Alexa ফিঞ্চের সেঞ্চুরিতে পুড়লো শ্রীলংকা

ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

ফিঞ্চের সেঞ্চুরিতে পুড়লো শ্রীলংকা

রুশাদ রাসেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:৩৩ ১৬ জুন ২০১৯   আপডেট: ০৩:৩৮ ১৬ জুন ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অ্যারন ফিঞ্চ নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতেই পারেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচসহ শেষ ৯টি ওয়ানডের সবগুলোতেই হেরেছেন টসে। বিশ্বকাপের ৫ ম্যাচের সবকটিতে টসে হেরেছেন ফিঞ্চ। কিন্তু এর ভেতর কেবল একটি ম্যাচেই তারা পরাজয় বরণ করেছেন এবং চারটিতেই পেয়েছেন জয়। এবারের উপলক্ষটা যেন একটু বেশিই স্পেশাল ফিঞ্চের জন্য। কেননা, বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত অধিনায়ক হিসেবে সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছেন এই ডান হাতি ব্যাটসম্যান। তার উড়ন্ত সূচনার পাশাপাশি বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়েই কপাল পুড়ে লংকানদের।

টস ভাগ্যে হেরে ঘাসযুক্ত উইকেটে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পায় অস্ট্রেলিয়া। বরাবরের মত এবারো টসে হেরে আগে বোলিং নেয়ার কথা জানান ফিঞ্চ। যদিও অজিদের ব্যাটিংটা একদমই মন্দ হয়নি শেষ ১০ ওভার ছাড়া। প্রথমে তো ওয়ার্নার এবং ফিঞ্চ এমনভাবে ব্যাটিং করছিল যেন মনে হচ্ছিল ব্যাটিং উইকেটেই খেলা হচ্ছে। সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিচ সেদিকেই রূপ নেয়। আর অজিরাও এক সময় ৩৫০ এর বেশি রান করার চিন্তা করতে থাকে।

আগের চারটি ম্যাচের মত এই ম্যাচেও শুরু থেকে সাবধানী ডেভিড ওয়ার্নার। প্রথম সাত ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দলীয় রান যখন ৩৩ তার ভেতর ফিঞ্চেরই রান ২৫ এবং খেলেছেন ২১টি বল। অন্যদিকে, ওয়ার্নারের সংগ্রহ ২১ বল থেকে ৮ রান। পিচের সঙ্গে নিজের সহজাত খেলাটাকে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছিল ওয়ার্নারের। কিন্তু স্রোতের বিপরীতে লংকান পেস বোলারদের শাসন করেছেন ফিঞ্চ।

প্রথম দশ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে ৫৩ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। এমন উড়ন্ত সূচনার পর ধীরে ধীরে বড় সংগ্রহে আগাতে থাকে তারা। কোনভাবেই যখন এই জুটিতে ভাঙন ধরানো যাচ্ছিল না তখন অধিনায়ক করুনারত্নে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন পার্টটাইম বোলার ধনঞ্জয় ডি সিলভাকে। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য পান এই ডান হাতি অফ স্পিনার। দলের ৮০ রানের মাথায় ওয়ার্নারকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। ৪৮ বল থেকে মাত্র ২৫ রান করতে পারেন এদিন ওয়ার্নার। ফিঞ্চ তখন ৪৯ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে। পরের ওভারেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ফিঞ্চ। ৫৩ বল থেকে ৫০ রান পূরণ করেন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে খাজাও পিচের সঙ্গে তেমন মানিয়ে নিতে পারছিল না। তিনিও ২০ বলে ১০ রান করে ডি সিলভার বলে আউট হন। ২৩ ওভারে ১০০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এরপরেই মূলত ঘুরে দাঁড়ায় অজিরা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে স্টিভেন স্মিথকে নিয়ে ফিঞ্চ গড়েন ১৭৩ রানের অসাধারণ এক জুটি। সেঞ্চুরিটাও করেন তিনি সেই রকম স্টাইলে। ম্যাচের ৩৩তম ওভারে সিরিবর্ধনেকে ছক্কা হাঁকিয়ে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন ফিঞ্চ। বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় অজি অধিনায়ক হলেন ফিঞ্চ।

সেঞ্চুরি করে যেন আরো বিধ্বংসী এই ডান হাতি ব্যাটসম্যান। ৯৭ বলে ১০০ রান করার পর পরবর্তী ৫০ রান করতে খরচ করেন মাত্র ৩৫ বল। ১৫৩ রানের ঝলমলে ইনিংসটি শেষ হয় ইসরু উদানার স্লোয়ার ডেলিভারিতে। বলটিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কভারে করুনারত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ফিঞ্চ। যাবার আগে এবারে বিশ্বকাপে যুগ্নভাবে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটি খেলে যান  তিনি।

এছাড়া গড়েছেন একটি অমূল্য রেকর্ডও। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিক এখন ফিঞ্চ। ভেঙেছেন রিকি পন্টিংয়ের করা ১৪০* রানের ইনিংসটিকে। নিজের ১৪তম সেঞ্চুরির দিনে একটা মজার রেকর্ডকেও সঙ্গী করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে দুবারই ১৫৩ রানে আউট হয়েছেন ফিঞ্চ। যা তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। লংকান ব্যাটসম্যান দিলশান সর্বোচ্চ ১৬০ রান করে দুবার আউট হয়েছেন যা তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। এছাড়া ক্রিস গেইল ১৫২, গম্ভীর ১৫০ রানে দুবার করে আউট হয়েছেন।

৪৩তম ওভারে ফিঞ্চ যখন দলকে ২৭৩ রানে রেখে আউট হলেন তখন কিছুটা সমস্যায় পড়ে অজিরা। কিন্তু মুশকিল আসানের মত এদিন হাজির হন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ৪৫তম ওভারে নুয়ান প্রদীপের এক ওভারে ৪টি চার ও একটি ছক্কায় একাই নেন ২২ রান। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে যান ভালো একটি অবস্থানে। ২৫ বলে ৪৬ রানের ছোট্ট এই ইনিংসটির জন্যেই অস্ট্রেলিয়া পায় ৩৩৪ রানের বড় সংগ্রহ। বিশ্বকাপে এত রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই কখনো। শ্রীলংকাও তাই পারেনি এই রান তাড়া করে জিততে। ২৫ বল বাকি থাকতেই তারা ২৪৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার ৮৭ রানের জয়ে বল হাতে এই ম্যাচেও ৪ উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক।  

সেঞ্চুরি করে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হওয়া ফিঞ্চ পুরস্কার নিতে এসে বলেন, বলের উপর আমার নিয়ন্ত্রণ দেখে নিজেরই ভালো লাগছে। ড্রাইভ করার ক্ষেত্রে এমন নিয়ন্ত্রণ রাখাটাই ব্যাটিংয়ের মূল মন্ত্র। এটা ভালো একটি উইকেট ছিল। আমি প্রথম বল থেকেই বলের নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। আমরা ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলাম কিন্তু কিছু জুটি আমাদেরকে ভালো সংগ্রহ গড়ার প্রেরণা যুগিয়েছে। স্মিথ খুব ভালো গ্যাপ খুঁজতে পারে এবং সিঙ্গেল নিতে পারে। সে যখন ২৫ রান নিয়ে ব্যাট করছে তখন আমি মনে করছিলাম সে ৫ রান নিয়ে ব্যাট করছে এতটাই দ্রুত সে সিঙ্গেল নিয়ে খেলেছে। অসাধারণ দক্ষতা এটা একজন ব্যাটসম্যানের জন্য। ম্যাক্সওয়েলের ছোট্ট ইনিংসটি উপভোগ্য ছিল। তবে শ্রীলংকাকেও সাধুবাদ জানাতে হয় তারা আমাদেরকে ৩৫০ এর নিচে থামিয়ে ফেলেছে। আমার কাছে প্রথমে মনে হয়েছে কিছুটা শর্টে আমরা বলকে খেলছি। আমরা যখন ব্যাট করছিলাম তখন কিছুটা পরিবর্তন দেখতে পাই পিচে যে কারণে মাঝপথে আমরা পরিকল্পনা পালটে ফেলি। আমরা কিছুটা স্লো হয়ে খেলতে থাকি এবং মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলি। ম্যাক্সওয়েলের ভালো বোলিং করতে দেখাটা দলের জন্য দরকারি। এখানের বাউন্ডারি বেশ বড়। ভাগ্যপ্রসূত তাকে আমরা শেষ দশ ওভার পেয়েছিলাম। টনটনের বাউন্ডারি ছিল বেশ ছোট এবং তাকে আমরা পাইনি শেষের দিকে। আমরা প্রত্যেক ম্যাচেই উন্নতি করছি। তারা আমাদের মাঝের ওভারগুলতে প্রায় আটকে ফেলেছিল। প্রশংসনীয় ছিল ব্যাপারটা। স্টার্ক প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সে বিশ্বসেরা একজন বোলার। সে আবারো আইসিসির টুর্নামেন্টে প্রমাণ করলো এটা। আমরা পরবর্তী ম্যাচে কন্ডিশন দেখেই চিন্তা করবো কী রকম একাদশ খেলাবো। আমরা বেশ ভালো ক্রিকেট খেলছি কয়েক ম্যাচ ধরে। তবুও কিছু জায়গা রয়েছে উন্নতির সেগুলোও আশা করছি ঠিক হয়ে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ