Alexa বক্সে লেখা ১ লিটার ওজনে ৬৫০ গ্রাম

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৩ ১৪২৬,   ১৯ সফর ১৪৪১

Akash

আইসক্রিমের ওজন বিভ্রান্তি

বক্সে লেখা ১ লিটার ওজনে ৬৫০ গ্রাম

আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সোহেল রাহমান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৭ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:৩৪ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আইসক্রিম পছন্দ করেন না এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। তবে পছন্দের এই আইসক্রিম ক্রয়ের পর কি কখনো ওজন করে দেখেছেন? বাজারে যেসব আইসক্রিম পাওয়া যায় সেগুলোর বক্সে লেখা ওজনের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। বেশিরভাগ আইসক্রিমের বক্সে লেখা ওজন থেকে প্রায় অর্ধেক পরিমাণই নেই।

এ বিষয়ে সরেজমিন রাজধানীর উত্তরা, খিলক্ষেত, মিরপুর, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, বাড্ডা, গুলশান, মহাখালীসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ইগলু, পোলার, কোয়ালিটিসহ প্রায় সব কোম্পানির আইসক্রিম বক্সের গায়ে ওজন ১ লিটার লেখা। সে হিসেবে প্রতিলিটারে ৯০০ গ্রামের সামান্য কম বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই ওজনের কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রায় সবগুলো কোম্পানির ১ লিটার পরিমাণ আইসক্রিম নিয়ে ওজন মাপার ডিজিটাল মিটারের দিয়ে দেখা যায় সেখানে ৬৫০ গ্রাম, কোনোটাতে ৬৪৫ গ্রাম লেখা উঠছে। আবার কোনোটাতে ৬৭৭ গ্রাম দেখা গেছে।

ক্রেতারা বলছেন, প্রকাশ্যে ডাকাতি করছে আইসক্রিম কোম্পানিগুলো। ওজনে এমন প্রত্যক্ষ প্রতারণা দেখে ভোক্তাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে খাদ্যটির গুণগতমান ঠিক নিয়েও। বিক্রেতারাও দূষছেন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে।

রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা রুবাইয়া ইসলাম তার আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক লিটারের ইগলু আইসক্রিম বক্স ক্রয় করেন। তিনি ওজন মাপার ডিজিটাল মিটারের ওপর আইসক্রিমের বক্সটি রেখে দেখেন, সেখানে ৬৪৫ গ্রাম লেখা উঠছে। পরে পোলার কোম্পানির এক লিটার আইসক্রিমের বক্স দিয়ে দেখেন সেটাতে অফারসহ ১ লিটার ২০০ এমএল বা ১ হাজার ৮০ গ্রাম থাকার কথা। সেখানে রয়েছে ৭০০ গ্রাম। সাধারণত এক লিটারের পণ্যে কেজির হিসাবে ৯০০ গ্রাম হওয়ার কথা এর সঙ্গে আরো ২০ শতাংশ ফ্রি যোগ হবে।

এদিকে পান্থপথ এলাকায় আনন্দ বাজার নামে একটি সুপার শপে গিয়ে এক লিটারের কোয়ালিটি কোম্পানির আইসক্রিম ডিজিটাল মিটারে ওজন দিয়ে দেখা যায় ৬৭৭ গ্রাম। ওই দোকানিও অবাক হন। তিনি বলেন, এভাবে কখনো চিন্তাই করিনি। এক লিটারে সাধারণত ৯০০ গ্রাম হওয়ার কথা বলেও জানান তিনি।

গুলশান এলাকার রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, কোয়ালিটি আইসক্রিমের এক লিটারের একটি বক্স নিয়েছি এখন দেখি গায়ে লেখা ওজনের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। এরা প্রকাশ্যে ডাকাতি করছে। ওজনে এমন প্রত্যক্ষ প্রতারণা দেখে ভয় হচ্ছে গুণগত মানের ক্ষেত্রে না জানি কি প্রতারণা করছে কোম্পানিগুলো।

এছাড়া পোলার আইসক্রিমের ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা যায়, আইসক্রিম প্রেমিদের প্রতিবাদের ঝড়। এতে দেখা যায় সবাই অভিযোগ করছে আইসক্রিম কোম্পানিগুলো ওজনে কম দিচ্ছে। পোলার যখনি কোনো অফার দিচ্ছে ভোক্তারা মন্তব্য করছে অফার পরে দিয়েন আমাদের প্রাপ্যটা আগে দিন।

এ বিষয়ে বিক্রেতারা বলেন, উৎপাদনকারী বা সরবরাহ কোম্পানি যা দিচ্ছে আমরা তাই বিক্রি করি। আমাদের করার কিছু নেই, কারণ এখানে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই যে কেউ এটা থেকে বের করে আলাদা বিক্রি করছে। সব দোকানিদের দাবি, এ বিষয়ে তাদের কোনো দোষ নেই। কোম্পানি মাল দিয়ে যায়। তারা বক্সের গায়ে কোম্পানি নির্ধারিত দামে তা বিক্রি করেন। মেয়াদোত্তীর্ণ হলে কোম্পানির সেলসম্যানরা আবার ফেরত নিয়ে যান। ক্রেতারা কখনো ওজন করে আইসক্রিম কেনেন না। কোম্পানি ওজনে কম না বেশি দিলো, তাও কখনো পরিমাপ করে দেখা হয় না।

এ বিষয়ে ইগলু আইসক্রিমের ব্র্যান্ড ম্যানেজার সুমিত চক্রবর্তী জানান, এক লিটার আইসক্রিমের এই ওজনটা বিশ্বমানের। বিএসটিআইয়ের নিয়মানুসারে এক লিটার আইসক্রিমের ওজন সাধারণত ৫৫০ গ্রাম, ৬১০ গ্রাম, ৬১৫ গ্রাম ও ৬২৫ গ্রাম হয়ে থাকে। এক লিটার আইসক্রিমের ওজন ৬৫০ গ্রামের বেশি মানতে নারাজ তিনি।

ইগলু আইসক্রিমের কচুক্ষেত-ক্যান্টনমেন্ট এরিয়ার ইনচার্জ মো. বাবুল ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, আপনারা যে অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনিয়ে আমাকে অনেকের কাছেই উত্তর দিতে হয়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। এটা আইসক্রিমের ওজনের ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড। এ বিষয়ে বিএসটিআই অবগত।  

তবে বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক (সিএম) মোহাম্মদ হানিফ বলেন, কেজির মাপ থেকে লিটারের মাপ সামান্য কম হয়। কিন্তু তাই বলে দেড়শ’ থেকে দুইশ’ গ্রামের বেশি কম হয় এটা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, কোনো কোম্পানির আইসক্রিমে যদি গায়ে লেখা ওজনের চেয়ে পরিমাণে কম থাকে তবে কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

কোয়লিটি আইসক্রিমের এজিএম আলী কবির জানান, আইসক্রিমের লিটার আর পানির লিটার এক হয় না। পানির এক লিটারে হয় ৯০০ গ্রাম আর আইসক্রিমের এক লিটারে হয় ৫৬০ গ্রাম।

বিষয়টি নিয়ে বিএসটিআইয়ের ডেপুটি ডাইরেক্টর রেজাউল হক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আন্তর্জাতিক মাপেই আইসক্রিমের অনুমোদন দেয়া হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের নিজস্ব কোনো মানদন্ড নেই। আমরা আন্তর্জাতিক মাপটিকেই ফলো করে অনুমোদন দিয়ে থাকি। সেই হিসাবে কোনো কোম্পানির ১ লিটার আইসক্রিমের ওজন যদি ৬৫০ গ্রাম এর কম হয়ে থাকে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি।
তিনি আরো বলেন, পানির ওজন আর আইসক্রিমের ওজন এক না। আইসক্রিমের ওজনটা ঘনত্ব হিসাবে ধরা হলেও বক্সে লেখার সময় মিলি মিটারেই সবাই লিখবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ আরএইচ/এমআরকে/এস