বইমেলায় কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে স্মরণ 

ঢাকা, রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৫ ১৪২৬,   ০৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

বইমেলায় কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে স্মরণ 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৪ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

গেল বছরের ডিসেম্বর মাসের পঁচিশ তারিখে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে অনন্তের পথে যাত্রা করেছেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। এরপর থেকে বাংলা সাহিত্য জগতে তাকে নিয়ে চলছে শোক। বাংলা ভাষাভাষী সব জনপদেই মহান এই কবির স্মরণে আয়োজিত হচ্ছে স্মরণসভা আর সাহিত্যপাঠের আসর। এরই ধারাবাহিকতায় একুশে বইমেলায়ও বিশেষভাবে স্মরণ করা হলো ‘অমলকান্তি’ খ্যাত এই কবিকে।

শুক্রবার বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: শ্রদ্ধাঞ্জলি’ বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে কবিকে নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি মোহাম্মদ সাদিক ও সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন। 

বেগম আকতার কামাল বলেন, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাস্তব জগৎ শুধু প্রকৃতি নয়, মূলত মানুষকে ঘিরে; সময়ের মধ্যে হাঁটেন তিনি, মানুষময় ভাবনায় মগ্ন থাকতেন। নীরেন্দ্রনাথ সেই কবি যিনি সন্ধ্যায় প্রত্যেককে তার নিজস্ব নারীর কাছে ফিরে আসার অমোঘ সত্য উচ্চারণ করেন। জীবন আর কবিতার মাঝখানে তিনি কোনো ব্যবধান রাখেন না।

আকতার কামাল বলেন, তিনি ছন্দকে চাবুক করে তুলেছেন, অক্ষরবৃত্ত-মাত্রাবৃত্ত-স্বরবৃত্তের বাঁধনে নিজেকে বাঁধেননি। কেননা নীরেন্দ্রনাথ নিত্য খুঁজে গেছেন, ছেঁকে তুলেছেন সেই জীবনকে, সেই বাস্তবের মানুষ ও চারপাশকে যা ধারণ করে আছে নিহিত মানবিক সত্ত্বা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন। তিনি বলেন, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা বাংলা কবিতার ভুবনে এক বিশেষ মাত্রা-সংযোজক। অতি সাধারণ বিষয়কে তিনি প্রায় আটপৌরে ভঙ্গিতে যেভাবে কবিতায় তুলে এনেছেন তা সত্যি বিস্ময়কর। এছাড়া কবিতা নিয়ে তার গদ্যও পাঠকের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

প্রসঙ্গত, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কবি। ১৯২৪ সালে ফরিদপুরে জন্মানো এই কবি ১৯৩০ সালে চলে যান কলকাতায়। ‘উলঙ্গ রাজা’ তার অন্যতম বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থ লেখার জন্য তিনি ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতের সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএস/আরএইচ