Alexa বন্ধ হচ্ছে উত্তরের পরমাণু কেন্দ্র

ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১০ ১৪২৬,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

বন্ধ হচ্ছে উত্তরের পরমাণু কেন্দ্র

 প্রকাশিত: ১৬:০৩ ২৯ এপ্রিল ২০১৮  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এর আগে বিভিন্ন সময়ই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টগণ উত্তর কোরিয়া সফর করেছেন। কিন্তু কোরীয় যুদ্ধ অবসানের ৬৫ বছর পর এবারই প্রথম কোনো উত্তর কোরীয় নেতা দক্ষিণে বৈঠক করলেন। সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই কোরিয়ার বৈঠক যখন আলোচনার কেন্দ্রে ঠিক তখনই গত শুক্রবার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের মধ্যকার ঐতিহাসিক বৈঠকটি হয়ে গেলো।

বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে দুই কোরিয়াই সম্মত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় খবর- বৈঠকের দুদিন না গড়াতেই দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে জানালো হলো চলতি মাসেই উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার কেন্দ্রটি প্রকাশ্যে বন্ধ করে দেবে। পুঙ্গেরি নামের ওই কেন্দ্রটি বন্ধ করার সময় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদেরও উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

তবে সেটি গত সেপ্টেম্বরের আংশিক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। অবশ্য অনেকেই বলছেন, কেন্দ্রটি সঠিকভাবে কাজ করছে না বলেই উত্তর কোরিয়া সেটি বন্ধ করতে সায় দিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র উন ইয়ং-চ্যান জানিয়েছেন, পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রটি বন্ধ করতে কিম সম্মত হয়েছেন। এবং পিয়ংইয়ং এ কাজটি স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার উত্তর-পূর্বে পাহাড়ি এলাকায় এই পরমাণু কেন্দ্রটি অবস্থিত। ধারণা করা হয় এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় পরমাণু স্থাপনা। সেখানে পুঙ্গেরি কেন্দ্রের কাছে মাউন্ট মান্তাপের নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বিভিন্ন সময়ে পরমাণু পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ২০০৬ সালের পর থেকে এখানে ছ`টি পরমাণু পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

সবশেষ পরীক্ষাটি চালানো হয় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। তারপর সেখানে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্প বিশারদদের অনেকে মনে করেন, এর ফলে পাহাড়ের ভেতরে নির্মিত কিছু অবকাঠামো হয়তো ভেঙে পড়েছে। কিন্তু এসব খবর উত্তর কোরিয়ার নেতা অস্বীকার করেছেন বলে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বার্তা সংস্থা ইওনহ্যাপ জানিয়েছে।

সাধারণত স্যাটেলাইটের সাহায্যে তোলা ছবি দিয়ে এই পরমাণু কেন্দ্রটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেখানে যেসব যন্ত্রপাতি আনা নেয়া করা হয় সেগুলোর উপরেও নজর রাখা হয় স্যাটেলাইট থেকে।

এদিকে দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজমের পিস হাউসে গেল শুক্রবারের ঐতিহাসিক বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে এ-ও বলা হয়েছে যে, উত্তর কোরিয়া তাদের ঘড়িতেও সময়ের পরিবর্তন আনছে। দুই কোরিয়ার সময় এক করা হবে। বর্তমানে দক্ষিণের সঙ্গে উত্তরের সময়ের ব্যবধান মাত্র ৩০ মিনিট।

উল্লেখ্য, পরমাণু ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার বাগযুদ্ধ লেগেই আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন পরস্পরকে হুমকি, দোষারোপ, ব্যঙ্গ করেই চলেছেন। তবে এবার পিস হাউজের বৈঠকের পর কিছুটা হলেও শিথিল হবে কোরিয়া-মার্কিন উত্তেজনা। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মে মাসেই ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন কিম।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics