ফিরে দেখা: চার্লস ডিকেন্স

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

ফিরে দেখা: চার্লস ডিকেন্স

আরিফুল ইসলাম আরিফ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩৩ ৯ জুন ২০১৯   আপডেট: ২৩:০১ ৯ জুন ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ঊনবিংশ শতকের অন্যতম ইংরেজ ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, সম্পাদক, সচিত্র প্রতিবেদক এবং সমালোচক চার্লস ডিকেন্স ১৮৭০ সালের আজকের এই দিনে (৯ জুন) মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ৫৮ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম চার্লস জন হাফ্যাম ডিকেন্স। 

চার্লস ডিকেন্সের জন্ম ১৮১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথ শহরে। তার বাবা জন ডিকেন্স এবং মা এলিজাবেথ বারো এর আট সন্তানের সংসারে চার্লস দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন। মায়ের কাছেই পড়ালেখার প্রথম হাতেখড়ি। পরে চাথামের উইলিয়াম গিলস স্কুলে ভর্তি হন। একপর্যায় তাঁদের সংসারে অভাব-অনটন দেখা দিলে ঋণের দায়ে তাঁর বাবা ও মাকে ১৮২৪ সালে জেলে যেতে হয়। সংসারের হাল ধরতে ডিকেন্স পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে যোগ দেন কাজে। মা-বাবা বিহীন চার্লস জীবিকার তাগিদে চাকরি খুঁজতে থাকেন। শেষপর্যন্ত টেমস নদীর ধারে এক জুতার কালির কারখানায় কাজ জুটে যায়। সপ্তাহে ছয় শিলিং করে পেতেন তিনি। এই অর্থ দিয়ে কোনোমতে দু’বেলা খেয়ে দিন গুজরান করতে থাকেন তিনি। চার্লস ডিকেন্স প্রতি সপ্তাহে একবার কারাগারে মা-বাবাকে দেখতে যেতেন।

১৮৩২ সালে চার্লস ডিকেন্স পিয়নের কাজ ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করা শুরু করেন। লন্ডনের বিভিন্ন পত্রিকায় ছবি স্কেচ করা শুরু করেন তিনি। ১৮৩৩ সালে তাঁর প্রথম গল্প অ্যা ডিনার অ্যাট পপলার ওয়াক ছাপা হয়। দ্য পিকউইক পেপারস উপন্যাস লিখে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। হয়ে ওঠেন ভিক্টোরীয় যুগের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক। ১৮৩৬ সালে চার্লস ডিকেন্স তার স্কেচগুলো একত্র করে বই আকারে প্রকাশ করেন ‘দ্য স্কেচেস বাই বোজ‘ নামে। 

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ডেভিড কপারফিল্ড, গ্রেট এক্সপেক্টটেশনস, অ্যা টেল অব টু সিটিজ, অ্যা ক্রিসমাস ক্যারল, অলিভার টুইস্ট।

১৮৬৫ সালে এক রেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন চার্লস ডিকেন্স। সেবার একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই দুর্ঘটনার পর আর কখনো সুস্থ হতে পারেননি ডিকেন্স। অসুস্থতার দরুন লেখালেখি বন্ধ হয়ে যায়। ১৮৭০ সালের ৯ জুন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে ৫৮ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন লেখক চার্লস ডিকেন্স।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ