বগুড়ায় ভূমিদস্যুদের কাছে স্থানীয়রা অসহায়

ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩১ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৭ ১৪২৬,   ০৬ শা'বান ১৪৪১

Akash

বগুড়ায় ভূমিদস্যুদের কাছে স্থানীয়রা অসহায়

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:০৭ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১২:৫২ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ভূমিদস্যুদের কবলে অসহায় হয়ে পড়েছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ। এক খণ্ড জমি কেনার পর শত শত একর জমি গ্রাস করে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। এতে স্থানীয়দের ফসলি জমি এখন খানাখন্দে ভরে গেছে। কোনো কোনো জমিতে ২০ থেকে ২৫ ফুটের মতো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এ পরিস্থিতে প্রশাসনের কাছে জমিহারা অসহায় মানুষগুলো প্রায়ই ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। অসহায় এ মানুষগুলোর দাবি, শিগগিরই ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শাজাহানপুরের মাদলা, জালসুখা, শাহনগর ও খলিশাকান্দী গ্রাম থেকে ফসলি জমি থেকে দেদারছে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রথমে একখন্ড জমি থেকে সাত ফুট মাটি তোলার চুক্তি করা হয়। এরপর চুক্তি অমান্য করে ২০ থেকে ২৫ ফিট মাটি তুলতে থাকে ভূমিদস্যুরা। এর ফলে পার্শ্ববর্তী জমি ভেঙে গেলে পুনরায় ওই জমিরও মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করে চক্রটি। এভাবে শত শত একর ফসলি জমির মাটি তুলছে তারা। 

স্থানীয় জমির উদ্দিন নামে একজন জানান, ভূমিদস্যুরা চুক্তিভঙ্গ করে ফসলি জমি থেকে ইচ্ছে মতো মাটি তুলছে। তারা কোনো ধরনের বিধি-নিষেধ মানছে না। এভাবে শত শত ফসলি জমি নষ্ট করা হচ্ছে। 

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এভাবে মাটি কাটার ফলে কৃষিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আজাদ বলেন, এভাবে মাটি কাটার ফলে আমাদের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।  

এদিকে কৃষি জমি থেকে ব্যাপকভাবে মাটি কাটা প্রসঙ্গে বগুড়ার ডিসি মো. ফয়েজ আহমদ বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনই যথেষ্ট নয়, এলাকাবাসীকেও সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে জমির মালিকদের সচেতন হতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে টপ-সয়েল তোলার ব্যাপারটির সমাধান হবে না। এক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। 

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলার ১১০টি ইট ভাটা থেকে ব্যাপকভাবে মাটি তোলার কারণে শাজাহানপুর, কাহালু ও সারিয়াকান্দির ২৭০ হেক্টর জমির টপ-সয়েল নষ্ট হয়ে গেছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর