Alexa ফাইনালে মাঠ সামলাবেন যারা

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

ফাইনালে মাঠ সামলাবেন যারা

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৫ ১২ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের এবারের আসরে দুই সেমিফাইনাল শেষে এখন বাকি মাত্র ফাইনাল। আর তার জন্য ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে মঞ্চ, অপেক্ষা শুধু মাঠের লড়াই।

১৪ জুলাই ঐতিহাসিক লর্ডসে ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এর আগে দুই দলই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেললেও শিরোপার ছোঁয়া পায়নি কেউ। 

তাই ২৩ বছর পর নতুন এক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব।

মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের জন্য ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে আইসিসি। সেদিন ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে যাদের কাঁধে, সেই আম্পায়ারদেরও নির্বাচিত করে ফেলেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড ম্যাচে মাঠে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন শ্রীলংকার কুমার ধর্মসেনা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মারাইস এরাসমাস। 

থার্ড আম্পায়ার হিসেবে থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার রড টাকার এবং রিজার্ভ আম্পায়ার থাকবেন পাকিস্তানের আলিম দার। আর এই লড়াইয়ে ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থাকবেন শ্রীলংকার রঞ্জন মাদুগালে।

এক নজরে আম্পায়াররা

মারাইস ইরাসমাস
১৯৬৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেয়া মারাইস ইরাসমাস আইসিসির এলিট আম্পায়ার প্যানেলের অন্যতম সদস্য। বর্তমানে তিন ফরম্যাটেই ক্রিকেট ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। 

বোলান্ড ক্রিকেট দলের হয়ে প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট খেলেছেন ১৯৮৮-৯৭ সাল পর্যন্ত। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ছিলেন ফাস্ট মিডিয়াম বোলার এবং লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান। ১০৩ ছিল তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

ইরাসমাস ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে চলে আসেন আম্পায়ারিংয়ে। ২০০২/০৩ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসেবে পদচারণা শুরু হয় ইরাসমাসের। ওয়ানডেতে তার অভিষেক হয় ২০০৭ সালের কেনিয়া বনাম কানাডার মধ্যকার ম্যাচে। ২০০৮ সালে তিনি নিয়োগ পান আইসিসির এলিট আম্পায়ার প্যানেলে। 

আইসিসির কোন টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মত দায়িত্ব পালন করেন ২০০৯ সালে  বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাছাই পর্বে কানাডা বনাম আয়ারল্যন্ডের মধ্যকার ম্যাচে। টেস্ট ম্যাচে তার অভিষেক হয় ভারত বনাম বাংলাদেশের মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে ২০১০ সালে। এরপরেই তাকে পদোন্নতি দেয়া হয় এলিট প্যানেলে রোদি কোয়েরটজেনের অবসরের পর। 

২০১১ সালের বিশ্বকাপে তিনি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন কয়েকটা ম্যাচে। এর ভেতর ছিল কেনিয়া বনাম নিউজিল্যান্ড এবং কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ২০ সদস্যের এলিট প্যানেলেও ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ড বনাম শ্রীলংকার মধ্যকার ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন ইরাসমাস। এছাড়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তানের ম্যাচেও তিনি অন ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে ছিলেন। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে টিভি আম্পায়ারের ভূমিকায় ছিলেন তিনি। 
২০১৬ ও ২০১৭ সালে ইরাসমাস জেতেন আইসিসির বর্ষসেরা আম্পায়ারের পুরস্কার। 

রড টাকার
অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেয়া রড টাকার বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় একজন আম্পায়ার। শুরুতে তিনি ছিলেন ক্রিকেটার, ১৯৬৪ সালে তাসমানিয়ায় জন্ম নেন তিনি। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত খেলে গেছেন তিনি। ২০০০ সালে তিনি ক্রিকেটকে বিদায় জানান।

ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে চলে আসেন আম্পায়ারিংয়ে। ২০০৮ সালে আইসিসির আন্তর্জাতিক আম্পায়ার প্যানেলের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এর দু বছর পরেই আইসিসির আম্পায়ারদের এলিট প্যানেলে যোগ দেন রড টাকার। 

এখন পর্যন্ত ৯ বছরে ৬৭টি টেস্টে, ১১ বছরে ৭৯টি ওয়ানডে ম্যাচে  এবং ৩৫টি টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় তাকে। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপেও তাকে ১৫ সদস্যের আম্পায়ার প্যানেলে রেখেছে আইসিসি। 

আলিম দার 
ক্রিকেট বিশ্বের আম্পায়ারদের ভেতর আলিম দার হচ্ছেন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। পাকিস্তানের পাঞ্জাবে জন্ম নেয়া এই আম্পায়ারের রয়েছে ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক অনেক কীর্তি।  আইসিসির আম্পায়ারদের এলিট প্যানেলের সদস্য আলিম দার। আম্পায়ারিংয়ে আসার আগে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটও খেলেছিলেন আলিম দার। ডান হাতি ব্যাটসম্যান ও লেগ ব্রেক বোলিংও করতেন তিনি পাকিস্তানের লাহোর ও পাকিস্তান রেলওয়ের হয়ে খেলার সময়। 

২০০০ সালে পাকিস্তান বনাম শ্রীলংকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসেবে হাতে খড়ি হয় তার। গুজরানওয়ালাতে হওয়া সেই ম্যাচের পর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে আইসিসি ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপে প্রথমবারের মত আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার ঢাকায় হওয়া টেস্ট ম্যাচের মধ্য দিয়ে টেস্টেও যাত্রা শুরু করেন আলিম দার। 

২০০৪ সালের এপ্রিলে এক অনন্য কীর্তি গড়েন আলিম দার। প্রথম পাকিস্তানি আম্পায়ার হিসেবে আইসিসির এলিট আম্পায়ার প্যানেলের সদস্য নির্বাচিত হন। এর পাশাপাশি ২০০৫ ও ২০০৬ সালের আইসিসির আম্পায়ার অফ দ্য ইয়ারের জন্য মনোনিতও হয়েছিলেন। যদিও দুইবারই তিন হারেন সায়মন টাফেলের কাছে। ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে শততম ওয়ানডেতে দায়িত্ব পালন করেন পাকিস্তানি এই আম্পায়ার।

২০১১ বিশ্বকাপের সকল আম্পায়ারদের থেকে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ২০ আম্পায়ারের ভেতর তিনিও ছিলেন একজন। 

২০০৯-২০১১ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর আইসিসির সেরা আম্পায়ার হয়েছিল আলিম দার। এছাড়া পাকিস্তানের সরকার কর্তৃক প্রেসিডেন্ট এওয়ার্ডও পেয়েছেন তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি