Exim Bank
ঢাকা, সোমবার ১৮ জুন, ২০১৮
Advertisement

ফিনল্যান্ড মসজিদ এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব, বিএনপি সভাপতি গ্রেপ্তার

 এমরান খান, হেলসিংকি থেকে: ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৪, ৭ অক্টোবর ২০১৭

৩৮২৮ বার পঠিত

কামরুল হাসান জনি। ছবি: সংগৃহীত

কামরুল হাসান জনি। ছবি: সংগৃহীত

 

ফিনল্যান্ডে গতকাল শুক্রবার (৬ই জানুয়ারি) নারী নির্যাতনের একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জের ধরে মসজিদ প্রাঙ্গণে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে মামলার প্রধান আসামি কামরুল হাসান জনি ও তার অনুসারীরা। তিনি ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি।

এ ঘটনায় জনিসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পাওয়া ফিনল্যান্ড বিএনপির এক নেতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তার মাথায় ১০টি সেলাই লেগেছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার দুপুরে হেলসিংকির কনতুলায় বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণের এ ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন ফিনল্যান্ডের প্রায় প্রতিটি জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন ফলাও করে প্রচার করে।

পুলিশ বলছে, অন্তত ৬০ জন ওই হামলায় অংশ নেয়, যাকে ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা হিসেবে দেখছেন তারা।

জনি ছাড়া গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- ফিনল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আশরাফ সাগর, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা আবদুর রশিদ ও জাকির হোসেন। অবশ্য একটি সূত্র জানিয়েছে এ ঘটনায় জনির ভাগ্নে ‘লিউ’ নামের আরও একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

নারী নির্যাতন ছাড়াও বেশ কয়েকটি মামলায় এর আগেও বিভিন্ন সময় ফিনল্যান্ডে গ্রেপ্তার হয়েছেন কামরুল হাসান জনি। তার বিরুদ্ধে একটি মামলার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরে জুম্মার নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে জনির বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বছর ধরে চলে আসা নারী নির্যাতনের ওই মামলায় সাক্ষ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে জনি ও তার অনুসারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাদের হাতে চাপাতি, গলফ স্টিক, হকি স্টিক ছাড়াও লাঠিসোটা দেখা যায়।

হামলার সময় জনির সঙ্গে ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও দেখা গেছে।

হেলসিংকি পুলিশের সুপারিনটেন্ডেন্ট ইয়োরমা মাক্কোনেন জানান, বেলা ২টার দিতে তারা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছেন তখন সেখানে অন্তত ৬০ জনকে অংশ পেয়েছেন। যদিও সবাই ওই সংঘর্ষে অংশ নেননি বলে তার ভাষ্য।

পুলিশ তালা ভেঙ্গে মসজিদ সংলগ্ন বিএনপি অফিসে প্রবেশ কর এবং ডগ স্কোয়াডের সাহায্যে গলফ স্টিকসহ আবদুর রশিদকে পায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মরিচ যুক্ত কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

মসজিদ প্রাঙ্গণে মারামারির কথা পুলিশ নিশ্চিত করলেও তা মসজিদের ভেতরেও হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তা মাক্কোনেন।

“আমরা ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা ছাড়াও তাদের কাছ থেকে গলফ স্টিক, লাঠিসোটা জব্ধ করেছি। আমরা শুনেছি অন্তর্কোন্দলের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।”

মাক্কোনেন জানান, অভিযান শেষে বিকাল ৬টার দিকে তারা ওই এলাকা শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
পুলিশের প্রধান বিচারক পাসি হ্যুরোলাইনেন ঘটনার ব্যাপকতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, সংঘর্ষের সময় তারা ‘পিপার স্পে’ ব্যবহার করে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছেন।

সন্ধ্যার পরও কনতুলার ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পাশাপাশি সেখানে সবধরনের যানবাহন পার্কিংয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

সর্বাধিক পঠিত