Alexa ফুটবলার বোল্টের যাত্রা হলো শুরু

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

ফুটবলার বোল্টের যাত্রা হলো শুরু

 প্রকাশিত: ২২:৩৮ ৩১ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ২২:৩৮ ৩১ আগস্ট ২০১৮

ফুটবলে বোল্টের যাত্রা শুরু

ফুটবলে বোল্টের যাত্রা শুরু

ফুটবলে পেশাদার হিসেবে বোল্টের যাত্রা শুরু হলো শুরু।

শুক্রবার অভিষেক হলো ফুটবলার উসাইন বোল্টের পেশাদার ক্যারিয়ারের। আজ থেকে স্প্রিন্টার বোল্টের নামের সঙ্গে পাকাপাকি ভাবেই জুড়ে গেল ‘ফুটবলার বোল্ট’খেতাব।

লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের মতো জ্যামাইকান এই বজ্রবিদ্যুৎও এখন একজন পাক্কা পেশাদার ফুটবলার হয়ে গেলেন।

আগেই জানানো হয়েছিল শুক্রবার সেন্ট্রাল কোস্ট মেরিনার্সের হয়ে প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচটাতে খেলবেন বোল্ট। মেরিনার্সের কোচ মাইক মালভে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, শুক্রবার সেন্ট্রাল কোস্টের নির্বাচিত একাদশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়েই পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হতে যাচ্ছে বোল্টের। ৩২ বছর বয়সী বোল্ট নিজেও দিয়েছিলেন অভিষেকের ইঙ্গিত। হলোও সেটাই।

কোচ মাইক মালভের ইঙ্গিত মতোই আজ শুক্রবার ম্যাচের ৭২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন বোল্ট। সঙ্গে সঙ্গেই তার নামটি উঠে যায় পেশাদার ফুটবলারের খাতায়। ৭২ মিনিটে নেমে ম্যাচের বাকি সময়টুকু খেলেছেন বোল্ট। মানে অভিষেক তিনি মাঠে কাটিয়েছেন ১৮ মিনিট।

অভিষেক ম্যাচে বোল্ট খেললেন উইঙ্গার হিসেবে। না, নতুন ক্যারিয়ারের যাত্রায় বোল্ট গোল পাননি। তবে প্রথম পদক্ষেপেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, ফুটবলার হিসেবে নাম কামানোর জন্য প্রস্তুত তিনি! গতি আর শারীরিক উচ্চতা দিয়ে বেশ কয়েকবারই প্রতিপক্ষ রক্ষণকে কাঁপিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বেশ কয়েকবারই বল নিয়ে ঢুকে পড়েছেন প্রতিপক্ষের বিপদ সীমানায়। তিন তিন বার পরীক্ষা নিয়েছেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকেরও। দুবার হেড করে। একবার জোরালো শটে।

ভাগ্য আর একটু ভালো হলে অভিষেকে গোলও পেতে পারতেন। ম্যাচের শেষ দিকে দূরূহ কোণ থেকে তার জোরালো শটটি ঝাপিয়ে পড়ে রুখে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। মানে অভিষেকেই তাকে পুরতে হয়েছে ‘মিস রোমাঞ্চের’ আগুনে। নিজে গোল না পেলেও অভিষেকেই জয়ের সুবাস গায়ে মেখেছেন বোল্ট। তার দল মেরিনার্স ম্যাচটা দিয়েছে ৬-১ গোলে।

অবশ্য মেরিনার্স ৬টি গোলই দিয়েছিল বোল্ট মাঠে নামার আগে। তিনি নামার পরই মেরিনার্স একমাত্র গোলটি হজম করেছে। তাতে অবশ্য বোল্টের দায় নেই। তিনি বরং নিজের কাজটা ঠিকঠাকভাবেই করেছেন। ডেব্যুট্যান্ট বোল্টের পারফরম্যান্সে খুশি মেরিনার্সের কোচ মাইক মালভে। খুশি দর্শকও। তবে কোচ-দশর্কদের চেয়েও বেশি খুশি বোল্ট নিজে।

অভিষেকেই এই ১৮ মিনিটেই বোল্ট বুঝে গেছেন, তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ভবিষ্যত উজ্জ্বল! বিশ্ব মাতাতে হলে প্রয়োজন শুধু নিজের খেলাটায় আর একটু উন্নতি করা। বর্তমানে যে ঘাটতিটা আছে, আগামী দুই মাসের মধ্যেই তা কেটে যাবে বলে আশাবাদী বোল্ট।

ম্যাচ শেষে ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৮টি অলিম্পিক সোনা জয়ী বোল্ট স্পষ্ট করেই বলেছেন, মাঠে নামার সময়টায় আমি কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। তবে মাঠে দ্রুতই তা কেটে যায়। শেষ দিকে আমি বেশ স্বস্তি বোধ করেছি।

উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকিয়ে বলেছেন, আমি মনে করি, আমি খুব ভালো করব। সম্ভবত পেশাদার ফুটবলের কঠিন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে মানিয়ে নিতে দুটি মাস লাগবে। দুই মাস পর আমি পুরো ফিট হয়ে যাব। আর ৪ মাস পর আমি হব দলের অন্যতম অপরিহার্য সদস্য।

সর্বকালের সেরা স্প্রিন্টার নিজে যদি নিজের সম্পর্কে এমন ঘোষণা দেন, তা সত্যিই বি্শ্বের অন্য ফুটবলারদের জন্যে এটা আতঙ্কের বিষয় বৈকি! মেসি-রোনালদোদের জন্য ভয়ের কারণ থাকছে আরও একটি। অভিষেক দেখেই ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই হয়তো বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ফরোয়ার্ড বনে যেতে যাচ্ছেন বোল্ট! গতি-দানব মাঠে গতির ঝড় তুলবেন, এটা তো জানাই।

পেশাদার ফুটবলার বোল্টের অভিষেক হয়ে গেল বটে। তবে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টের বিশ্ব রেকর্ডধারী বোল্টের পেশাদার ফুটবলের সত্যিকার অভিষেকটা হবে আগামী ৬ অক্টোবর। কারণ সেদিনই প্রথম বারের মতো লিগ ম্যাচ খেলতে নামবেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি