বইমেলায় চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীরের স্মৃতি 

ঢাকা, সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৩ ১৪২৬,   ১২ শা'বান ১৪৪১

Akash

বইমেলায় চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীরের স্মৃতি 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২২ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

সৈয়দ জাহাঙ্গীর। ছবি: সংগৃহীত

সৈয়দ জাহাঙ্গীর। ছবি: সংগৃহীত

খুব একটা চর্চা না হলেও সৈয়দ জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকরদের একজন। অমর একুশে বইমেলার ষোলতম দিনে স্মরণ করা হলো এই গুণী চিত্রশিল্পীকে।

বইমেলায় শনিবার বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হয় চিত্রশিল্পী ‘সৈয়দ জাহাঙ্গীর : শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শিরোনামে আলোচনা অনুষ্ঠান। সেখানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিল্প সমালোচক মইনুদ্দীন খালেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফরিদা জামান, নিসার হোসেন ও মলয় বালা। সভাপতিত্ব করেন শিল্পী হাশেম খান।  

অগ্রজ চিত্রকর প্রসঙ্গে মইনুদ্দীন খালেদ বলেন, শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর পঞ্চাশের দশকের নিরীক্ষানিষ্ঠ শিল্পীদের মধ্যে স্বাতন্ত্র্যের বৈশিষ্ট্যে সুচিহ্নিত। তার জীবন-পাঠ ও শিল্পকৃতির বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন সময়ের আরো আবর্তনে স্পষ্টতা পাবে। তার শিল্প নিয়ে আজো তেমন গবেষণা হয়নি। যদিও তিনি পঞ্চাশের প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক একক প্রদর্শনী করেছেন।

তিনি বলেন, সৈয়দ জাহাঙ্গীর শুধু শিল্পী নন, কর্মবীরও। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগে তিনি দীর্ঘদিন পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্ব পালনের সময়ই এ বিভাগ যেন শৈশব থেকে তারুণ্যে উন্নীত হয়েছে। চারুকলা বিভাগে দায়িত্বের সময়ে সৈয়দ জাহাঙ্গীর দেশের প্রধান শিল্পীদের একক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন। কর্মবীর এ মানুষটির একটি বড় অর্জন দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন। এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর ফলে এদেশের শিল্পী ও শিল্পানুরাগী দর্শক বিভিন্ন দেশের ছবি দেখার এক বিরল সুযোগ লাভ করেছেন। 

এ সময় নিজেদের আলোচনায় সৈয়দ জাহাঙ্গীরকে বাংলাদেশের পঞ্চাশ দশকের শিল্প সাহিত্য জগতের এক বিশ্বস্ত ভাষ্য বলে মত দেন ফরিদা জামান, নিসার হোসেন এবং মলয় বালা।

সভাপতির বক্তব্যে বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হাশেম খান বলেন, সৈয়দ জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের শিল্পকলা আন্দোলনে এক অবিস্মরণীয় নাম। শুধু চিত্রশিল্পে নয় এদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনেরও তিনি এক অগ্রণী জন। তার মানুষ ও মৃত্তিকালগ্ন শিল্পকাজ এবং অঙ্গীকার জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। 

শিল্পকলায় উল্লেখযোগ্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সৈয়দ জাহাঙ্গীরকে বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৫ একুশে পদকে ভূষিত করে। জাতীয় চিত্রশালা, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বেঙ্গল ফাউণ্ডেশন, বাংলাদেশ বিমান, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি স্থানে তার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএস/আরএইচ