Alexa বদলে যাওয়া বদলে দেয়া কিছু বিলিয়নিয়ারের গল্প (পার্ট-২)

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

বদলে যাওয়া বদলে দেয়া কিছু বিলিয়নিয়ারের গল্প (পার্ট-২)

অনন্যা চৈ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৩ ১৫ এপ্রিল ২০১৯  

জ্যান: জ্যানকে চেনেন না এমন মানুষ নেহায়ত কমই আছেন। বিশেষ করে যারা যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপটি ব্যবহার করেন তাদের কম বেশি সবাই তাকে চেনেন। কারণ যোগাযোগের জন্য তার সৃষ্ট এই প্রোগ্রামটি আজ পুরো পৃথিবীতে সমাদৃত। তিনি মূলত হোয়াটসঅ্যাপ প্রতিষ্ঠাতা। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৯.১ বিলিয়ন ডলার। জ্যান কোউমের জন্ম ১৯৭৬ সালে ইউক্রেনে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইউক্রেন থেকে এসে মায়ের সঙ্গে আমেরিকার অভিবাসীতে পরিণত হন তিনি। সে সময় নিজের ব্যয়ভার চালাতে একটি দোকানে কাজ করতেন এই সন্তান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে জ্যান আগ্রহী হয়ে পড়েন কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে। তখন তিনি সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। রপ্ত করে নেন বহু প্রোগ্রামিং জ্ঞান। 

এদিকে, ১৯৯৭ সালে ইয়াহু তাকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ করে। সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ২০০৯ সালে তিনি বিশ্বের বৃহৎ মোবাইল ম্যাসেজিং সার্ভিস হোয়াটসঅ্যাপ দাঁড় করান। আর সে হোয়াটসঅ্যাপটি ২০১৪ সালে এসে ফেসবুক কিনে নেয় ২২ বিলিয়ন ডলার দিয়ে।
 
রালফ লরেন: রালফ লরেন। পোলো ব্র্যান্ড যারা পছন্দ করেন তারা হয়ত জানেন না এটা কে এনেছে। জনপ্রিয় এই ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা এই লরেন। এর আগে, কলেজ ড্রপআউট রালফ প্রথমে চাকরি করেছেন ব্রুক ব্রাদার্সে একজন কেরানি হিসেবে। কিন্তু ১৯৬৭ সালে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে উদ্যোগী হন তিনি। এরপর পুরুষদের পোশাকে টাই-কে সংযুক্ত করেন। তবে আসতে আসতে এই পর্যায়ে এসে তিনি ৭.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘পোলো’র মালিক। একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে রালফ লরেনের পথচলা শুরু হওয়ার পর থেকে শুধু সাফল্যই এসে যেন তার সঙ্গী হয়েছে। রালফকে বলা হয় ফ্যাশনের আরেক বিস্ময়। আমেরিকার বিশ্ববরেণ্য এ ডিজাইনার জন্ম নিয়েছেন ১৯৩৯ সালে।

স্টিফেন বিস্কিয়োটি: স্টিফেন বিস্কিয়োটিও বাল্য বয়সে হারান নিজের পরিবারকে। তবে বর্তমানে তিনি  ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) বাল্টিমোর র্যারভেন্স টিমের মালিক। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৪.৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগে, ১৯৬০ সালে পেনসিলভানিয়ায় একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন  স্টিফেন বিস্কিয়োটি। জন্মের ৮ বছর বয়সে পুরো পরিবারকে হারিয়ে ফেলেন তিনি। তখন থেকে সব ব্যয়ভার নিজেকে বহন করতে হয়েছে। 

তবে অনেক পরিশ্রমী ছিলেন স্টিফেন বিস্কিয়োটি। যার প্রমাণ, হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি উপার্জন শুরু করেন। ফুটবল খেলার প্রতি ছিল তার বিপুল আগ্রহ। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি নিজের দূরসম্পর্কের এক ভাইকে সঙ্গে নিয়ে অ্যারোস্পেস ও টেকনোলজি সেক্টরে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে একটি স্টাফিং ফার্ম দাঁড় করান। সেটিকে পরিণত করেন পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ প্রতিভাধর একটি ফার্মে হিসেবে। পরবর্তীতে সেটি অ্যালেগিস গ্রুপ হয় যা বর্তমান বিশ্বের বৃহৎ প্রাইভেট স্টাফিং ফার্ম। এভাবে বিলিয়নিয়ার হিসেবে নিজেকে দাঁড় করান স্টিফেন বিস্কিয়োটি।

শাহিদ খান: শাহিদ খান। এই বিলিয়নিয়ারের মোট সম্পদের পরিমাণ ৭ বিলিয়ন। অথচ একসময় জীবিকার খোঁজে রেস্তোরাঁয় থালা-বাসন মাজতেন তিনি। এতটাই অভাবে ছিলেন যে, তার শুরুর গল্পটা অনেকের চোখে পানি চলে আসবে। বিশেষ করে সাধারণদের চেয়ে অতি সাধারণ ছিলেন তিনি। আর্থিক দৈন্য থাকলেও পড়াশোনার প্রতি বেশ আগ্রহী ছিলেন শাহিদ। উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর আমেরিকায়, তাই মানুষ থেকে দার- দেনা করে। সেখানে গিয়ে পড়াশোনা চালাতে রেস্তোরাঁয় বাসন মাজতেন। এরপর একদিন একটি কোম্পানিতে চাকরি করার সুযোগ হয় তার। তার কিছুদিন পর নিজেই কিনে নেন সেটি। এখন তিনি আমেরিকার অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দানকারী গুরুত্বপূর্ণ একব্যক্তি। নাম লিখিয়েছেন বিলিয়নিয়ারদের তালিকায়। তিনি বিখ্যাত গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির কোম্পানি ফ্লেক্স-এন-গেটের মালিক। হাজারো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এই কোম্পানিটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শাহিদ খানের জন্ম ১৯৫০ সালের ১৮ জুলাই। পাকিস্তানের লাহোরে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। বাবা ছিলেন সাধারণ ব্যবসায়ী, আর মা গণিতের শিক্ষিকা।
 
অপরাহ উইনফ্রে: অপরাহ উইনফ্রে। ছোট বেলায় নিগ্রহের শিকার হন এই নারী। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারীর তালিকার শীর্ষে রয়েছেন অপরাহ। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ২.৯ বিলিয়ন ডলার। এদিকে, ১৯৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে এক দরিদ্র মায়ের কোলে জন্মগ্রহণ করেন অপরাহ। একে তো গায়ের রং কালো তার ওপর আবার অবিবাহিত মায়ের ঘরে তার জন্ম। সে কারণে মাত্র ৯ বছর বয়সে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে তাকে। আর সেইই চৌদ্দ বছর বয়সে জন্ম দেন একটি সন্তান। এত প্রতিবন্ধকতা থাকলেও হাইস্কুলে পড়ার সময় চাকরি পেয়ে যান একটি রেডিওতে। নিজের পারদর্শিতা প্রমাণের এই সুযোগ তিনি কাজে লাগান দারুণভাবে। যদিও নিজের পারিপার্শ্বিক অবস্থার জন্য কর্মক্ষেত্রে বারবার অপমানিত হতে হয়েছে। তবে সেখান থেকে দারুণভাবে শিখেছেন তিনি। ওইসময় নিজের ব্যক্তিত্ব ও দক্ষতা দিয়ে জয় করেছেন মানুষের মন। ‘দি অপরাহ উইনফ্রে শো’ দিয়ে হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেছেন বিলিয়নিয়ার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই