ফিরে দেখা: নাজিম হিকমত

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ফিরে দেখা: নাজিম হিকমত

ইমরান রহমান

 প্রকাশিত: ১৯:৫৯ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২০:১৩ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বিখ্যাত তুর্কী কবি নাজিম হিকমত ১৯০২ সালের ১৫ জানুয়ারি উসমানীয় সাম্রাজ্যের স্যালোনিকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, চলচ্চিত্রকার ও জীবনীকার।

ছন্দময় বর্ণনার জন্য খ্যাত ছিলেন তিনি। রোমান্টিক বিপ্লবী ও রোমান্টিক কমিউনিস্ট হিসেবে পরিচিত এই কবিকে জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কাটাতে হয় জেলে। ৫০টির অধিক ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত হয়।

নাজিম হিকমত পৈতৃক সূত্রে তুর্কী হলেও মায়ের দিক থেকে ছিলেন জার্মান। অটোমান জেনারেল হাসান এনভার পাশা ছিলেন তাঁর মাতামহ।

ইস্তাম্বুলের গজটেপ জেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাজিমের পড়াশোনার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু।

১৯১৮ সালে তিনি হেবিলিয়েদার অটোমান নেভাল স্কুল থেকে  স্নাতক সম্পন্ন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয় সরকারের সম্পৃক্ততা ও তার স্কুলজীবন ছিল সমসাময়িক। অল্প কিছুদিনের জন্য নাজিম অটোমান নৌবাহিনীতে নৌ কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে অসুস্থতার জন্য অব্যাহতি পান। ১৯২১ সালে তুর্কীর স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন।

স্ত্রী ভেরা টুলায়কুভা ছিলেন বয়সে নাজিমের প্রায় ৩০ বছরের ছোট। তার ওপর সুদীর্ঘ জেল জীবনের কারণে স্ত্রীকে সময় দিতে পারেননি। তবুও ভেরা কবিকে যেটুকু পেয়েছেন তার সেবায় নিজেকে উজাড় করে দিতে কার্পণ্য করেননি। নাজিমের মৃত্যুর সময় ভেরার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩১। স্ত্রীকে সময় দিতে না পারার দুঃখ তাঁকে তাড়া করে ফিরত।

সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব পরবর্তী সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বচক্ষে দেখার জন্য তিনি জর্জিয়া গেছেন। সেখান থেকে গেছেন মস্কো। মস্কোয় পড়াশোনর সময় পরিচিত হন মার্ক্স, লেনিনম তথা সর্বাহারা যত মতবাদের সঙ্গে।

১৯২৪ সালে তুরস্ক স্বাধীন হবার পর দেশে ফিরে আসেন শোষণমুক্ত একটি সমাজ দেখার স্বপ্ন নিয়ে। ১৯৬৩ সালের ৩ জুন এই কবি মস্কোয় মৃত্যুবরণ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ