দুই ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য নতুন করে  তারা কি করবেন সেটা ভেবে কূল পাচ্ছে না।

কমলগঞ্জ উপজেলার ছয়ছিড়ি এলাকার কৃষকরা জানান, বন্যার পানিতে তাদের বীজতলা অনেকটাই নষ্ট হয়ে আছে। পানি নামলেও বীজতলা পুরো পলিমাটিতে কাঁদাযুক্ত হয়ে গেছে।

প্রতাভী গ্রামের কৃষক সুবোধ দাস বলেন, আউশ ধান পানিতে পুরোদমে নষ্ট হয়ে গেছে। পানিতে ডুবে পঁচে গেছে আমন ধানের চারাও। এখন আমন চাষ করার সুযোগও নেই। ঘরে কিছু ধান আছে, সেটা ভেঙে খাচ্ছি, তাতে হয়তো দুইমাস চলবে। এরপর কি করব জানি না।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশসদরের মাতারকাপন গ্রামের কৃষক মো. সিকন্দর আলী বলেন, আউশ চাষাবাদের জন্য ধার দেনা করে চারা ও সার ক্রয় করে ১১ একর জমিতে রোপা আউশ চারা রোপণ করেছিলাম। আশা ছিল আউশ ধানের মৌসুমে প্রচুর ফসল ঘরে তুলব। বন্যার ফলে সে আশা নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারিভাবে কোনো সাহায্য, সহযোগিতাও পাইনি। এখন ধার দেনা কিভাবে পরিশোধ করব এটা ভেবেই দিশেহারা।
 
শিমুলতলার জাহিদ মিয়া ও কনু মিয়া জানান, আমনের চারা করার জায়গায় এখনো পানি আছে। পানি কমতে আরো ১০-১২ দিন সময় লাগবে। তাই নতুন করে আমনের চারা করার আর সময় নেই। বাজারে উন্নত মানের বীজও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এবার আমন চাষ করা সম্ভব হবে না।
 
রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার হোসেন বদরুল বলছেন, মানুষ, গবাদি পশুর পাশাপাশি বন্যায় মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছে ক্ষেতের ফসল। ছয়ছিড়ি, প্রতাভী, বিষনুপুর ,লক্ষিপুর, জগনশালা, কান্দিগাও সহ ১০টি গ্রামের জমি পানিতে ডুবে আছে। আমন ধানসহ কলার বাগান, পেঁপের ক্ষেত, সবজি বাগান সব পানিতে ডুবে গেছে। পানি নামার পর গাছগুলো মারা যাচ্ছে।  
 
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কাজী লুৎফর বারী জানালেন, জেলায় আমাদের যত কর্মকর্তা আছে, সবাইকে র্নিদেশনা দেয়া হয়েছে। বন্যার পর তারা কৃষকদের সবরকম সহায়তা করবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আর.এইচ/আরএম

Best Electronics
Best Electronics