ফিরে দেখা: রাজা রামমোহন রায় 

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

ফিরে দেখা: রাজা রামমোহন রায় 

আরিফুল ইসলাম আরিফ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৪ ২২ মে ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

হিন্দুধর্মের সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২ সালের আজকের এই দিনে (২২ মে) পশ্চিম বাংলার রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 

তিনি আঠারো শতকের ভারতের গতানুগতিক সনাতনী শিক্ষা লাভ করেন। বাল্যকালে ও প্রথম যৌবনে তিনি হিন্দি ও তাঁর মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রাচ্যভাষা, যেমন সংস্কৃত, আরবি ও ফারসিতে উল্লেখযোগ্য ব্যুৎপত্তি লাভ করেন এবং হিন্দু ধর্মগ্রন্থসমূহ ভালভাবে আয়ত্ত করেন।

রামমোহনের প্রথম দিকের রচনাসমূহ ছিল আরবি ও ফারসি ভাষায়। মনযারাতুল্ আদিয়ান শীর্ষক তাঁর প্রথম গবেষণামূলক গ্রন্থটি বিভিন্ন ধর্মের আলোচনায় নিবেদিত। এটি কখনো ছাপা হয়নি ও পরে হারিয়ে যায়।

অল্প বয়সে রামমোহন তাঁর নিজস্ব স্বাধীন সম্পত্তির মালিক হন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জড়িয়ে পড়েন। রামমোহন ঐ সময়কার কলকাতা ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ও সদর দীউয়ানি আদালতের সঙ্গে যুক্ত নেতৃস্থানীয় ভারতীয় পন্ডিতদের সঙ্গে পরিচিত হন।

১৮১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি কলকাতায় বসতি স্থাপন করেন এবং তাঁর জীবনের নতুন এক পর্ব শুরু হয়। সিদ্ধান্ত নেন যে, জীবনকে সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কারের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন। কলকাতা পৌঁছার এক বছরের মধ্যেই সমমনা ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি আত্মীয় সভা (বন্ধুদের সমিতি) নামে একটি একান্ত সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ ভারতীয় বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর ও প্রসন্নকুমার ঠাকুর।

রামমোহন হিন্দু সংস্কারের এক মহান যুগের সূত্রপাত করেন। তিনি সতীদাহের মতো কুপ্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে সক্ষম হন, যা ১৮২৯ সালে বিশেষ আইনের মাধ্যমে এ প্রথা বন্ধ করতে সরকারকে প্রভাবিত করে। রামমোহন প্রতিমা পূজাকেও দৃঢ়ভাবে বর্জন করেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন যে, হিন্দুধর্ম এক সর্বজনীন ঈশ্বরের পূজা করতে নির্দেশ দেয়।

১৮২৮ সালে রামমোহন ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বস্তুত হিন্দুধর্মের নতুন একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তাঁর সংস্কারমূলক ও উদারবাদী ধারণাসমূহের প্রচারের জন্য ১৮২১ সালে রামমোহন সম্বাদ কৌমুদী নামে বাংলা সংবাদপত্র ও ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন।

১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান। ইংল্যান্ডে ব্রিটিশ সমাজের নেতৃবৃন্দ কর্তৃক তিনি বিপুলভাবে সংবর্ধিত হন। ১৮৩২ সালে ফ্রান্স সফর করেন রামমোহন। 

১৮৩৩ সালে ব্রিস্টল ভ্রমণকালে তিনি রোগাক্রান্ত হন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর মারা যান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ