Alexa ফেনী-৩ আসনে দুই জোটেই অস্থিরতা

ঢাকা, সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৮ ১৪২৬,   ২৩ মুহররম ১৪৪১

Akash

ফেনী-৩ আসনে দুই জোটেই অস্থিরতা

ফেনী প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ০৬:৩২ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ০৯:৫৩ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী লে. জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সহজে মেনে নিতে পারছে না আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

এরইমধ্যে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু শেষ মুহুর্তে মনোনয়নপত্র জমা না দেয়ায় এগিয়ে এসেছেন ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক জেএসডির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। এতে দুই জোটেই অস্থিরতা বিরাজ করছে।

ফেনী-৩ আসনে স্বাধীনতা পরবর্তী ১০টি নির্বাচনের দুটিতে আওয়ামী লীগ, দুটিতে জাতীয় পার্টি, এরপর টানা ৫টিতে বিএনপি ও ২০১৪ সালে বিএনপি বিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। বর্তমান এমপি হাজী রহিম উল্যাহ বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন।

ওই নির্বাচনে আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির রিন্টু আনোয়ারকে ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়ান নৌকার প্রার্থী যুবলীগ নেতা আবুল বাশার। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা লাঙলের প্রার্থীকে প্রত্যাখান করে একজোটে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা হাজী রহিম উল্যাহর পক্ষ নেন। এতে অনেকটা ফাঁকা মাঠে গোল করেন হাজী রহিম।

এবারো নৌকার মনোনয়ন চেয়ে অন্তত দেড় ডজন নেতা আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত কাউকেই প্রার্থী দেয়া হয়নি। জাতীয় পার্টিতে সদ্য যোগ দেয়া লে. জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীই নিশ্চিতভাবে এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী।

মনোনয়ন বঞ্চিত গত দুইবারের নৌকার প্রার্থী আবুল বাশার ও সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্যাহ স্বতন্ত্র হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। একইসঙ্গে আবুল বাশারের ছেলে ব্যবসায়ী ইসতিয়াক আহমেদ সৈকতকেও প্রার্থী করা হয়। দলীয় পদ রক্ষায় হাইকমান্ডের নির্দেশে যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশারকে শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়াতে হলেও সৈকতকে নিয়েই তার সমর্থকরা মাঠে থাকবেন।

অন্যদিকে মাসুদ চৌধুরীকে জাপার টিকিট দেয়ায় ক্ষুদ্ধ জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন গতবারের মহাজোট প্রার্থী রিন্টু আনোয়ার। তিনি পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ছাড়াও জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ছিলেন। প্রথম পর্যায়ে তাকেই এ আসনে দলের প্রার্থী করা হয়েছিল বলে প্রচার রয়েছে।

এদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে নিয়ে মাঠে রয়েছেন লে. জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

যুবলীগ নেতা আবুল বাশার বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগনের অনুরোধেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন। দীর্ঘদিন কাজ করায় তাদের সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ভোটাররা কোন মৌসুমী পাখিকে গ্রহণ করবে না।

একই কথা বললেন রিন্টু আনোয়ার। তার মতে, দলকে সংগঠিত করতে দীর্ঘদিন তিনি এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করেছেন। হঠাৎ কেউ রাতারাতি নেতা হয়ে জনগণের মন জয় করতে পারবেন না।

লে. জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই তিনি কাজ করছেন। মান-অভিমান ভুলে নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে।

অপরদিকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ঘিরে দুই উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হলেও শেষ মুহুর্তে সে আশার গুড়ে বালি। তিনি মনোনয়নপত্র জমা না দেয়ায় এখানে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। মিন্টুর ছোট ভাই দাগনভূঞা উপজেলা সভাপতি আকবর হোসেন ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও নেতাকর্মীদের মাঝে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

হেভিওয়েট মাসুদ চৌধুরীর মোকাবেলায় মিন্টুর বিকল্প দেখছেনা স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে একধরনের ক্ষোভও রয়েছে। মিন্টুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।

তবে এখানে বিএনপির বিপুল ভোট ব্যাংক নিয়ে আশাবাদী আবদুল লতিফ জনি ও আকবর হোসেন। নির্বাচনী মাঠে নতুন হলেও জনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। অন্যদিকে আকবর হোসেন দাগনভূঞা পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত মেয়র। তাছাড়া তিনি ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।

আবদুল লতিফ জনি বলেন, চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলে বিএনপির ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে আমি দৃঢ় আশাবাদী। এ দুটি উপজেলা একদিকে যেমন সন্ত্রাস কবলিত অন্যদিকে উন্নয়ন বঞ্চিত। দীর্ঘ এক দশক ধরে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে এখানকার জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। অনুকূল পরিবেশ পেলে ব্যালটের মাধ্যমে উপযুক্ত জবাব দেবে।

অন্যদিকে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু সরে যাওয়ায় এ আসনটি পেতে তৎপর ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডির যুগ্ম-সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। ফেনী-৩ এর পাশাপাশি তিনি ঢাকা-১৮ আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, জেএসডির পক্ষ থেকে এর আগে এ আসনটি দাবি করা হয়েছে। আমি ঐক্যফ্রন্টকে আসনটি উপহার দিতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর