ফের আলোচনায় ফখরুল-রিজভী দ্বন্দ্ব
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=187484 LIMIT 1

ঢাকা, সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ফের আলোচনায় ফখরুল-রিজভী দ্বন্দ্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৫ ১৩ জুন ২০২০   আপডেট: ২০:৫৭ ১৩ জুন ২০২০

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ফটো

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ফটো

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। তাদের মধ্যে একজন খালেদা অনুসারী, অপরজন তারেক অনুসারী হওয়ায় এই দ্বন্দ্বের শাখা-প্রশাখা ছড়িয়েছে বিএনপির তৃণমূল পর্যন্ত। 

এ বিষয়ে ফের আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে বিএনপিতে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, খালেদা অনুসারী এবং তারেক অনুসারীদের দ্বন্দ্বে আজ তারা জর্জরিত। এ দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভী দুজন দুই প্রান্তের মানুষ। ফখরুল ইসলাম নমনীয়, মডারেট ও সমঝোতা পন্থী রাজনীতিবিদ হিসেবে দলের মধ্যে পরিচিত। তিনি উগ্রবাদী নন এবং সমঝোতার রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে তিনি দলকে পরিচালিত করতে চান।

অপরদিকে রুহুল কবির রিজভী আক্রমণাত্মক এবং তিনি সরকারের বিরুদ্ধে আপসহীন ও অনমনীয় অবস্থা গ্রহণ করতে চান। সমঝোতা না করে যে কোনো বিষয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে চান। আর এই বাস্তবতায় দুজনের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আর এ কারণেই দলের অনেক নেতাই মনে করেন চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয় হলো মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিয়ন্ত্রণে আর দলের নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় হল সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নিয়ন্ত্রণে। যার ফলে কোনরকম সমন্বয় ছাড়াই একই ইস্যুতে দুইজন ভিন্ন কথা বলেন।

সূত্রটি আরো জানায়, দীর্ঘদিন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার কারণে খালেদা পন্থী ফখরুল ইসলামের প্রতি দলের একটি অংশের নেতাদের আস্থা কমে গেছে।

আর রিজভী পন্থীরা ভাবেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোনো ভূমিকায় পালন করতে পারেননি। তিনি এসময় বড় ধরনের কোনো আন্দোলন করতে সক্ষম হননি। বরং ধীরে ধীরে এবং ধাপে ধাপে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে রাজপথ থেকে সরে আসার রাস্তা তৈরি করেছেন।

এ সময়ে তারেক পন্থী রুহুল কবির রিজভীর চিন্তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখনই রাস্তায় নেমে কারাবরণ করা এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত টানা কর্মসূচির পক্ষে ছিলেন তিনি। কিন্তু নানা বাস্তবতায় মির্জা ফখরুলের তত্ত্বই জয়ী হয়।

অপরদিকে ফখরুলের অনুসারীরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের নামে রুহুল কবির রিজভী যে ঝটিকা কর্মসূচি গ্রহণ করতেন, সেজন্য সব জায়গায় সিনিয়র নেতাদের বিব্রত হতে হয়েছে।

তারা ভাবেন, বিএনপি তো কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। তাহলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ১০-১২ জন কর্মী নিয়ে কেন এত বড় একটা দলের কর্মসূচি পালন করতে হবে। এসব কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে বিএনপিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। বোঝানো হয়েছে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দেউলিয়া।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, খালেদা অনুসারী এবং তারেক অনুসারীদের দ্বন্দ্বে আজ আমরা জর্জরিত। এ দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। দলে নেই কোন সিনিয়রিটি বা জুনিয়রিটি।

তিনি আরো বলেন, দুই অনুসারীদের ঠেলাঠেলিতে আজ আমরা সাংগঠনিকভাবে দেউলিয়া। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ভরাডুবির পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের মধ্যে খলনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। অপরদিকে কোন সমন্বয় ছাড়াই দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে সেখান থেকে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য নানারকম তথাকথিত চেষ্টা করতে থাকেন রিজভী। মাঝেমধ্যে তিনি ঝটিকা মিছিল বের করতেন ১০-১২ জন কর্মী নিয়ে। যা বিএনপিকে রাজনীতি শূন্য করার একটা ষড়যন্ত্র বলে মনে করি।

তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্বের অবসান কবে শেষ হবে সেটা আমি জানি না। তবে তা বোঝা যাবে, যদি আগামী কাউন্সিলে বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এসএএম/এস