ফের সরব মানবপাচার

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

ফের সরব মানবপাচার

কক্সবাজার প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৪:৫০ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৫:০৪ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারে বিভিন্ন সমুদ্রপথে আবার মানবপাচার শুরু করেছে একটি চক্র। এখন মূলত পাচার হচ্ছে রোহিঙ্গারা।

শীতকালে সাগর শান্ত থাকে। এই অবস্থাতে ছোট ছোট নৌকায় মানবপাচার সুবিধাজনক। টেকনাফ এলাকায় একেই বলা হয় ‘মানব পাচার মৌসুম’।

চিহ্নিত পাচারকারীদের আইনের আওতায় না আনায়, ফের সক্রিয় তারা। প্রশাসনের নমনীয়তায় স্থানীয় কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতারা তাদের  সহায়তা করেন। তাই এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট।

৩০ নভেম্বর সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে ছয় নারীসহ ১০ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। এ সময় দালাল আবদুর রহমানকে আটক করা হয়। সে টেকনাফের সাবরাং ইউপির শাহপরীর দ্বীপ মাঝার পাড়ার ফজরুল হকের ছেলে।

টেকনাফের সাবরাং ইউপির শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচর মাঝেরপাড়া থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

৬ নভেম্বর টেকনাফ উপকূলে মালয়েশিয়া পাচার চেষ্টাকালে ১৪ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বিজিবি সদস্যরা। উদ্ধার রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। এর মধ্যে পাচঁজন নারী রয়েছে। ৭ নভেম্বর বিকেলে মালয়েশিয়া মানবপাচারের চেষ্টাকালে ছয়জন দালাল ও রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৩৩ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। এদের মধ্যে ১০ জন নারী, ১৪ পুরুষ ও ৯ জন শিশু। এরা সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক।

টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর থেকে একটি ট্রলারসহ তাদের উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার রোহিঙ্গারা জানান, নিরাপদে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেয়ার প্রলোভনে ১০ হাজার টাকা ‘টোকেন মানি’ নিয়ে তাদের সেখানে নিয়ে আসা হয়। গভীর সাগরে একটি বড় ট্রলারে তাদের তুলে দেয়ার কথা ছিল। মালয়েশিয়া পৌঁছার পর আরো ২ লাখ টাকা করে দেয়ার চুক্তি হয় তাদের। এছাড়া রোহিঙ্গা নারীদের সেখানে বিয়ের ব্যবস্থার কথা হয় বলে দাবি করেন নারীরা।

সরকারের কড়া অবস্থান ও থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্তে গণকবর আবিষ্কারের কারণে বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে মানবপাচার প্রায় বন্ধ ছিল বছর তিনেক।

এরইমধ্যে বঙ্গোপসাগর দিয়ে মানব পাচার শুরুর প্রচেষ্টাকে অশনি সংকেত বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।

বেসরকারি সংগঠন ওয়ারবি ফাউন্ডেশনের প্রধান সৈয়দ সাইফুল হক জানান, ‘হঠাৎ করেই টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মানব পাচারের চেষ্টার খবর দেশের জন্য অশনি সংকেত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটু গাফিলতি দেখালেই তারা সক্রিয় হয়ে উঠবে।’

কক্সবাজার ডিসি কামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে মানব পাচার শূন্যের কোঠায় রয়েছে। মানব পাচারকারীদের ধরতে ও মানব পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় তৎপর রয়েছে। কোস্টগার্ড, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় টেকনাফের ৬৪জন পাচার ঘটনা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশিদের টার্গেট করতে পারে মর্মে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য ১৪ লাখের অধিক বাংলাদেশি নিবন্ধন করেছিলেন। সেখান থেকে মাত্র কয়েক হাজার মানুষ দেশটিতে যেতে পেরেছেন। বাকিরা সুযোগ পেলে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যেতে রাজি হবেন। দালালরা সেই সুযোগ নিতে চায়। সরকারের উচিত মানুষকে সচেতন করা ও বৈধ পথে অধিক হারে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করা।

কক্সবাজারে সর্বশেষ মানব পাচার আইনে প্রায় ৪০০ মামলা হয়েছে। কিন্তু মামলাগুলো সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি চিহ্নিত শীর্ষ পাচারকারীদের আসামি করতে পারেনি পুলিশ।

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী ও শিশুদের পাচার করা হচ্ছে। শিশুদের চেয়ে বেশি পাচার হচ্ছে নারীরা। দেশে মানব পাচারসংক্রান্ত কয়েক হাজার মামলা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মানব পাচার মামলায় আসামি গ্রেফতার বা দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে