ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৯ ১৪২৫,   ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০

ফসলের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

ভোলা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:৪৫ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ভোলায় লালমোহনে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী মহল। ফলে ঝুঁকির মধ্যে আছে বেড়িবাঁধের আশেপাশে আশ্রয় নেয়া কয়ক শতাধিক ভূমিহীন পরিবার। 

ভোলার লালমোহনে উপজেলার ফাতেমাবাদ এলাকার বেতুয়া স্লুইজ গেইট এলাকায় বেড়িবাঁধের ও ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়। দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধের পাশে ভেকু ব্যবহার করে মাটি কেটে ট্রাক্টর এবং ট্রলিতে করে রওনক ঝিকঝাক ব্রিকস, চরফ্যাশনের বেতুয়া ব্রিকস, জনতা ব্রিকস, ফ্যাশন ব্রিকস এর ইট ভাটাগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি বাড়ছে বেড়িবাঁধের পাশে আশ্রয় নেয়া হাজারো পরিবারে মাঝে। মাটি কেটে নেয়ায় প্রতিনিয়ত দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে। 

নাম না প্রকাশ শর্তে এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম মিয়ার ইটভাটা করার পর থেকেই একের পর এক অত্যাচারে স্বীকার হচ্ছি। তিনি ইটভাটা করার পরে এমনভাবে মাটি কাটছে ফলে পুকুরে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। পুকুরে পার থেকে শুরু করে বাড়ি ঘরে এখন ফাটল ধরেছে। যেকোন সময় বাড়ি ঘর ভেঙে পড়তে পারে। এখানকার প্রতিটি পরিবার যেন মৃত্যু আতংক নিয়ে বসবাস করছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে এলাকা ছাড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলারা এখন পানির অভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছেনা। 

স্থানীয় আব্দুল কফুর বলেন, নদী ভাঙা হাজারো পরিবার এখানে এক টুকরো জমি নিয়ে ২৫-৩০ বছর ধরে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে। কিন্তু এখন ইট ভাটায় মাটি কেটে নেয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন ধুলাবালুর মধ্যে বসবাস করছে। শুধু তাই নয় মাটি কাটায় পাশের শত শত বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। সরকার নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্লক দিচ্ছে। এখন ইট ভাটার জন্য মাটি কেটে নিয়ে গিয়ে সেই জায়গাগুলো ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। মনে হচ্ছে খাল কেটে কুমিড় আনছে। তাই আমরা মটি কাটা বন্ধের জন্য স্থানীয় এমপি নুরনবী চৌধুরী শাওন এর সুদৃষ্টি কামনা করছি। 

স্থানীয় লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, মাটি কাটার ফলে বেড়িবাঁধের কোন ক্ষতি হচ্ছে না। পরিত্যাক্ত বেড়িবাঁধের  মাটি কাটা হচ্ছে। আর কিছু জমি হচ্ছে মালিকানা তাদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে জমির মাটি কিনে নেয়া হচ্ছে। আর যারা মাটি কাটছে তারা পার্শ্ববর্তী বেতুয়া ব্রিকস, জনতা ব্রিকস, ফ্যাশন ব্রিকস এসে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে তাদের সাথে বসছি। অচিরেই তারা মাটি কাটা বন্ধ করবে বলে জানায়। এতে রাস্তার কিছু ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান। 

ডিসি মো. মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী ইট তৈরির জন্য কৃষি জমি কিংবা টিলা থেকে মাটি কাটা নিষেধ। যদি কেউ এই আইন অমান্য করে মাটি কাটে আইন অমান্যকারীদের দুই বছর সাজা এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান আছে। আমরা অচিরেই এর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম