Alexa ফসলের চিকিৎসায় ক্লিনিক

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

Akash

ফসলের চিকিৎসায় ক্লিনিক

 প্রকাশিত: ১৯:৪৬ ২৯ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ২০:২৯ ২৯ আগস্ট ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু আবিষ্কার করেছিলেন, ‘উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে।’ স্বভাবতই রোগ-বালাইও আছে। আছে চিকিৎসক, গবেষকও। কিন্তু এতদিন উদ্ভিদের জন্য কোনো হাসপাতালের কথা শোনা যায়নি।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় কৃষকের সহযোগিতার জন্য এমনই এক ডিজিটাল ফসলের ক্লিনিক যাত্রা শুরু করেছে।

ধুনট উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে এ ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। এখানে সরকারি কর্মদিবসগুলোতে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদগণ কৃষকের ফসলের চিকিৎসা দেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুস ছোবহান বলেন, ফসলের রোগ-বালাই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে সময়ের সঙ্গে নতুন নতুন রোগের আক্রমন কৃষককে বিপাকে ফেলে। যার সমাধান কৃষক খুঁজে পান না। দোকান থেকে কীটনাশক ক্রয় করে অজ্ঞতার কারনে কৃষক সঠিক পরিমাপে ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগ-বালাই থেকে ফসলকে মুক্ত করা যায় না। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম নাগরিক সেবায় ফসলের ক্লিনিকের উদ্ভাবন করেন। তার উদ্যোগে ধুনট উপজেলায় এলাকা ভেদে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ ডিজিটাল ফসলের ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দিনব্যাপী ক্লিনিক গুলোতে কৃষকের ক্ষেতে আক্রান্ত ফসলের চিকিৎসা ও চাষাবাদে নানা পরামর্শ প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক গুলোতে কৃষকের অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে স্থায়ী ভাবে ফসলের ক্লিনিক প্রয়োজন। এজন্য নিজ উদ্যোগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডিজিটাল ফসল ক্লিনিক স্থাপন করেছেন। যেখানে সরকারি কর্মদিবসগুলোতে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিনামূল্যে ফসলের চিকিৎসা দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার ডিজিটাল ফসলের ক্লিনিক থেকে লিচু গাছের চিকিৎসা নিয়েছেন পারধুনট গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, গ্রামে একটি লিচু বাগান রয়েছে। গাছের পাতা গুলোতে এক ধরনের পরিবর্তন দেখতে পাই। গাছের একটি ডাল নিয়ে এসেছিলাম ফসলের ক্লিনিকে। ক্লিনিক থেকে মাকড়ে আক্রান্ত লিচু গাছের জন্য ঔষধ ব্যবহারের ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন।

ধুনট পৌর এলাকার চরপাড়া গ্রামের কৃষক আকিমুদ্দিন ২৫ শতক জমিতে শষা চাষ করেছেন। শষার পাতায় বিচ্ছিন্ন ভাবে হলুদ রং ধারন করে গাছ মারা যায়। সমস্যা নিয়ে আসেন কীটনাশক দোকানে। সেখান থেকে জানতে পারেন ফসলের ক্লিনিক সম্পর্কে। এরপর তিনি ক্লিনিক থেকে ফসলের চিকিৎসা নিয়েছেন। এ বিষয়ে কৃষক আকিমুদ্দিন বলেন, ক্লিনিক থেকে জানিয়েছে আমার শষা গাছে মোজাইক ভাইরাস আক্রমন করেছে। সে হিসেবে ঔষধের নাম এবং ব্যবহার বিধি লিখে দিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডিজিটাল ফসলের ক্লিনিকে ফসলের নানা রোগ বালাইয়ের চিকিৎসাপত্র দেওয়া হয়। এছাড়া কৃষককে চাষের ধরন ও জমির পরিমাণ অনুযায়ী সার ব্যবহার এবং ফসল উৎপাদনে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। ডিজিটাল ফসল ক্লিনিকের নির্ধারিত মোবাইল নাম্বার রয়েছে। যার মাধ্যমে কৃষক মোবাইল ফোনে ফসলের সমস্যা বলে প্রয়োজনীয় করণীয় জেনে নিতে পারবেন। এছাড়া মাঠে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেও পরামর্শ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর