.ঢাকা, রোববার   ২১ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৭ ১৪২৬,   ১৫ শা'বান ১৪৪০

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ২৩:৫৯ ৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ০০:২৭ ১০ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার—স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তান কারাগারে ২৯০ দিন থাকার পর ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন।

বীর বাঙালি দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করেছিল। দেশ স্বাধীন হলেও যার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা, সেই অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে অন্তরীণ। ফলে স্বাধীনতা এলেও নেতার অনুপস্থিতিতে অপূর্ণতা থেকে গিয়েছিল বিজয়ের গৌরব উদযাপনে। 

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই তার এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে।

 

১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় পৌঁছানোর পর আনন্দে উদ্বেল লাখ লাখ মানুষ বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়। বিকেল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সেই থেকে দিনটি পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। 

দিবসটি পালনের জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, তার বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির  মধ্যে রয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন। পরে সকাল ৭টায় জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করা হবে।

এছাড়া বিকেল ৩টায় রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। সেই রাতেই অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর পরপরই ধানমন্ডির বাসা থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানি বাহিনী। পরবর্তীতে তাকে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নেয়া হয়।

বাঙালি যখন স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে, বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে অন্তরীণ। প্রহসনের বিচারে তাকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। কবর পর্যন্ত খোঁড়া হয় কারাগারের সেলের পাশে। বাঙালিদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার পর বিশ্ব নেতারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক চাপে শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

১৯৭২ সালের এদিন ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নয়াদিল্লি থেকে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে নামেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পাকিস্তান থেকে লন্ডন যান। তারপর দিল্লি হয়ে ঢাকায় ফেরেন।

ওই সময় বঙ্গবন্ধুর অপেক্ষায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে শাহবাগ পর্যন্ত সেদিন হাজারো মানুষ ভিড় করেন। বঙ্গবন্ধুর গাড়ি বহর বিমানবন্দর থেকে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পৌঁছতে প্রায় চারঘণ্টা সময় লেগে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআর/জেডআর