বন্যহাতির তান্ডবে চার বছরে ১৩ মৃত্যু

ঢাকা, সোমবার   ২৭ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৬,   ২১ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

বন্যহাতির তান্ডবে চার বছরে ১৩ মৃত্যু

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৩:৫৯ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:৫৯ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বন্যহাতির তান্ডবে চার বছরে মারা গেছে ১৩ জন নারী-পুরুষ। এতে হাতি-আতঙ্কে আছে সীমান্তের আশপাশের গ্রামগুলোতে বসবাসরত মানুষ। 

এরা হলেন- চন্দ্র শেখর কোচ, রোস্তম আলী, আব্দুল হাই, আয়াতুন্নেচ্ছা, জহুরুল হক, মমেনা খাতুন, লরেন্স কুবি, উত্তম মারাক, বাছিরাম চাম্বুগং, পলরেশ সাংমা, ললেন সাংমা, পলোদফ সাংমা, কিবিরণ বেগম।  

এদিকে ময়মনসিংহ বন বিভাগ এবং শেরপুর বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগ বলছে, গারো পাহাড় এলাকায় হাতি ও মানুষের সহাবস্থান সৃষ্টি করতে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  

বন বিভাগ ২০১৫ সালে গারো পাহাড়ের তাওয়াকুচা ও কর্ণঝুড়া এলাকায় ১০০ হেক্টর বনভূমিতে হাতির খাদ্য উপযোগী বাগান তৈরি করেছে। এ ছাড়া হাতি প্রতিরোধে তাওয়াকুচি, ছোট গজনী, বড় গজনী, হালচাটি এলাকায় ১১ কিলোমিটারে লেবু, বেতকাটার বাগান ও সোলার পাওয়ার ফেন্সিংয়ের বেড়া দেওয়া হয়েছে। 

এর বাইরে হাতি তাড়াতে বিভিন্ন সময় পাহাড়ি গ্রামগুলোতে সরকারি-বেসরকারিভাবে চার্জার লাইট, সার্চলাইট, টর্চলাইট, রেইনকোট, হ্যান্ডমাইক ও জেনারেটর বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু এতো কিছুর পরও থেমে নেই হাতি ও মানুষের প্রাণহানি।

বন বিভাগের সূত্রানুযায়ী, ১৯৯৫ সালের দিকে ২০-২৫টি বন্যহাতি ভারতের আসাম থেকে দলছুট হয়ে গারো পাহাড়ে ঢুকে পড়ে। সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধায় হাতিগুলো আবাসস্থলে ফিরে যেতে পারেনি। সেই হাতির সংখ্যা এখন একশ' ছাড়িয়েছে। এগুলোর আবাস শেরপুরের ৮ হাজার ৩৭৬ একরের বনভূমিতে। 

বন্যহাতি তান্ডব চালিয়ে কেড়ে নেয় মানুষের প্রাণ, গুঁড়িয়ে দেয় বসতভিটা, বিনষ্ট করে ক্ষেতের ফসল। এ উপজেলায় ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ গেছে ১৩ জন মানুষের। একই সময়ে দশটি হাতি মারা গেছে। আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক।

এছাড়াও হাতির আক্রমণে ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ প্রায় কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, নির্বিচারে পাহাড় থেকে গাছ কেটে নেয়া, বন্যহাতির বসবাসের অনকূল পরিবেশ ধ্বংস ও খাবারের ক্ষেত্র নষ্ট হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে হাতির পাল লোকালয়ে নেমে আসছে। রাতের আঁধারে লোকালয়ে এসে হামলা করছে বসতবাড়িতে। নষ্ট করছে কৃষকের ধান ও সবজিক্ষেত।

উপজেলা ট্রাইবালওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেশ খকশি বলেন, হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষায় সরকারিভাবে নির্মিত সোলার ফেন্সিং কোনো কাজেই আসছে না। পাহাড়ে মানুষ বন্যহাতির অত্যাচারে বসবাস করতে হিমশিম পোহাতে হচ্ছে। 

কাংশা ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, প্রতিবছরেই বিভিন্ন সময়ে হাতির পাল খাদ্যের খোঁজে গ্রামে আসে এবং ফসল নষ্ট করে। কৃষি মৌসুমে হাতি তাড়াতে পাহাড়ি গ্রামগুলোয় মানুষ মশাল জ্বালিয়ে, হৈ-হুল্লোড় করে ও ঢাকঢোল পিটিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। 

ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মানুষ ও হাতির প্রাণহানি এড়াতে সবচেয়ে বেশি দরকার সচেতনতা সৃষ্টি। এ জন্য বন বিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 
ইউএনও রুবেল মাহমুদ বলেন, বন্যহাতির সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যহাতির হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সরকারি সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বাদশা বলেন, এ বছর হাতি তাড়াতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে শতাধিক পরিবারের মাঝে জগ লাইট বিতরণ করা হয়েছে। স্থায়ীভাবে হাতি ও মানুষের সহাবস্থান সৃষ্টি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস

Best Electronics