.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৭ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

বকশীগঞ্জে খাল পুনঃখনন দাবি

জামালপুর প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৬:১৫ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৬:১৫ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বকশীগঞ্জে কৃষকের ফসল রক্ষা ও জলাবদ্ধতা দূর করতে আড়াই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও এবং দুই কিলোমিটার খাল নতুন করে খননের দাবি জানিয়েছেন বকশীগঞ্জবাসী ও কয়েক হাজার কৃষক।

তারা খাল পুনঃখননের জন্য এমপি আবুল কালাম আজাদ এবং কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ও ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন এবং শ্রীবরদী উপজেলা সিংগাবরুনা ও কাকিলাকুড়ার কয়েকশ হেক্টর জমি এক সময় পানির নিচে থাকতো। ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত গারো পাহাড়ের পাহাড়ি ঢলের কারণে ওই চারটি ইউপির অধিকাংশ জমিতে রোপা আমন চাষাবাদের বাইরে ছিল। শুধুমাত্র বোরো চাষ ছাড়া ওই জমিগুলোতে কোন আবাদ হতো না।

বকশীগঞ্জ-শ্রীবরদী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের টিলাপাড়া গ্রাম ও পাশ্ববর্তী শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবরুনা ইউনিয়নের মুরগীচোরা গ্রামের মাঝ দিয়ে আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত একটি খাল খনন করা হয়।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) উদ্যোগে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ওই খালটি খনন করা হয়। খালটি খননের পর থেকে স্থানীয় দুই উপজেলার কৃষকরা সুবিধা পেতে শুরু করে। তারা ওই জমিগুলোতে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন করে যাচ্ছেন।

একই সঙ্গে ওই খাল থেকে প্রচুর মাছ পাচ্ছেন এলাকার মানুষ। দুই বছর পুরো সুযোগ-সুবিধা পেলেও এখন ফের অসুবিধায় পড়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা। তারা আগের মতো সুবিধা পেতে খালটি পুনঃখনন ও আরো অতিরিক্ত দুই কিলোমিটার পর্যন্ত খালটি সম্পসারণ করতে পারলে কৃষকরা আগের চেয়ে আরো বেশি সুবিধা ও ফসল উৎপাদন করতে পারবে।

বাট্টাজোড় ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক ও মৎস্যচাষী মুছা তারেক বলেন, খালটি মুরগীচোড়া গ্রাম থেকে শুরু হয়ে নুুহাই খালে গিয়ে শেষ হয়েছে। কিন্তু মুরগীচোড়া গ্রাম থেকে উত্তরে বাট্টাজোড় ইউনিয়নের কুড়ি বিল থেকে এক কিলোমিটার এবং দক্ষিণে নুহাই খাল থেকে এক কিলোমিটার তেনাচিরা খাল পর্যন্ত নতুন করে খাল খননের দাবি জানাচ্ছি।

কৃষক কাসু মিয়া বলেন,  এক সময় এ এলাকার জমি পানির নিচে পড়ে থাকত। সেখানে কোন আবাদ হতো না। খালটি খননের পর আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র মাসেও পানি চলে যায়। এতে করে আমরা রোপা আমন, আলুর চাষসহ সব ধরণের সবজি চাষ করতে পারছি। তিনি নতুন করেন খালটি সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।

বাট্টাজোড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হানিফ তালুকদার বলেন, গারো পাহাড়ের পাহাড়ি ঢলের কারণে ওই এলাকার কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারত না। খালটি খননের পর পানির নিচের জমিগুলো আবাদের আওতায় এসেছে।

এতে করে খাদ্যে যেমন আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছি তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হচ্ছে সাধারণ কৃষকরা।

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর আজাদ বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস