ফাঁকা এই গ্রাম, নেই কোন বসতি!

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

ফাঁকা এই গ্রাম, নেই কোন বসতি!

আয়েশা পারভীন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৮:৪৯ ২৬ এপ্রিল ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ছোট্ট একটি গ্রাম। যেখানে গড়ে উঠেছে ছয়টি পাথরের বাড়ি। তবে অবাক করার মত হলেও সত্যি যে, তার একটি বাড়িতেও নেই কোন মানুষ। দেয়ালে রঙচটা। হয়ত দীর্ঘ দিনের অব্যবহারে এমন হাল হয়েছে বাড়িগুলোর। 

আরো আশ্চর্য হবেন এই শুনে যে, এই গোটা গ্রাম খালি পড়ে আছে আড়াই যুগ ধরে। অর্থাৎ প্রায় ত্রিশ বছর ধরে এতে কেউ বসবাস করেন না। পুরোপুরি ফাঁকাই পড়ে আছে গ্রামটি। তবে পাশের গ্রামের লোকজনদের মুখে আবার ভূতরে কাহিনী। তারা নাকি শুনেছে অনেক অঘটনই ঘটতো এই গ্রামে। তাই মানুষজন অন্য জায়গায় বসতি গড়ে তুলেছে।

স্থানীয়দের মুখে আরো শোনা যায়, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রামে নেমে আসে অশরীরী ভূত-প্রেতরা! আশ পাশে তাদের কান্নার শব্দ, কখনো দোলনার শব্দ আবার কখনো খেলার শব্দও নাকি শুনা যায়। পরিত্যক্ত বাড়ির চতুর্দিকে তাই পরিবেশও যেন পুরোপুরি থমথমে। এমনই থমথমে অনেকেই দিনের বেলাও যেতে ভয় পায় সেখানে। 

তবে এবার গ্রামটিকে বিক্রির জন্য একটি অনলাইন সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর জন্য পুরো গ্রামটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৬ হাজার মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি)।

মূলত যে গ্রামটির গল্প পড়ছেন সেটি অবস্থিত স্পেনের উত্তরে গ্যালিসিয়ায়। ‘আকোরাদা’ নামের একটি জায়গা রয়েছে, সেখানে ছোট্ট এই গ্রামটি গড়ে উঠেছে। তবে কথিত আছে আজ থেকে ৩০ বছর আগে এই গ্রামে মানুষ বসবাস করতেন। ইগলেসিয়াস পরিবারের সদস্যরাই সেখানে থাকতেন। কিন্তু বিগত ৩০ বছর ধরে একেবারে ফাঁকা পড়ে আছে গ্রামটি।

তবে আরো আশ্চর্যান্বিত হবেন এই জেনে যে, ইগলেসিয়াস পরিবারের এক সদস্য যার বয়স ৫৭ বছরের বেশী তিনি তাদের পৈতৃক ভিটেমাটির দেখভাল করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। তিনি ছাড়া অন্য কাউকে এই গ্রামে থাকতে দেয় না ভূত’রা। কথিত আছে সে ব্যক্তি ছাড়া বাকি কেউ সেখানে অবস্থান নিতে গেলে তাদের উপর ভর করে এই অলক্ষ্মীরা। তবে সেটি শুধু শুনা কথা। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন, যে গ্রামে একসময় বসতি ছিল, সেখানে এখন বসতি নেই কেন? কী এমন ঘটেছে যে তারা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হলেন?

এই ঘটনার কারণ খুঁজতে গিয়ে আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যম জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে বিশ্বজুড়ে আর্থিক সংকটে উপার্জন হারিয়ে বেকায়দায় পড়েন লক্ষ লক্ষ মানুষ। এই সময় বেঁচে থাকার তাগিদে তারা উপার্জনের চেষ্টায় গ্রাম ছেড়ে শহরে যাত্রা শুরু করেন। আর্থিক সংকটের পাশাপাশি গ্রামে অনুন্নত যোগাযোগ আর চিকিৎসা ব্যবস্থার তেমন সুবিধা ছিল না বিধায় তারা ওই সময় গ্রাম ছেড়ে শহরে উঠেন। আধুনিক জীবনযাপনের তেমন সুযোগও ছিল না এখানে। তাই একে একে ‘আকোরাদা’র বেশির ভাগ 

শুধু স্পেন নয়, ‘আকোরাদা’র মতো আরো হাজারো গ্রাম ওইসময় জনশূন্য হয়ে পড়ে। তখন ইউরোপের অনেক গ্রাম পুরাপুরি খালি হয়ে যায়। স্পেনের গ্রামোন্নয়ন দফতরের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে বসবাস করবেন। গ্রাম ছেড়ে শহরে বসবাসের এই সংখ্যাটা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। 

একই সঙ্গে গ্রাম এলাকার বসতি ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তবে গ্রামে বসতি কমে যাচ্ছে ঠিকই তবে ‘আকোরাদা’র মত কোন গ্রামে হচ্ছে না। এই গ্রামকে ঘিরে যে সব ভৌতিক গল্প বা জনশ্রুতি রয়েছে, সে বিষয়ে কী ঘটেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে এস্টেট এজেন্সি এক্সপার্ট জানিয়েছে, আসলে বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকার ফলে গ্রামের চেহারাই বদলে গেছে। আর লোকজনের বসবাস না থাকায় চতুর্দিকের পরিবেশও স্বাভাবিক ভাবেই থমথমে। 

তবে আবানদোনাদাস জানান, ইউরোপের এমন অন্তত ৪০টি পরিত্যক্ত গ্রাম বিদেশিরা কিনে নিয়েছেন। তারা সেখানে বসবাস শুরু করার পর তেমন কোন ঘটনার কথা শুনা যায়নি। তবে মালিকানা বদলের পর সেখানের পরিবেশও বদলে গেছে। গ্রামগুলিতে ফিরে এসেছে প্রাণের স্পন্দন! ‘আকোরাদা’র ক্ষেত্রেও এমনটাই আশা আবানদোনাদাসের। তার মতে ভৌতিক সব ঘটনাই বোয়া। বরং বসতি হলে এই গ্রামটিও অনেক সুন্দর আকার ধারণ করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics