বন্যহাতির আতঙ্কে ধানের বদলে সাইট্রাস চাষ

ঢাকা, রোববার   ১৯ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৬,   ১৪ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

বন্যহাতির আতঙ্কে ধানের বদলে সাইট্রাস চাষ

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৭:৫৮ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৫৮ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

সীমান্তে হাতির উপদ্রব থাকায় প্রায় সাত একর জমি পতিত পড়ে থাকত বাতেনের। চার বছর আগে কৃষি বিভাগের লোকজনের পরার্মশে দুই একর জমিতে সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় আড়াই একর জমিতে লেবু জাতীয় ফলের চাষ করে সফল হয়েছেন উদ্যোক্তা মো. আব্দুল বাতেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, গারো পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি সুনিষ্কাশিত, উর্বর, মধ্যম থেকে দোঁ-আশ এবং এখানকার আবহাওয়া  শুষ্ক ও উষ্ণ। যা সাইট্রাস (লেবু) জাতীয় ফল চাষের উপযোগী। আর এ জাতীয় ফল বিশেষ করে লেবু ও মাল্টা চাষ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

উদ্যোক্তা আব্দুল বাতেন বলেন, তার বাগানে ১৩০০ সীডলেস ও ৫০০ কাগজী লেবু, ১৬০ মাল্টা, ২০ কমলা, ২০ জাম্বুরা ও ৬০ আম গাছ রয়েছে। বাগান দেখাশুনার জন্য বছর চুক্তিতে ২জন শ্রমিক রয়েছে।

এছাড়াও দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে পাঁচজন কাজ করে । এ পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। শুধু লেবু বিক্রি করেছেন সাড়ে ১৮ লাখ টাকা। এ বছরই প্রথম প্রায় ৭০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রির আশা ব্যক্ত করেছেন এ উদ্যোক্তা।

কৃষক শাহ আলম, আলী হোসেন, সাইদুল বলেন, গারো পাহাড়ের সীমান্তে বন্যহাতির উপদ্রব থাকায় তাদের জমিতে আবাদকৃত ধান হাতি নষ্ট করে ফেলতো। তাই এখন আর ধান চাষ করে না তারা। এখন তাদের ওই জমিগুলোতে লেবু ও মাল্টা চাষ করার জন্য প্রস্তুত করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফয়জুন নাহার নিপার তথ্যানুযায়ী, উপজেলায় ১৮ হেক্টর জমিতে সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ৬০টি ব্লক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ১৮ হেক্টর জমিতে লেবুর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হেক্টর জমিতে মাল্টা, ৪ হেক্টর জমিতে বাতাবি ও সীডলেস লেবু এবং বাকি জমিতে জাম্বুরা, কমলা চাষ হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ৭০শতাংশ গাছে ফলন এসেছে। এ বছর প্রায় ৫০ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছের এ কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ বিনামূল্যে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার অনেক কৃষক এ জাতীয় ফল চাষে ঝুঁকছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/ জেএস

Best Electronics